ইনটলারেন্স নিয়ে কিছু কথা

লেখাটা ইংরেজিতেও লিখতে পারতাম, আমার ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমন আছেন – যাঁরা বাংলা বুঝতে পারেন না, লেখাটা তাঁদের জন্যেও লেখা। কিন্তু ভেবে দেখলাম, ইংরেজিতে আমি খুবই কাঁচা, মনের ভাব ব্যক্ত করে উঠতে পারব না। অতএব, বাংলাই ভরসা।

ফেসবুক বেশ মজার জায়গা। বিভিন্ন রকমের, বিভিন্ন রঙের লোকজন একসাথে দেখতে পাবার এত সুন্দর জায়গা বোধ হয় আর কোথাও নেই। সোশাল নেটওয়ার্কের মহিমা।

সোশাল নেটওয়ার্ক। সামাজিক আদানপ্রদানের একটি ভার্চুয়াল জগত। কে কলকাতায়, কে কামস্কাটকায়, কে দিল্লিতে আর কে ডালাসে, ভৌগোলিক সমস্ত বাধা দূর করে এখানে একসাথে সহাবস্থান করে বিভিন্ন ধরণের লোক। আমার ফ্রেন্ডলিস্টও তাই। সোশাল নেটওয়ার্কটাকে এক এক জন এক এক রকমভাবে ব্যবহার করেন। কেউ নিয়মিত বৈপ্লবিক আপডেট দেন, কারুর দেওয়া পোস্টের মূল অন্তর্নিহিত বক্তব্য একটাই থাকে, – আমাকে দেখুন। কেউ কেউ লেখালিখির ধার ধারেন না, দিনের পর দিন খালি গুছিয়ে সেলফি আপলোড করে যান। আবার এক এক জন আছেন, এমনিতে নেটওয়ার্কে খুব একটা সোশাল নন, হঠাৎ হঠাৎ ঘুম ভেঙে জেগে ওঠেন, এবং এক রাতে সমস্ত ব্যাকলগ শেষ করে মনোমত জিনিসগুলোকে ধরে ধরে শেয়ার করতে থাকেন। এঁদের জীবনে নিজস্ব কোনও বক্তব্য নেই, একটি লাইনও লেখা থাকে না এঁদের দেয়ালে, খালি শেয়ার করা ছবি, জোক, কিংবা বাণীর সংকলন – মা কত পবিত্র, বন্ধু কত ফুলেল, একমত হলে শেয়ার করুন, এই বীর সেনানীর জন্য কত স্যালুট, একটা লাইক = একটা স্যালুট।

এঁদের মধ্যে কেউ কেউ লেখাটেখা পড়েন। আমার লেখাও মাঝে মাঝে পড়েন। আবার কেউ কেউ থাকেন, তাঁরা টেক্সচুয়াল কিছুই পড়েন না, শুধু ছবি আর বাণীর পোস্টার দ্যাখেন আর শেয়ার করেন। তো, তাঁরা কখনওই আমার লেখাও পড়েন নি, যদিও আমার বন্ধুর লিস্টে আছেন, এই লেখাটাও পড়বেন এমন আশা রাখি না, ইন ফ্যাক্ট, সবার পড়ে ভালো লাগার মতন তেমন উৎকৃষ্ট কিছু আমি লিখিও না। লেখাজোখা সবার জন্য নয়, সেটা মেনে নিতে আমার এতটুকু আপত্তি নেই।

কিন্তু আমি অনুরোধ করব, অন্তত এই লেখাটুকু একবার পড়ে নিতে। এই যাঁরা শুধুই শেয়ার করেন এবং কিছুই পড়েন না – এঁদের মধ্যে যেমন আমার কিছু অনলাইন এবং অফলাইন বন্ধু আছেন, তেমনি কিছু নিকট এবং দূর আত্মীয়স্বজনও আছেন। সবার কাছে পলিটিকালি কারেক্ট থাকা সম্ভব নয়, ইন ফ্যাক্ট, পলিটিকালি কারেক্ট থাকার চেষ্টাও আমি কখনও করি না, তবে আবারও বিনীত অনুরোধ, সব্বাইকার কাছে, এই লেখাটুকু সবাই পড়ে নিলে পারস্পরিক অনলাইন সামাজিক আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে বোধ হয় আমরা আর এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াবো। অন্তত, এগোবার চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?

