একটি অতিসাধারণ ভ্রমণকাহিনি – অষ্টম ও শেষ পর্ব

পর্ব ১পর্ব ২ , পর্ব ৩ , পর্ব ৪ ,পর্ব ৫, পর্ব ৬ আর পর্ব ৭-এর পরে

ঘটনাবহুল! ইভেন্টফুল! সাসপেন্স! –

শেষদিন যে ভাবে আমরা বারাণসী থেকে বাড়ি পৌঁছলাম, তাকে এক কথায় বা এক দু’শব্দে কীভাবে বিবৃত করা যায়, তারই চেষ্টা করছিলাম আর কি।

এক সপ্তাহের কলকাতা ট্রিপের আজ শেষ দিন। সব ঠিকঠাক চললে আজ সন্ধ্যের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছনোর কথা। আটশো কিলোমিটার, একই রাস্তা দিয়ে ফেরা, তায় আজ পুরো দিনটা শুধু উত্তরপ্রদেশ আর উত্তরপ্রদেশের ওপর দিয়ে ফেরা। সীনিক বিউটি বলতে প্রায় কিছু নেই, অন্তত বিহার-ঝাড়খণ্ডের তুলনায়। অসম্ভব বোরিং হবার কথা, তাই প্রথম থেকেই ঠিক করে নিয়েছিলাম, আজ বেশি ড্রাইভিং-এর চাপ নেব না। দুজন তো সঙ্গে রয়েইছে, ম্যানেজ হয়ে যাবে।

গৌরব আর স্টিফেন বলে দিয়েছিল সকাল পাঁচটায় একবার কল করে নিতে। ওদের ঘরটা আমার ঘর থেকে তিনটে ঘর পরে। ঠিক পাঁচটায় উঠে পড়লাম, পাঁচটা বেজে পাঁচ মিনিটে কল করলাম। মুগ্ধ হয়ে দেখলাম – ওরা শুধু উঠে পড়েছে তা-ই নয়, রেডি-ও হচ্ছে। গৌরব এর মধ্যেই দুটো সিগারেট শেষ করে ফেলেছে। এই সিগারেটটা না হলেই আমার সমস্যা থাকত না – কাল সারাদিন বড় জ্বালিয়েছে গাড়ির ভেতরে সেই সিগারেটসেবন।

আমিও রেডি হলাম। সাড়ে পাঁচটায় ঘর থেকে বেরিয়েই দেখি গৌরব আর স্টিফেনও বেরোচ্ছে। ঝটপট চেক আউট করে নিলাম – পেমেন্ট তো করাই ছিল। গাড়িও কাল একদম গেটের সামনে পার্ক করেছিলাম। টুকটাক লাগেজ যেটুকু বের করেছিলাম, সেগুলো ঢোকালাম, এবং ঠিক পৌনে ছটায় গাড়ি স্টার্ট দিলাম।

বারাণসী কখনও ঘুমোয় না, বিশেষত স্টেশনচত্বর তো ভারতের কোনো এলাকাতেই ঘুমোয় না। তবে অন্য সময়ের তুলনায় ট্র্যাফিক কম এই মুহূর্তে। ঝটপট নেভিগেশন দেখে শহরের বাইরে বেরিয়ে এন এইচ টু-তে উঠে পড়লাম। স্টিফেন বলল, আমাকে চালাতে দে (বয়েস জানি না – তবে আমার থেকে একটু বড়ই হবে, যাই হোক, অপরিচিত বা স্বল্পপরিচিত লোকেদের মুখে তুইতোকারি শুনলে আমার বেজায় মটকা গরম হয়ে যায়, কিন্তু আপাতত সহ্য করে যেতে হবে)। দিলাম। স্টিফেন সত্যিই চালায় ভালো। অচিরেই দেখলাম স্পিডোমিটারের কাঁটা একশো ছুঁয়ে ফেলল। খানিক পরেই একশো দশ।
dsc_0487
সামনে বোধ হয় কোনও ট্রাকের বস্তার ছ্যাঁদা থেকে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে একমুঠো কোনও দানাশস্য। ভোরের মুখে একগাদা পায়রা শালিখ উড়ে এসে সেখান থেকে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সকালবেলার ন্যাশনাল হাইওয়েতে গাড়িঘোড়াও কম, কখনও ক্কচিৎ একটা দুটো ট্রাক চলেছে গদাইলশকরি চালে, ফলে পাখিগুলো কিঞ্চিত রিল্যাক্সড। কিন্তু এত সকালে একশো দশ পনেরোর স্পিডে ছুটে আসা একটা ওয়্যাগনআরকে তারা এক্সপেক্ট করে নি, ঝটপট করে উড়ে গেল ঠিকই, তবে একটা পাখি, পায়রা না শালিখ কে জানে, সজোরে হিট করল আমার গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে। … পাখির ধাক্কায় উইন্ডস্ক্রিনের ক্ষতি হবার কথা নয়, হয়ও নি, তবে পাখিটা বোধ হয় ওই ধাক্কার পরে বাঁচে নি। বাঁচবার কথা নয়।

আমাদেরও পাখিকে ধাক্কা মারার পরে গাড়ি থামাবার কথা নয়, তাই থামানো হল না। গাড়ি আর হাইস্পিডে কাঁপছে না, রাস্তাও বিলকুল খালি, এই অবস্থায় যদি একটু হাইস্পিডে চালিয়ে নেওয়া যায় – তা হলে অনেকটা টাইম সেভ হয়। আটশো কিলোমিটার তো মুখের কথা নয়!

