জীবন বাজি রেখে লড়েছি, আর জিতেছি – সোহাইলা আবদুলালি

গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলাম আমি, আজ থেকে তিন বছর আগে, আমার যখন সতেরো বছর বয়েস ছিল। আমার নাম আর ছবি মানুষী নামে একটি পত্রিকার নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯৮৩ সালে।

আমি বড় হয়েছি বম্বে-তে, আর আমি এখন পড়াশোনা করছি ইউএসএ-তে। আমি একটা থিসিস লিখছি ধর্ষণের ওপর, সপ্তাহদুয়েক আগে রিসার্চের কাজে এখানে এসেছি। তিন বছর আগের সেই দিন থেকেই ধর্ষণ সম্পর্কে, যারা ধর্ষণ করে তাদের সম্পর্কে, আর যারা ধর্ষিত হয়, তাদের সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণার সাথে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত। যে কলঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় একজন ধর্ষিতাকে, আমি তা-ও জানি খুব ভালোভাবে। সময়সুযোগ মত তারা এটা বুঝিয়ে দিতে কসুর করে না, যে এই “সতীত্ব” হারানোর কলঙ্ক মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকার থেকে মরে যাওয়া অনেক শ্রেয়। আমি এটা বুঝতে অস্বীকার করেছি। আমার জীবন আমার কাছে অনেক বেশি দামী।

আমি বুঝতে পারি, অনেক মহিলা এই কলঙ্কের ভয়ে চুপ করে থাকেন, কাউকে বলতে পারেন না, কিন্তু মনের মধ্যে অসম্ভব কষ্টদায়ক একটা ক্ষত তাঁরা পুষে রাখেন নীরব হয়ে থেকে। পুরুষেরা দোষ দেয় ধর্ষিতাকে, বিভিন্ন অজুহাতে, এবং আশ্চর্যজনকভাবে, মহিলারাও দোষ দেন, সেই ধর্ষিতাকেই, হয় তো মনের ভেতর গেঁথে যাওয়া পুরুষতান্ত্রিক, পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধই তাঁদের দোষারোপে উদ্বুদ্ধ করে, যার ফলে নিপীড়িতা মেয়েটি আরও ভয়ংকর এক অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়, ধীরে ধীরে।

ঘটনাটা ঘটেছিল এক জুলাইয়ের সন্ধ্যেবেলায়। সেই বছরেই মহিলাদের সংগঠন ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের পরিমার্জনের জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। আমি ছিলাম  আমার বন্ধু রাশিদের সঙ্গে। আমরা হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, চেম্বুরে আমার বাড়ির থেকে আধ মাইল দুরত্বে একটা পাহাড়ের নিচে আমরা বসে ছিলাম। চারজন লোক আমাদের আক্রমণ করে। তাদের হাতে ছিল কাস্তে। তারা প্রচণ্ড মারে আমাদের, বাধ্য করে পাহাড়ের ওপরে যেতে, সেখানে আমাদের দু ঘণ্টা মত আটকে রাখে। শারীরিক আর মানসিকভাবে আমরা তখন বিধ্বস্ত, আর, সন্ধ্যের অন্ধকার যখন ঘনিয়ে এল, আমাদের দুজনকে আলাদা করে সরিয়ে নেওয়া হল, আর আমার চীৎকার আর্তনাদের মধ্যে তারা আমাকে ধর্ষণ করল, রাশিদকে হস্টেজ রেখে। একজন প্রতিবাদ করলেই অন্যজনের জীবনহানির আশংকা ছিল। ফলে আমাদের প্রতিবাদ করার উপায়টুকুও ছিল না।

তারা ঠিক করতে পারছিল না আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে, নাকি মেরে ফেলবে। আমাদের পক্ষে তখন যা যা করা সম্ভব ছিল, সব রকমভাবে চেষ্টা করছিলাম, শুধু বেঁচে থাকার জন্য। আমার তখন একটাই লক্ষ্য ছিল, বেঁচে থাকা, বেঁচে যাওয়া, সবকিছু ছেড়ে। আমি প্রথমে লড়াই করেছিলাম, তারপরে তাদের গালাগাল দিয়েছিলাম। আমার রাগ আর চীৎকারে কিছুই লাভ হল না, নিরুপায় আমি তাই প্রলাপ বকতে থাকলাম ভালোবাসা আর মনুষ্যত্বের বিষয়ে, বলতে থাকলাম যে আমি একজন মানুষ, আর তারাও তো মানুষ। … কথাগুলো মনে হয় তাদের মনে কিছুটা কাজ করল, অন্তত যারা তখনও পর্যন্ত আমাকে ধর্ষণ করছিল না। আমি একজনকে বললাম, যদি তারা কথা দেয় আমাকে আর রাশিদকে প্রাণে মারবে না, আমি ফিরে আসব, এখানেই, শুধু তার সাথে দেখা করার জন্য, কাল বিকেলেই। কীভাবে এই কথাগুলো আমি উচ্চারণ করতে পেরেছিলাম, আমি এখন কল্পনাও করতে পারি না, কিন্তু সেই মুহূর্তে দুটো প্রাণ নির্ভর করে ছিল এই কথাগুলোর ওপর। সত্যি সত্যিই যদি আমাকে পরের দিন আবার ফিরে আসতে হত, তা হলে আমাকে হাতে নিয়ে আসতে হত খুব, খুব ধারালো কোনও অস্ত্র, স্রেফ নিশ্চিত করার জন্য যে তারা আর কোনওদিনও, কাউকে ধর্ষণ করতে পারবে না।