লেখার কথা ছিল ইনটলারেন্স নিয়ে। অসহিষ্ণুতা। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব, বুঝতে পারছি না, তাই একেবারে রিসেন্ট ঘটনা দিয়েই শুরু করি, তার পরে দেখি, লেখা আমাকে কোথায় নিয়ে যায়।

আমীর খান। কদিন আগে একটা ইন্টারভিউয়ে কিছু মতপ্রকাশ করলেন, দেশজুড়ে চলা ইনটলারেন্সের আবহাওয়া নিয়ে – সোশাল মিডিয়ায় একেবারে ঝড় বয়ে গেল। ঝড় এখনও থামে নি, তবে তীব্রতা গতকাল থেকে দেখছি, একটু কমেছে। এখন, আমরা, মনুষ্যজাতিরা, খুব লুজলি বলতে গেলে, সেই সমস্ত জিনিস বিশ্বাস করি – যেগুলো আমরা বিশ্বাস করতে ভালোবাসি, বা যেগুলো বিশ্বাস করা আমাদের কাছে কনভিনিয়েন্ট লাগে। এবং যে কোনও ঘটনা পড়ার সময়েই আমরা নিজেদের অজান্তে মনের মধ্যে একটা পক্ষ অবলম্বন করে নিই, আর সেই পক্ষের সপক্ষে যুক্তি সাজাতে থাকি। ধরুন, আমি বললাম, ভারতে ইনটলারেন্স বাড়ছে। ফলে, আমীর খানের বক্তব্য আমি সমর্থন করি। আর আপনি বললেন, কোথায় বাড়ছে? আলাদা করে ইনটলারেন্স কোথাও ছিল না, এখনও নেই, ফলে আমীর খানের এই বক্তব্য কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

দুজনেই ঠিক। আপাতভাবে, আমাদের কারুর কাছে সম্পূর্ণ স্ট্যাটিসটিক্স নেই নিজের নিজের বক্তব্যকে সাপোর্ট করবার। আমরা কেবল, খবরটা পড়বার সময়ে একটা করে পক্ষ অবলম্বন করেছিলাম, নিজের নিজের বোধবুদ্ধি বিচারশক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। দুজনেই হয় তো নিজের নিজের পয়েন্টে ঠিক। পুরোটাই ডিপেন্ড করছে আপনি কীভাবে ঘটনাটাকে দেখছেন। ধরুন, স্ট্যাটিসটিক্সের কথাই যদি ধরি, তো বলব, বিজেপির জমানায় গত এক বছরে কম্যুনাল ভায়োলেন্সের সংখ্যা কমে গেছে। স্ট্যাট অনুযায়ী একদম ঠিক কথা। কিন্তু এইবারে যদি ঘাঁটতে বসি, ভায়োলেন্স বলতে সরকারী পরিসংখ্যান কী বোঝে, তা হলেই দেখবেন, সাদা আর কালোর মধ্যে অনেকগুলো রঙ বেরোচ্ছে। একটা রিপোর্ট পড়ছিলাম সেদিন হিন্দুস্তান টাইমসে, যে ঘটনায় পাঁচজনের কম লোক মারা যান বা দশজনের কম লোক আহত হন, সেটাকে “সিরিয়াস ইনসিডেন্ট” হিসেবে দেখা হয় না সরকারি মতে। সেগুলো মাইনর বা স্ট্রে ইনসিডেন্ট। সেই হিসেবে মুজফফরনগর একটা কম্যুনাল ভায়োলেন্সের উদাহরণ, কিন্তু দাদরিতে মহম্মদ আখলাকের নির্মম হত্যা – স্ট্রে ইনসিডেন্ট। পানসারে, কালবুর্গী, দাভোলকর – প্রত্যেকের হত্যাই স্ট্রে ইনসিডেন্ট, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোনও বড় ঘটনা নয়। নয় সুধীন্দ্র কুলকার্নির ওপর কালি নিয়ে আক্রমণ, নয় গুলাম আলিকে মুম্বইতে অনুষ্ঠান করতে না দেবার ঘটনাও। এর প্রতিটাই, মাইনর বা স্ট্রে ইনসিডেন্ট।