বারাণসী তখন আটান্ন কিলোমিটার পেছনে ফেলে এসেছি, সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে এলাহাবাদ বাইপাসের হাতছানি, ঠিক তখনই ঘটল দ্বিতীয় ঘটনাটা।

সকাল সাড়ে ছটা। হাইওয়ের দুপাশের জনপদ জেগে উঠছে, একটা দুটো সাইকেল বা মোটরসাইকেল দেখা যাচ্ছে। রাস্তার পাশে বিস্কুটের লোভে মালিকের হাতের দিকে লাফিয়ে উঠছে আপাত-পোষা কুকুরেরা। হঠাৎই, একটা লোক, তার হাতের বিস্কুটটা নিয়ে কুকুরের মুখে নাচাতে নাচাতে ছুঁড়ে ফেলল রাস্তায় – আমরা তখন সেইখান থেকে ঠিক দুশো মিটার দূরে। বিস্কুটের লোভে দৌড়ে এল কুকুর, কিন্তু সে আমাদের গাড়িটাকে খেয়াল করে নি, যতক্ষণে করল, তখন আর কিছু করার ছিল না, কিছু করার ছিল না আমাদেরও, একশো দশ কিলোমিটার স্পিডের থেকে এক সেকেন্ডে গাড়ি থামাতে গেলে আমরাই উলটে যেতাম। … দড়াম করে একটা শব্দ, গাড়িতে একটা হাল্কা জার্ক – আমি পাশের সীটে বসে ছিলাম, শেষ যেটুকু দেখতে পেলাম, কুকুরটা প্রচণ্ড জোরে পালটি খেতে খেতে রাস্তার পাশের ঝোপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তীরবেগে – তার দুচোখে কেমন একটা অবিশ্বাস … আর দেখা গেল না, আমরা অনেক দূরে এগিয়ে এসেছি।

আরও দু তিন কিলোমিটার এগনোর পরে, গাড়ি থামানো হল। একবার গাড়ির সামনেটা চেক করে নেওয়া দরকার। কুকুর তো পায়রার মত হালকা প্রাণী নয়।

নামলাম। হ্যাঁ, যা ভেবেছি, তাই। সামনের বাম্পারের বাঁদিকটা, বনেটের থেকে লুজ হয়ে একটু নিচু হয়ে ঝুলছে। যে ক্লিপ দিয়ে ওটাকে সমানভাবে বনেটের সাথে আটকে রাখা হয়, বাঁদিকে কয়েকটা ক্লিপ ভেঙে গেছে। আর সামনের নাম্বারপ্লেটটা বেঁকে গেছে।

গৌরব কোনওরকমে বাম্পারটাকে বনেটের সাথে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করল, মনে হল টেম্পোরারিলি লেগে গেছে। খারাপ লাগছিল, লাগারই কথা। বাড়ি থেকে বেরোবার মুহূর্তে আমি নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কোনও অবস্থাতেই একশোর ওপরে স্পিড ওঠাবো না, আমি ওঠাই নি, কিন্তু অন্যকে দিয়ে সেই প্রতিজ্ঞা করানো তো সম্ভব নয় আমার পক্ষে। এতদিন গাড়ি চালাচ্ছি, কখনও আমার গাড়িতে কুকুর ইত্যাদি চাপা পড়ে নি – অ্যাক্সিডেন্ট দেখেছি, চোখের সামনে স্পট ডেথ দেখেছি, রক্তের পুকুরে শুয়ে অ্যাক্সিডেন্ট ভিক্টিমকে শেষ ছটফট করতেও দেখেছি একবার, কিন্তু তবু, তবু … আমার নিজের হাতে কখনও হয় নি এ সব।

হয় তো স্টিফেনেরও হয় নি কখনও, এইই প্রথম। ও-ও একটু অপরাধ বোধ করছিল। যাই হোক – আবার গাড়িতে বসলাম, স্টিফেনকে বললাম, দ্যাখো – যদি একশোর মধ্যে চালানো যায়, চাপ তো নেই, আমরা বাড়িই যাচ্ছি, যত রাত হোক, পৌঁছে তো জাস্ট ঘুমনো। তাড়াহুড়ো কোরো না।