অত্যাচার চলেছিল, মনে হয় যেন কত বছর ধরে (আমার ধারণা আমাকে বোধ হয় পর পর ১০বার ধর্ষণ করা হয়েছিল, আমার ঠিক মনে নেই, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি চেতনা হারিয়ে ফেলেছিলাম প্রচণ্ড যন্ত্রণায়), অবশেষে আমাদের যেতে দেওয়া হয়, সঙ্গে, আমি নীতিবোধহীন একটি বেশ্যা, কারণ আমি সন্ধ্যেবেলা একলা একটি ছেলের সঙ্গে বেরিয়েছি, এই মর্মে একটি লম্বা লেকচার। সম্ভবত এটাই তাদের রাগের কারণ হয়েছিল, সম্পূর্ণ ধর্ষণপ্রক্রিয়াটা তারা চালিয়েছিল, আমাকে সহবৎ শিক্ষা দিয়ে আমার কোনও উপকার করবার উদ্দেশ্যে। উন্মত্তের মত তারা নিজেদের যুক্তির সারবত্তা প্রমাণ করে চলেছিল আমার ওপর।

তারা আমাদের পাহাড়ের নিচে নামিয়ে নিয়ে এল, আমরা একে অপরকে আঁকড়ে ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে লাগলাম। তারা হাতে খোলা কাস্তে নিয়ে কিছুক্ষণ আমাদের অনুসরণ করল, সেই সময়টুকু ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে আতঙ্কের … মুক্তি এত কাছে অথচ পেছনে ঝলসাচ্ছে মৃত্যুর আশঙ্কা। অবশেষে আমরা বাড়ি পৌঁছলাম, ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত, অর্ধমৃত অবস্থায়। সেই মুহূর্তে আমাদের অবিশ্বাস্য লাগছিল কী ভাবে কিছুক্ষণ আগেও আমরা প্রাণপণে অনুরোধ করছিলাম আমাদের ছেড়ে দেবার জন্য, আমাদের প্রাণে না মারার জন্য, মেপে মেপে সমস্ত কথা বলতে হচ্ছিল, কারণ সেই মুহূর্তে কোনও কারণে ধর্ষকদের মনে এতটুকু রাগের সঞ্চার ঘটলে আমাদের শরীরে কাস্তের কোপ পড়ত। মুক্তির আনন্দ আমাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ল, বেরিয়ে এল চোখ ফেটে জল হয়ে, গলা ফাটিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমরা লুটিয়ে পড়লাম, বাড়ির ভেতর।

ধর্ষকদের কাছে আমি জোড়হাতে কথা দিয়েছিলাম, আমি কাউকে কিছু বলব না। কিন্তু যে মুহূর্তে আমি বাড়ি ঢুকলাম, বাবাকে বললাম পুলিশকে ফোন করতে। বাবা স্বভাবতই দুশ্চিন্তা এবং দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন এ ব্যাপারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম, আর কারুর যাতে আমার মত অভিজ্ঞতা না হয় তার জন্য যা করা দরকার যতটা করা দরকার, তার শেষ পর্যন্ত দেখে আমি ছাড়ব। পুলিশ ছিল সহানুভূতিহীন, অবজ্ঞাপূর্ণ, এবং যেভাবেই হোক তারা আমাকে বাদীপক্ষ (Guilty Party) বানিয়ে দিল। তারা যখন আমাকে ঘটনার বিবরণ দিতে বলল, আমি সরাসরি জানালাম কী হয়েছিল আমার সাথে, তাতে তারা ঘেন্নায় শিহরিত হল এই ভেবে যে, আমি লজ্জা না পেয়ে মুখ না লুকিয়ে কী করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছি। তারা যখন জানাল, লোকে কিন্তু জানবে, আমি বললাম, আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই। সত্যিই আমার বা রাশিদের মনে এ কথা কখনও আসে নি যে আমাদের দোষী প্রতিপন্ন করা হবে। তারা যখন বলল আমাকে কোনও জুভেনাইল হোমে নিয়ে গিয়ে রাখা হতে পারে আমার “নিরাপত্তা”র খাতিরে, আমি দালাল আর ধর্ষকে ভরা কোনও জায়গাতে গিয়ে থাকতেও রাজি ছিলাম যদি তা আমার ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের শাস্তি দেওয়া নিশ্চিত করত।