কয়েকটা স্ট্রে ইনসিডেন্টের বেসিসে আপনি বলতেই পারেন – মেজর তো কিছু হয় নি। এই কটা উদাহরণ দিয়ে,  দেশে ইনটলারেন্স বাড়ছে, এমন কথা বলা যায় নাকি? দেশ ছেড়ে চলে যাবার কথা বলতে পারে আমীর খান? এতটা হিম্মত? এই আমরাই ওকে মাথায় তুলেছি, সুপারস্টার বানিয়েছি – আজ ও ফরনাথিং আমাদের দেশকে অপমান করার সাহস পেল কী করে? … আমার বন্ধুর লিস্টে আছেন এক ব্যক্তি, তিনি সরাসরি প্রশ্ন করলেন ব্যঙ্গ  করে – তো, কোন মুসলিম দেশে যাবার কথা ভাবছে আমীর খান? কোন মুসলিম দেশ ওর কাছে ভারতের থেকে নিরাপদ লাগছে?

উনি একা নন, আরও অনেকেই এই লাইনে প্রশ্ন করেছেন। অনুপম খেরও তাঁদের মধ্যে একজন। কোন দেশে যাবার কথা ভাবছেন আমীর?

… মনে পড়ল, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হবার পরে এক বিজেপি সমর্থক একটা জোক শেয়ার করেছিলেন, সেটা ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। এক সাংবাদিক মোদীকে জিজ্ঞেস করছেন, অ্যাপল না অরেঞ্জ, কোনটা বেশি পছন্দ আপনার? মোদী বললেন, অ্যাপল। পরদিন খবর বেরলো, মোদী ডাজ নট লাইক অরেঞ্জ। কংগ্রেস তার ইন্টারপ্রিটেশন করল, মোদী লাইকস অ্যাপল, অ্যাপল ইজ রেড, দ্যাট মিনস, হি লাভস রেড কালার, মিনস, হি লাভস ব্লাড।

এঁদের প্রতিক্রিয়াও অনেকটা এই রকমই। এঁরা সম্ভবত কেউ ঠিকমত শোনেনই নি আমীর কী বলেছিলেন। (এইখানে একটা কথা জানিয়ে রাখি, আমি আমীরের অ্যাডমায়ারার, ওর ইন্টেলেক্টের। অন্ধ ভক্ত বলতে যা বোঝায়, আমি সে দলে নই) আমীর অ্যাকচুয়েলি কী বলেছিলেন, সেটা আমি এখানে আর রিপিট করছি না, আমীর নিজেই পরদিন তার এক্সপ্ল্যানেশন দিয়েছেন। কিন্তু বিতর্ক তাতে থামে নি, কেউ একবারের জন্যও ফিরে ভাবে নি, সত্যি তো, আমীর “দেশ ছেড়ে যাবো” এমন কথাটা তো কখনও বলেনই নি!

কেউ ভাবেন নি। ভাববেন না, কারণ, বিশ্বাস। মনের মধ্যে বিশ্বাস জন্মে গেছে – শালা মুসলমান, যতই দেশের খাক, দেশের থেকে সম্মান পাক, সুযোগ পেলেই দেশকে বেইজ্জত করতে পিছপা হবে না। মুসলমানের জাত কিনা!

এঁরা কেউই সেই অর্থে ট্র্যাডিশনাল মুসলমান হেটার নন। কিন্তু একটা বিশ্বাস জন্মাবার পেছনে অনেক রকমের কারণ থাকে, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অ্যানেকডোট, দেশভাগের যন্ত্রণা সহ্য করে বেঁচে থাকা বাবা-মায়ের পরবর্তে প্রজন্ম, ঘৃণা অনেকরকম ভাবে চারিয়ে আসে, থেকে যায় অবচেতনে।

গল্পটাকে একটু ঘুরিয়ে দেখা যাক, ধরুন, আমি, শমীক মুখার্জি, আমীর খানের লেভেলের একটা বড় অ্যাক্টর, এবং দেশের বিভিন্ন ঘটনায় বা আমার জীবনেও কিছু ঘটনায় আমার মনে হয়েছে দেশ জুড়ে ইনটলারেন্স বাড়ছে, আমার স্ত্রী আমাকে বললেন, শুড উই লিভ দিস কান্ট্রি? – আর আমি কোনও পাবলিক ডিসকাশন ফোরামে সেইটা ন্যারেট করলাম।

কতজন বলবেন, শালা হিন্দুর বাচ্চা, যতই দেশের খাক, সুযোগ পেলেই দেশের বেইজ্জতি করবে। হিন্দুর জাত কিনা! তা, শমীক কোন হিন্দু কান্ট্রিতে রিফিউজ নিচ্ছে?

গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, একজনও বলবে না। কেউ এই লাইনে ভাববেই না। আসলে, আবারও সেই কথায় ফিরে আসি। আমরা সেটুকুই বিশ্বাস করি, যেটুকু বিশ্বাস করায় আমরা কমফর্টেবল ফীল করি। আমরা প্রত্যেকে একটা ঘেটো, একটা ককুনের মধ্যে বাস করি, সে আপনি মানুন আর না-ই মানুন, আপনিও বাস করেন, স্যার, আপনিও, ম্যাডাম, আপনিও। এই ঘেটো আমরা আমাদের কনভিনিয়েন্স অনুযায়ী বানিয়ে নিই, লাইক মাইন্ডেড, লাইক কালচার্ড মানুষদের নিয়ে। হিন্দুরা ঘেটো বানায় হিন্দুদের মধ্যে, সেখান থেকে মুসলমানদের সমস্ত খারাপগুলো দেখা যায়, কিন্তু হিন্দুধর্মের, বিশেষ করে নব্য-হিন্দুত্বের কিচ্ছুটি খারাপ নজরে আসে না। উল্টোদিকটাও সত্যি মুসলমান ঘেটোর জন্য। সেখানে জমে থাকে বড় পরিমাণ হিন্দুবিদ্বেষ। দিল্লিওয়ালারা ‘মানুষ’ হিসেবে ইন জেনারেল কতটা খচ্চর, সেটা দিল্লিওয়ালারা নিজেরা বোঝে না, বুঝতে পারে না, সেটা বুঝতে পারি আমরা, যারা ভারতের অন্য প্রান্ত থেকে এসে বাসা বাঁধি দিল্লিতে এবং দিল্লির ঠগবাজদের এবং খিস্তিবাজদের সঙ্গে দৈনিক সামাজিক আদানপ্রদানে বাধ্য হই। ঠিক তেমনি বাঙালিদের জেনারেল খচরামোও আম-বাঙালি বুঝতে পারে না যতক্ষণ সে বাংলার মধ্যে থাকে। বাংলা থেকে বেরোলে বোঝা যায় বাঙালির হিপোক্রিসি – আমরা পাঞ্জাবিদের পাঁইয়া বলি, মাড়োয়ারি মাউড়া, আর নন্‌-কমিউনাল দেওয়াল লিখি ক্যালকাটা টু হাওড়া। আমাদের বগল-ভরা স্ট্রাগল আছে, ছাগল-ভরা মাংস, তাই চাড্ডি পরে শোধ করে যাই লোনেরই ভগ্নাংশ।

দেশপ্রেম একটা অলীক স্বপ্নের নাম। ফুলটু মস্তির সিনেমাহল-এ আচমকা জাতীয় সঙ্গীত বাজলে উঠে দাঁড়াতেই হবে আপনাকে, নইলে আপনি দেশদ্রোহী তকমা পেয়ে যেতে পারেন হাতে হাতে। কেউ যদি জাতীয় পতাকার ডিজাইনে বিকিনি বা সুইমিং কস্ট্যুম বানিয়ে পরে, অমনি গেল-গেল রব ওঠে। অঞ্চলপ্রেম, রাজ্যপ্রেম, শহরপ্রেমের জন্য সংবিধানে তেমন আইনকানুন নেই। কিন্তু দেশপ্রেমের জন্য কড়া আইন। মহামতি বুশ সাহেব সেই যে বলে গেছিলেন, হয় তুমি আমার দলে, নয় তুমি আমার বিপক্ষে, সেই নীতি চলে এ দেশেও। হয় দেশপ্রেম ফুটে ফুটে বেরোবে তোমার কথায়, তোমার ফেসবুকের পোস্টে, নইলে শালা তুমি দেশদ্রোহী।