গাড়ি, আসলে মানুষের মতই। যত্ন করলে যেমন বোঝে, মিসহ্যান্ডল করলেও বোঝে। খানিক সময়ের মধ্যেই আমরা এসে পৌঁছলাম এলাহাবাদ বাইপাসের সামনে। আশি কিলোমিটার লম্বা বাইপাস চলে গেছে এলাহাবাদ শহরের বাইরে দিয়ে। আরেকটা এক্সপ্রেসওয়ে। কংক্রিটের রাস্তা এঁকেবেঁকে ঢেউ খেলিয়ে চলেছে।
dsc_0490
প্রায় অনেকটা পেরিয়ে আসার পরে – স্টিফেন তখনও স্টিয়ারিং-এ – ধীরে ধীরে দেখেছি স্পিড আবার বেড়ে গেছে, আসলে রাস্তা এত ভালো, কন্ট্রোলে রাখা খুব চাপ হয়ে দাঁড়ায়, হঠাৎ – “ফ্যাট্যাফ্যাট্যাফ্যাট্যাং” করে একটা তীব্র আওয়াজ, আর আমি পাশের সীট থেকে দেখলাম গাড়ির তলা থেকে লম্বাটে কালো রং-এর কী একটা যেন উড়ে বেরিয়ে গেল, হাওয়া হয়ে গেল পাশের ঝোপজঙ্গলে। … গাড়ি তখনও স্মুথ চলছে, কিন্তু স্পিড কমিয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে পেরিয়ে গেছি আরও দুতিনশো মিটার, ততক্ষণে।

নেমে দেখি, চিত্তির কেস। সেই সামনের বাঁদিকের টায়ার। স্টেপনি থেকে খুলে যেটাকে লাগানো হয়েছিল। গরম হয়ে, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবহারের ফলে – কী হয়েছিল কে জানে, অর্ধেক টায়ারের ওপরের রাবারের আস্তরণ খুলে বেরিয়ে গেছে, ভেতরের তারজালি বেরিয়ে এসেছে।
dsc_0493dsc_0494
হাওয়া কমে নি, কারণ এটা টিউবওলা পুরনো টায়ার, হাওয়া তো রয়েছে টিউবে, কিন্তু এই টায়ার নিয়ে আর এগনো সম্ভব নয়। আবার পাল্টাতে হবে। কালকে আগের টায়ারটার লিক সারিয়ে স্টেপনিতে রাখা হয়েছিল, লেগে যাবে আবার – কিন্তু লজিস্টিকাল প্রবলেম সেই এক – টুলকিট নেই। … কালকে অশোক রিসর্টে ছিলাম, যে করে হোক ব্যবস্থা হয়ে গেছিল, এখন এই জনমানবশূন্য এলাহাবাদ বাইপাসে কীভাবে টায়ার বদলাবো?

গৌরবের মাথাতেই প্রথম বুদ্ধি এল, সাথে সাথে আমার মাথাতেও – আমরা তো এখন এক্সপ্রেসওয়েতে আছি – টোল রোড, টোলের যে স্লিপটা রয়েছে, ওতেই হেল্পলাইন নম্বর লেখা আছে। একবার ফোন করে দেখলে কেমন হয়?

টোলের স্লিপ থেকে চোখ সরিয়ে দেখি ঠিক আমাদের সামনেই রাস্তার মাঝে ডিভাইডারে একটা বোর্ড, তাতে একটা হেল্পলাইন মোবাইল নম্বর লেখা, এবং কী আশ্চর্য, দুটোই এক নাম্বার। লাগানো যাক তা হলে।

লাগালাম নম্বর। রিং হল, কেউ ফোনও তুলল। বললাম, এই ব্যাপার। অন্যপ্রান্তের লোকটি জিজ্ঞেস করল – আপনারা এক্স্যাক্টলি কোথায় আছেন? … এইবার হল মুশকিল, চারদিক ধূ-ধূ ফাঁকা, কোনও ল্যান্ডমার্কও নেই, কীভাবে বোঝাবো কোন জায়গায় আছি? তখনই চোখে পড়ল, আমাদের গাড়ি থেকে দশ বারো পা দূরে একটা মাইলস্টোন। দৌড়ে গেলাম ফোন কানে রেখে, দেখি লেখা আছে, দিল্লি ৬৪৯ কিলোমিটার। সেটাই বললাম। ওরা বলল, মাইলস্টোনের সামনাসামনি দাঁড়ান, দেখুন সাইডে একটা নম্বর লেখা আছে, সেইটা বলুন। দেখি মাইলস্টোনের সাইডেও লেখা আছে 649। বললাম। লোকটা বলল, এখন তো আমাদের শিফট চেঞ্জ হচ্ছে, আমি নোট করে নিচ্ছি, রিকভারি ভ্যান পৌঁছে যাবে, কিন্তু দশ মিনিট দেরি হবে। পরের শিফটের লোকজন এসে গেছে, ওরা টেকওভার করলেই গাড়ি বেরোবে। দশ মিনিট অপেক্ষা করুন।