খুব তাড়াতাড়িই আমি বুঝতে পারলাম মেয়েদের জন্য ন্যায়বিচার আমাদের দেশের আইনব্যবস্থায় নেই। তারা যখন আমাকে জিজ্ঞেস করল আমরা ঠিক কী করছিলাম পাহাড়ের ওপরে, আমার মধ্যে অসম্ভব রাগ জন্ম নিতে শুরু করল। তারা যখন জিজ্ঞেস করল, রাশিদ কেন ঘটনার সময়ে “প্যাসিভ” ছিল, আমি চীৎকার করেছিলাম। তারা যখন আমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি কী ধরণের পোশাক পরেছিলাম, রাশিদের শরীরে কোনও দৃশ্যমান ক্ষতচিহ্ন নেই কেন (রাশিদের শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল; কাস্তের হাতল দিয়ে উপর্যুপরি ওর পেটে আঘাত করা হয়েছিল), আমি ভয়ে হতাশায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম, আর আমার বাবা তাদের সম্বন্ধে ঠিক কী মনোভাব পোষণ করে, সেটা মুখে উচ্চারণ করে তাদের বাড়ির বাইরে দূর করে দিয়েছিল। এই ছিল পুলিশের থেকে আমার প্রাপ্ত সাহায্য। কোনও চার্জ আনা হয় নি। পুলিশ শুধু স্টেটমেন্ট রেকর্ড করেছিল যে আমরা হাঁটতে বেরিয়েছিলাম এবং কোনও কারণে আমাদের ফিরতে “দেরি” হয়েছিল।

আজ তিন বছর হয়ে গেছে, কিন্তু সেদিনের ঘটনার স্মৃতি আমাকে রোজ তাড়া করে বেড়ায় আজও, প্রতিদিন। সুরক্ষাহীনতা, অসম্মান, ভয়, রাগ, অসহায়তা – আমাকে নিয়মিত এসবের সঙ্গে যুদ্ধ করে যেতে হয় এখনও। কখনও এমন হয়, আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, পেছনে কারুর পায়ের শব্দ শোনা গেল, আমি ঘামতে শুরু করি, আমি ঠোঁট কামড়ে ধরি নিজের, পাছে চেঁচিয়ে না ফেলি। আমি বন্ধুত্বের স্পর্শেও ছিটকে যাই, টাইট স্কার্ফ পরলে মনে হয় কেউ বুঝি আমার গলাটা হাত দিয়ে টিপে ধরেছে, আমি পুরুষের দৃষ্টির সামনে আতঙ্কে কাঁপতে থাকি, যে ধরণের দৃষ্টি এখানে সর্বদাই দেখা যায়।

অথচ তার পরেও মনে হয় আমি আজ অনেক বেশি স্ট্রং। আমি আমার জীবনকে আগের থেকেও বেশি উপভোগ করি। প্রতিটা দিন আমার কাছে একটি উপহার। আমি জীবনের জন্য লড়াই করেছিলাম, এবং জিতেছিলাম। কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমার এই জেতার আনন্দ কেড়ে নিতে পারে নি।

আমি পুরুষদের ঘৃণা করি না। সেটা করা খুব সোজা, আর পুরুষরাও অন্য অনেক ধরণের অন্যায় অত্যাচারের শিকার হন। আমি ঘৃণা করি পুরুষতন্ত্রকে, এবং ঘৃণা করি এই সর্বৈব মিথ্যে ধারণাকে যা বলে ছেলেরা মেয়েদের থেকে সুপিরিয়র, ছেলেদের যে অধিকার আছে তা মেয়েদের নেই, ছেলেরাই আমাদের ভোগ করার অধিকারি।