ঘড়ি দেখলাম, পৌনে আটটা বাজছে। শিফট চেঞ্জের চক্কর দশ মিনিটে শেষ হবে না – সে জানি। তবু, খুব দেরি হয় নি এখনও, অপেক্ষা করা যেতেই পারে, ইন ফ্যাক্ট অপেক্ষা না করে কিছু করারও নেই, এই এক্সপ্রেসওয়েতে মানুষজন বাড়িঘর কিচ্ছু নেই আশেপাশে, পাংচার শপ তো পরের কথা।

দু চারটে চলন্ত গাড়িকে হাত দেখালাম, ন্যাচারালি কেউই থামল না, আমাকে হাত দেখালে এই নির্জন রাস্তায় আমিও থামতাম না।

আটটা বাজল। কারুর পাত্তা নেই। ফোন করব আরেকবার? … থাক। আরও পাঁচ মিনিট যাক।

একটা লোক কোথা থেকে এল সাইকেল নিয়ে। কাছাকাছি কোনও গ্রামের লোক হবে। জিজ্ঞেস করলাম – আগে কোনও পাংচার শপ আছে কিনা। লোকটা খানিক ভেবে বলল, সিধা চলে যাও, এক পুল আয়েগা, পুল কে নিচে গাড়ি রাখকে প্যায়দল চলে জানা বাঁয়ে কে তরফ – এক গাঁও মিলেগা। উস গাঁও মে এক পেংচারবালা ব্যায়ঠা হুয়া হ্যায়। মুশকিল সে দো কিলোমিটার হোগা।

যেভাবে সে বিবরণ দিল, আমরা কেউই সাহস পেলাম না। এদ্বের দু কিলোমিটারের হিসেব আমাদের সাথে ম্যাচ না-ও করতে পারে।

আটটা পাঁচ। আবার ফোন করলাম হেল্পলাইনে – এবার অন্য লোক তুলল। বললাম সমস্ত, বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, রিপোর্ট পেয়েছি, ড্রাইভার জাস্ট এসেছে, আর দু মিনিটের মধ্যে স্টার্ট দেবে। এসে যাবে।

আটটা কুড়ি। পঁয়ত্রিশ মিনিট হয়ে গেল। বেশ বুঝতে পারছি গৌরব আর স্টিফেন মিলে আমায় মনে মনে খুব খুব খিস্তি করছে, কিন্তু মুখে কেউই কিছু বলছে না।

কংক্রিটের রাস্তা, ভালো করে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, খুব ঘন খাঁজকাটা। টায়ারের সাথে ঘর্ষণ হয় বেশিমাত্রায়, টায়ার গরম হয়ে যায়। আমার এই টায়ারটা, সম্ভবত সেই ২০০৬ সালে গাড়ি কেনার দিন থেকেই স্টেপনিতে পড়ে ছিল, কখনও বের হয় নি। পড়ে থেকে থেকে রাবার শক্ত হয়ে গেছে, ভেতরের তারজালির বাঁধন থেকে আলাগা হয়ে গেছে ফ্রিকশনের চোটে। কাল টায়ার পাল্টাবার পর থেকে এই প্রথম কংক্রিটের রাস্তায় চালানো হয়েছে।
dsc_0496
ঠিক আটটা পঁচিশে একটা রিকভারি ভ্যান এসে থামল উল্টোদিকের রাস্তায়, সাতজন লোক নেমে এল। সমস্যাটা ভালো করে বুঝে নিয়ে আবার একজন দৌড়ে গেল ভ্যানের দিকে, জ্যাক রেঞ্চ সমস্ত নামিয়ে নিয়ে এল। দশ মিনিটে চাকা পালটানো হয়ে গেল। একটা লোক গাড়ির ফটো নিল, চাকার ফটো নিল, আমাকে দিয়ে লগবুকে সই করাল, এবং একটি পয়সাও না নিয়ে চলে গেল।

ডিকির পেছন থেকে দেখি, স্টিফেন আমাকে হাতছানি দিয়ে দেখাচ্ছে, হাসতে হাসতে। গেলাম, আমার দিকে তাকিয়ে ডিকির ভেতরে হাত দেখিয়ে বলল, এটা কী? অ্যাঁ? এটা কী?

ভালো করে তাকিয়ে দেখি, ডিকির একদম ভেতর দিকে একটা খাঁজের মধ্যে একটা জিনিস রাখা। বের করে দেখি, স্ক্রু-জ্যাক। বোঝো কাণ্ড! আমার গাড়িতেই ছিল, আমি ন’ বছরেও জানতাম না? এমন জায়গায় ছিল, কোনওদিন খেয়াল করি নি। ড্যামেজড টায়ারটা স্টেপনিতে ঢোকাতে গিয়ে স্টিফেন দেখতে পেয়েছে।

বেজায় লজ্জার ব্যাপার। কতখানি আনপড় লোক আমি মাইরি! নিজের গাড়িতে কী আছে, নিজেই জানতাম না! অবশ্য শুধু স্ক্রু-জ্যাক থেকেও লাভ নেই, অন্য টুলগুলো, রেঞ্চ ইত্যাদি তো বাড়িতে ফেলে রেখেই এসেছি। লোক ডাকতেই হত। যাক, কী আর করা। পুরনো চাকাটাই আবার লাগিয়ে দিয়েছে, সেটা কাল লিক হয়েছিল, লিক সারিয়ে হাওয়া ভরে রাখা ছিল। আবার যে লিক হবে না, এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। তাই, সাবধানে চালাতেই হবে। স্টিফেন দেখলাম, পরপর এতগুলো ঘটনায় বেশ ব্যোমকে গেছে, আমাকে বলল, আমি আর চালাব না এখন, তুই চালা একটু।

আমি স্টিয়ারিং-এ বসলাম। একবার স্পিড বাড়িয়ে দেখলাম, একশো ছুঁলেই সেই গাড়ির ভাইব্রেশন আবার ফিরে এসেছে। তার মানে এই টায়ারটা ডিফেক্টিভ। যাক, আর একশোর ওপরে একদম ওঠা নয়। পৌনে নটায় স্টার্ট করলাম।

সাড়ে নটায় এলাহাবাদ বাইপাস শেষ হল, যথারীতি আমাদের দাঁড়িয়ে থাকা জায়গার দু কিলোমিটার কেন, দশ কিলোমিটার পরেও না কোনও গ্রাম দেখেছি, না কোনও “পাংচার শপ”। দোকান দেখলাম একেবারে বাইপাস শেষ হবার পরে। জঘন্য চা, নট-সো-জঘন্য জিলিপি আর পাটপাতার পকোড়া দিয়ে জলযোগ সারলাম। ধীরে ধীরে পেরোতে থাকলাম একের পর এক এলাকা। এইবারে রাস্তায় আস্তে আস্তে ট্র্যাফিক বাড়ছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উল্টোদিক থেকে আসা বেপরোয়া গাড়ির সংখ্যা। সব রকমের গাড়ি, মোটরসাইকেল, সাইকেল, মিনি-ট্রাক, ট্রাক্টর – নির্বিকারভাবে কেউ রাস্তার মাঝখান দিয়ে, কেউ ডানদিক ঘেঁষে, কেউ বাঁদিক ঘেঁষে, একেক সময়ে, একে গ্রামের কাছে একেক রকমের অভিজ্ঞতা। একশোর মধ্যে স্পিড থাকলে তবেই এসব ডজ করে করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

একসময়ে কানপুর এল। শহরের ওপর দিয়ে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভার পেরিয়ে আমরা আবার নিচের রাস্তায় নামলাম।
dsc_0497dsc_0498
অনেকটা যাবার পরে, প্রায় তখন বেলা সাড়ে এগারোটা, একটা জায়গায় দাঁড়াতে হল।

সামনে সারিসারি গাড়ির লাইন, যতদূর চোখ যায়। হয় তো সামনে কোনও টোল আছে, কম গেট খোলা, তাই লম্বা লাইন পড়েছে। আমরাও লাইনের শেষে দাঁড়ালাম।

প্রায় আধঘন্টা কেটে যাবার পরেও যখন লাইন এগলো না, তখন কেমন সন্দেহ জাগল। আশপাশের সমস্ত গাড়ির ড্রাইভাররাই উশখুশ করছে, কেউই কিছু জানে না। গৌরব একটু এগিয়ে গেল খোঁজ নিতে। আমি ক্যামেরা নিয়ে দুটো ছবি তুললাম। কোন জায়গা, কে জানে!
dsc_0505dsc_0506
গৌরব ফিরল আরও দশ মিনিট পরে, বলল, বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। হাই ভোল্টেজ তার ছিঁড়ে পড়েছে একটা ট্রাকের ওপর, ট্রাক জ্বলেপুড়ে খাক, সঙ্গে পুড়ে গেছে সাতজন লোক। ডেডবডি নামিয়ে রাখা আছে রাস্তার ওপর, পুলিশ এসেছে।

সব্বোনাশ করেছে। এ জ্যাম তো কখন ছাড়বে, কেউ জানে না। একজন লোকাল লোক সেইসময়ে ওখান দিয়ে যাচ্ছিল, সে সবাইকে বলতে বলতে আসছিল – পাশে একটা ধূলোভরা কাঁচা রাস্তা নেমে গেছে বাঁদিকে, এইটা দিয়ে একটু এগিয়ে চললে জ্যাম কাটিয়ে আবার হাইওয়েতে ওঠা যাবে।