আমার নারীবাদী বন্ধুরা মনে করে আমি মেয়েদের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত কারণ আমি ধর্ষিতা হয়েছি। তা নয়। ধর্ষণ আমার নারীবাদী হবার পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা। আলাদা করে ধর্ষণের ঘটনাকে প্রাধান্য দেব কেন? কেন ধরে নেব ধর্ষণ কেবলমাত্র ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনসম্ভোগের নামমাত্র? প্রতিদিন যখন আমরা রাস্তায় হাঁটি, পেছন থেকে অশ্লীল টিটকিরি শুনতে পাই, তখন আমাদের ধর্ষণ হয় না? কেবল একটি মাত্র ডাইমেনশনে মেয়েদের প্রতি দমনের বিন্যাস করা যায় না।  উদাহরণস্বরূপ, সামাজিক শ্রেণীবিশ্লেষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার, কিন্তু তাই দিয়ে এটা ব্যাখ্যা করা যায় না কেন অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে একই শ্রেণীর ভেতরে।

যতদিন মেয়েদের বিরুদ্ধে অসাম্য টিকে থাকবে, ততদিন একটি এবং প্রতিটি মেয়ে ধর্ষণের সম্ভাবনায় কাঁপবে। ধর্ষণের সাথে গড়ে ওঠা সামাজিক নির্মাণকে ভাঙা সবচেয়ে জরুরি। আমাদের বুঝতে হবে এই সম্ভাবনা আমাদের চারদিকে কেমন করে ঘিরে ধরে আছে আমাদের, আর কত বিভিন্ন রূপে তারা আমাদের আক্রমণ করে। আমরা এই ঘটনাগুলোকে যত কম লুকিয়ে রাখতে পারি তত ভালো হয়, আর ঘটনাটার সত্যিকারের রূপের সামনাসামনি হবার হিম্মত অর্জন করতে হবে – একটা অপরাধের ঘটনা যেখানে ধর্ষক হচ্ছে অপরাধী।

বেঁচে থাকার জন্য আমি তুমুল খুশি। ধর্ষিত হওয়া বর্ণনার অতীত এক কষ্ট, কিন্তু আমার মতে বেঁচে থাকাটা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোনও মেয়েকে এইভাবে ভাবতে বাধা দেওয়া হয়, বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের কোথাও একটা বড়সড় ফাটল ধরেছে। কারুর ওপর যখন অমানুষিক অত্যাচার করা হয় এবং সে নির্বিবাদে মার খেয়ে যায় শুধু মারের শেষে বেঁচে থাকার প্রত্যাশায়, কেউ ভাবে না তার মার খাবার ইচ্ছে হয়েছিল তাই সে যেচে মার খেয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন মেয়েকে এটাই জিজ্ঞেস করা হয়, সে কেন ধর্ষণ করতে দিল, কেন প্রতিরোধ করে নি, সে নিজে ধর্ষণের ব্যাপারটা উপভোগ করেছিল কিনা।

কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপের মহিলাদের সাথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না, ধর্ষকরাও সমাজের কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপের সদস্য হয় না। একজন ধর্ষক একজন উন্মাদ অত্যাচারী হতে পারে, অথবা পাশের বাড়ির ছেলেটি কিংবা পরিচিত কোনও কাকুও হতে পারে। ধর্ষণের ঘটনাকে “অন্য মেয়ের ব্যক্তিগত সমস্যা” হিসেবে দেখার অভ্যেস বন্ধ করতে হবে। আমাদের সামগ্রিকভাবে এটা বুঝতে হবে এবং সবাইকে বোঝাতে হবে।

লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতায়নের নিয়ম যতদিন না পালটায়, মেয়েরা যতদিন না নিজেদের পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে ভাবা বন্ধ করে, আমাদের ততদিন এই ভয়ংকর অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাবার কোনও উপায় নেই।

আমি একজন সারভাইভর। আমি আমাকে ধর্ষণ করার জন্য কাউকে অনুরোধ করি নি, আমি ধর্ষণ উপভোগও করি নি। এটা ছিল আমার জীবনে সহ্য করা সবচেয়ে কষ্টকর অত্যাচার। কোনও ধর্ষণ কখনও কোনও মেয়ের দোষে ঘটে না। ধর্ষণকে নিয়ে আমাদের সমাজে পালন করে চলা অদ্ভুত নীরবতা আর অবাস্তব কাল্পনিক মিথকে ছিন্নভিন্ন করে দেবার উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা। আমি এই লেখার মাধ্যমে শুধু এইটুকু সবাইকে জানাতে চাই যে মেয়েরা কোনও সহজলভ্য ভোগসামগ্রী নয়, ধর্ষণের মত অপরাধ একজন মেয়েকে, মানুষ হিসেবে, সামাজিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে একা করে দেয়।

১৯৮৩ সালে মানুষী পত্রিকায় এই নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখান থেকে অনুদিত। বাংলায় অনুবাদ  আমার।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s