পড়ি-কি-মরি করে পরপর কয়েকটা গাড়ি বাঁদিকের রাস্তায় ঢুকে গেল। আমরা আরও কিছুক্ষণ দোনামোনা করলাম – যাওয়া উচিত, নাকি অপেক্ষা করা উচিত? একটা টায়ার জখম, দেখে মনে হচ্ছে রাস্তা বলে কিছু নেই, আর যাই হোক, এটা গাড়ি চলার রাস্তা নয়, নিতান্তই গ্রামের সাইকেল চলার রাস্তা। ঢোকা কি উচিত হবে? একবার গাড়ি বসে গেলে না পাবো হেল্প, না সাইড করার জায়গা আছে, না ব্যাক করার। আমাদের তিনজনই তখন এ ওর মুখের দিকে চাইছি।

দশটা-পনেরোটা-কুড়িটা গাড়ি পরপর ঢুকে গেল যখন, তখন বললাম, যা হয় হবে, চলো, ঢুকে পড়ি। আমরা একুশতম গাড়ি হয়ে ঢুকে পড়লাম সেই কাঁচা রাস্তায়।
dsc_0507dsc_0508

কাঁচা, কিন্তু একেবারে কাঁচা নয়। হয় তো দশ, কি পনেরো বছর আগে একবার পিচ ঢালা হয়েছিল এ রাস্তায়, দু এক জায়গায় এবড়োখেবড়ো দু একটা প্যাচ সেই প্রাচীন পিচের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। হেলতে দুলতে আমাদের গাড়ি এগলো, সামনেও গাড়ির লাইন, পেছনেও। এক জায়গায় একটা ঝুপড়ি মত দোকান, সে বোধ হয় অলরেডি অনেকগুলো ড্রাইভারকে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার কাছে গিয়ে কাঁচ নামানো মাত্র, সে গড়গড় করে বলে গেল, বাস এক কিলোমিটার অ্যা্যসে জানা পড়েগা, তার পরে তিরাহা আসবে (টি-জংশন), সেখান থেকে ডানদিকে পাক্কি সড়ক গেছে, সেই সড়ক ধরে প্রথম কাট ছেড়ে পরের ডানদিকের পাক্কি সড়ক-ওলা কাটটা নিলেই আপনারা আবার মেন রোডে পৌঁছে যাবেন।

বেশ, এগোলাম। খানিক আগে সত্যিই একটা টি-পয়েন্ট পেলাম, সব গাড়িই সেখান থেকে ডানদিক নিচ্ছে। চিন্তার কিছু নেই, সব গাড়িই একই রাস্তায় চলেছে। তবে পাক্কি সড়ক মানে রাস্তায় পিচের দৃশ্যমানতা একটু বেশি, পিছ বোধ হয় সেই দশ বছরের পুরনো। প্রথম কাট ছেড়ে পরের কাটে আমরা অন্যদের মতই ডানদিক নিলাম। এটা ঠিক রাস্তা না বলে জমির আল বলা ভালো। আল ধরে চললাম। বাঁদিকে কর্ষণ করে রাখা জমি, কে জানে কীসের চাষ হবে, অপূর্ব ডিজাইন হয়ে পড়ে ছিল।
dsc_0511
খানিক এগোতেই দেখলাম খালি ন্যাশনাল হাইওয়ে। পেছনদিকে জ্যামের কোনও চিহ্নমাত্র নেই, সামনেও খালি। হাইওয়েতে উঠে আবার স্পিড বাড়ালাম। খানিক এগিয়ে গাড়ি থামালাম টায়ার চেক করার জন্য। না, টায়ার ঠিক আছে, হাওয়া কমে নি।

আড়াইটের সময়ে গাড়ি ঢোকালাম একটা পেট্রল পাম্প-সংলগ্ন ধাবাতে। বৈষ্ণো ধাবা, নন ভেজ নেই, কিন্তু খিদেটা খুব পেয়েছে, এখন ভেজ ননভেজ খুঁজে সময় নষ্ট করার মানে হয় না, আর এ হল উত্তরপ্রদেশের ইন্টিরিয়র, এখানে ননভেজ কী কোয়ালিটির হবে, কেউ জানে না।

খেলাম। রুটি, আলু-জিরা, পনীর মাখানি। পেট ভরে খেলাম। সোয়া তিনটের পরে আবার চলা শুরু। এখনও ইটাওয়া আশি কিলোমিটার দূর, সেখান থেকে একশো কিলোমিটার দূরে আগ্রা। তার পরে দিল্লি আর দুশো। পাঁচটা সাড়ে পাঁচটার মধ্যে যদি আগ্রা ঢুকতে পারি, তা হলে দিল্লি সাড়ে সাতটায় ঢুকে যাব অনায়াসে।

গৌরব এর আগে কাজের সূত্রে দিল্লি এসেছে বটে, কিন্তু যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে কখনও দ্যাখে নি। বললাম, ঠিক আছে, যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে তুমি চালাবে। দেখবে, কী রকম এক্সপিরিয়েন্স।

ক্রমশ ইটাওয়া ছাড়িয়ে গেলাম। রাস্তা ভালো খারাপ মিশিয়ে এই অংশে, জানাই ছিল। সুন্দর থোকা থোকা লাল সাদা ফুল ফুটেছে জায়গায় জায়গায়, ডিভাইডারের মধ্যে। সূর্য ক্রমশ পশ্চিমদিকে ঢলছে। ট্রাফিকের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শুধু মানুষ বা জিনিসপত্র নয়, ঘোড়ারাও চলেছে আগ্রা বা দিল্লির উদ্দেশ্যে, কোথা থেকে আসছে কে জানে!
dsc_0512dsc_0514

ফিরোজাবাদ ঢুকলাম, তখন পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে গেছে। এখান থেকে আগ্রা আর সাতাশ কিলোমিটার। তুমুল জ্যাম। গৌরব বলল, আগ্রাতে পৌঁছে চা খাবে, অনেকক্ষণ চা খায় নি।
dsc_0516
আগ্রা ঢুকলাম খানিক পরেই, তখন বাজে সাড়ে পাঁচটা। প্রথম যখন গ্রেটার নয়ডা, নয়ডা, দিল্লি লেখা বোর্ডগুলো দেখলাম, গৌরব ভুলেই গেল চা খাবার কথা। বললাম, রেডি হও, লাস্ট দুশো কিলোমিটার তুমি চালাচ্ছো। গৌরব খুব খুশি।
dsc_0526
এক্সপ্রেসওয়ের শুরুতে গাড়ি রেখে একটু বিশ্রাম নিলাম। সিকিনীকে ফোন করে স্টেটাস জানিয়ে দিলাম, সিকিনী আজ দুপুরে বাড়ি ঢুকেছে। আমিও ঢুকব আর কয়েক ঘন্টা পরেই।
dsc_0528dsc_0529
লম্বা ছুটিতে দিল্লির অনেকেই বেরিয়ে পড়েছিল, তারা সবাই ফিরছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে, টোল বুথের কাছে ম্যাসিভ জ্যাম। যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে এই জ্যাম কোনওদিন দেখি নি। প্রায় কুড়ি মিনিট নষ্ট হল একটা টোল বুথ পেরোতে।

ঠিক রাত আটটায় আমার মোবাইল রোমিং থেকে লোকাল নেটওয়ার্ক ধরল, আমরাও বাঁদিক টার্ন নিয়ে নয়ডায় ঢুকলাম। এক্সপ্রেসওয়ে চলবে আরও দশ কিলোমিটার, গৌরব থাকবে স্টিফেনের বাড়িতে, স্টিফেনের বাড়ি গুরগাঁওয়ের কাছে, আমার বাড়ির বিলকুল উল্টোদিকে। স্টিফেন খুব বলছিল বটে – আমাদের কোনও একটা মেট্রো স্টেশনে নামিয়ে দিলে আমরা এমনিই চলে যাবো, তবে আমিই রাজি হলাম না। পথের সাথীকে ঘর অবধি এগিয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য। এরা দুদিন ধরে অনেক করেছে, আমাকে একটানা গাড়ি চালাতে হয় নি।

কালিন্দী কুঞ্জ ওখলা পেরিয়ে আমরা মেহরৌলি-গুরগাঁও রোড ধরলাম। ছতরপুর স্টেশন পেরোলাম, আর দুটো স্টেশন পেরোলেই স্টিফেনের আস্তানা, ঘড়িতে রাত নটা ছুঁইছুঁই তখন, হঠাৎ সামনে একটা বাজে ঘটনা ঘটে গেল। বাঁদিক দিয়ে আমাদের তীরবেগে ওভারটেক করে গেল একটা টাটা সুমো, আমাদের সামনেই একটু আগে বাঁদিক দিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল একটা লোক, তীরবেগে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা মেরে বেরিয়ে গেল সুমোটা। আমি সাথে সাথে ব্রেক মারলাম, আর দেখলাম, লোকটা উড়ে গিয়ে রাস্তার বাঁদিকের প্রান্ত থেকে ডানদিকের প্রান্তে পড়ল, ডিভাইডারের কাছে একটা ডিগবাজি খেয়েই নিজে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।

ভাগ্যিস, রোববারের রাত, রাস্তায় বেশি ট্র্যাফিক ছিল না। মোটরসাইকেলটা মনে হল ভালোই ড্যামেজ হয়েছে, কিন্তু লোকটা আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গেছে। দাঁড়িয়ে ঝুঁকে নিজের পায়ের কাছে হাত দিচ্ছে – মানে ওর হাত পা কোমর পিঠ – সমস্ত অক্ষত। হেলমেট ওর মাথা বাঁচিয়ে দিয়েছে। সুমোটা বেপাত্তা ততক্ষণে।

গৌরবের গলা শুকিয়ে গেছে ভয়ে। আমরা আর দাঁড়ালাম না, কারণ লোকটা অল্প আহত হলেও মারাত্মক আহত নয়। সম্ভবত সামান্য কেটেছড়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। কয়েকটা গাড়ি আর অটোরিক্সা দাঁড়িয়ে গেছে দেখে আমরা এগিয়ে গেলাম। একটু পরে স্টিফেন গৌরবের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল – ওয়েলকাম টু দিল্লি। এখানে এসব হতে থাকে। লোকটা বেঁচে গেছে, এটাই বিশাল ভাগ্য ওর।

আমার মনে পড়ল, অনেকদিন আগে, আইটিও-র সিগন্যালে এইভাবেই আমাকে ধাক্কা মেরেছিল একটা চলন্ত অটোরিক্সা। মোটরসাইকেল উড়ে বেরিয়ে গেছিল, আমার কিছু হয় নি। সিকিনী ছিল পেছনের সীটে, ইমপ্যাক্টে সে পড়ে গিয়ে কোমরে অল্প চোট পেয়েছিল।

নটা কুড়িতে স্টিফেনকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে আমি ফিরলাম। চেনা চেনা রাস্তা সব, রাতের সিগন্যালদের কাছ থেকে হাল্কা লাল আর সবুজ রঙ মেখে চুপ করে শুয়ে আছে। একে একে পেরিয়ে গেলাম মেহরৌলি, পঞ্চশীল এনক্লেভ, গ্রেটার কৈলাশ, লাজপত নগর, প্রগতি ময়দান, নিজামুদ্দিন …

দশটা কুড়িতে বাড়ি। এন্ড টু এন্ড জার্নি সমাপ্ত হল।

*********************

রেকর্ডের দিক দিয়ে দেখতে গেলে, দেশের প্রথম দুটো ন্যাশনাল হাইওয়ে আমি পুরো কভার করেছি। এন এইচ ওয়ান, লাদাখ, আর এন এইচ টু, কলকাতা। আবার হয় তো কিছুদিনের নিশ্চিন্দি, তার পরে আবার রাস্তা ডাকবে, আয় – আয়, তার পরে আবার সুযোগ খোঁজা, নতুন কোনও রাস্তার, কিংবা এই রাস্তাতেই, অন্যভাবে।

খুবই খরচসাপেক্ষ ট্রিপ ছিল এইটা। এক এক দিকে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার করে প্রায় তেরো হাজার টাকার পেট্রল গেছে। টোল দিতে হয়েছে দেড় দেড় – তিন হাজার টাকার। কলকাতা যাই নি বলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের টোল দিই নি, ওটা দুদিকে ধরলে হয় চৌত্রিশশো টাকা। এর সাথে হোটেলের ভাড়া, খাওয়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক। রোজ রোজ এ ট্রিপ করা সম্ভব নয়, তবে ইচ্ছে আছে, আরেকবার এই রাস্তায় বাড়ি যেতে হবে, এইবারে বাইকে। দুটো অভিজ্ঞতাই হয়ে থাকা দরকার।

*********************

পাঁচ দিন বাদে, কথায় কথায় সিকিনীকে জিজ্ঞেস করলাম, এইবারে বল, কেমন লাগল পুরো ট্রিপটা।

সিকিনীর দুচোখ পুরো ঝিকমিকিয়ে উঠল, ফ্যান্টাস্টিক, অসাধারণ। আমি নিজে ভাবতে পারি নি আমি এতক্ষণ বসে বসে জার্নি করতে পারব, কিন্তু করে দেখলাম, কোনও ব্যাপারই না। মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম, মেয়েও খুবই এনজয় করেছে। খরচের দিকটা বাদ দিলে, এইভাবে বেরিয়ে পড়াই যায় আবার।

একটা মানুষ, এই বিশাল লম্বা জার্নির শেষে তার আগের মত থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল, এখন তার মনেও লেগে গেছে লং ড্রাইভিং-এর নেশা – এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি জীবনের কাছে, বলুন?

Advertisements

10 thoughts on “একটি অতিসাধারণ ভ্রমণকাহিনি – অষ্টম ও শেষ পর্ব

  1. উফফ আমরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলুম … খুব ভালো লাগলো শমিক … যাওয়াটা যতটা নিস্তরঙ্গ ছিল … ফেরাটা ততটাই ঘটনাবহুল … বাইক নিয়ে বেরোলে তোমার যাত্রা যেন নিরাপদ হয় … এখন থেকেই এই কামনা জানিয়ে রাখলুম 😀

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s