স্টেট গভর্নমেন্টের টাকায় বিনামূল্যে পড়াশোনা করেছি পশ্চিমবঙ্গে, প্রাইমারি স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত, কিন্তু চাকরি করার সময় মনে হল পশ্চিমবঙ্গ থাকার যুগ্যি জায়গা নয়, সত্যিকারের কাজ করা জনতার প্রতি পশ্চিমবঙ্গের কালচার আদপেই টলারেন্ট নয়, তাই চাকরি করার সময়ে আমি অবলীলায় আমার শহর ছেড়ে, আমার রাজ্য ছেড়ে চলে গেলাম দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, মুম্বাই। কেউ বলল না, ব্যাটা রাজ্যদ্রোহী, এই রাজ্য ওকে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করল, আর কেমন রাজ্যের মুখে লাথি মেরে দিল্লি চলে গেল। বাংলা মা-কে এতটুকু ভালোবাসা দেখালো না।

না স্যার। এই আইনের চোখরাঙানিতে বাধ্যবাধকতার ভালোবাসা আমার আসে না। আমি এই দেশে জন্মেছি, সেটা আমার চয়েস ছিল না। এটা জাস্ট একটা ফ্যাক্ট। তার জন্য দেশের প্রতি অন্ধ প্রেম আমি দেখাতে পারব না। এখানে এই দেশে জন্মেছি, বড় হয়েছি, হ্যাঁ, অনেক স্মৃতি আছে, নস্টালজিয়া আছে, হয় তো সেইগুলো আমাকে টেনে রাখে এই দেশটার প্রতি, কিন্তু যে কোনওদিন বেটার জীবনযাপনের অপশন পেলে আমি অন্য দেশে গিয়ে সেটল করতে পারি। যে কোনও দিন। দেশপ্রেম আমার সেই সিদ্ধান্তে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ইন ফ্যাক্ট, প্রতি বছর হাজারে হাজারে ভারতীয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেন, সেটল করছেন, ঠিক যেভাবে আমি হুগলির ছোট টাউন ছেড়ে চলে এসেছি দিল্লি মহানগরে।

আমরা সবাই মাইগ্রেট করি। জীবিকার প্রয়োজনে, বেটার জীবনযাপনের প্রয়োজনে, অন্য কোনও প্রয়োজনে। অনেকেই থেকে যাই। প্রত্যেকেই তার নিজের জীবনদর্শন, নিজের যুক্তিবিন্যাসের দিক দিয়ে ঠিক। আমরা কোন যুক্তিবিন্যাসকে গ্রহণ করব, কোনটাকে বর্জন করব, এগুলো নির্ধারণ করে আমাদের আভ্যন্তরীণ চিন্তাপ্রক্রিয়া। এক শহরে, একই পাড়ায় একসাথে বেড়ে ওঠা দুটি লোকের যুক্তিবিন্যাস সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর হতেই পারে। এবং একটা গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের নিজের মত, নিজের যুক্তিপ্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করার অধিকার আছে।

এই কথাটুকু যদি সবাই মেনে নিতে পারত, তা হলে হয় তো অশান্তি খুব একটা থাকত না। কিন্তু ভিন্নমতকে মেনে নেওয়াটা খুব কঠিন। সবাই পারে না। ইতিহাস বার বার দেখিয়েছে, দেখিয়ে চলেছে। মমতা ব্যানার্জি পারেন না, নরেন্দ্র মোদী পারেন না, অনুপম খের পারেন না, আইসিস পারে না, মাওবাদীরা পারে না, এক সময়ের নকশালরা পারত না, তামিল টাইগাররা পারে না, অসমের আলফা জঙ্গীরা পারে না। শিবসেনা পারে না, আরএসএস পারে না, জামাতে ইসলামীও পারে না। একটা দল, একটা ব্যক্তি যখন মনে করে, তার আইডিওলজি, তার মতই সুপিরিয়র, সে চেষ্টা করে বাকি সবাইকে তার মতে সাবস্ক্রাইব করাতে, চেষ্টা করে ভিন্নমতকে চুপ করাতে। হিটলার থেকে চারু মজুমদার হয়ে ইন্দিরা গান্ধী পেরিয়ে আবু বকর আল বাগদাদি, সব্বাই এই পন্থাই অবলম্বন করেছেন। যার হাতে যখন ক্ষমতা, তিনি বা তাঁরা তখন চেয়েছেন ভিন্নমতকে চুপ করিয়ে দেবার, প্রশ্ন উঠলে বলেছেন, কোথায় অসহিষ্ণুতা? সবই তো ঠিকঠাক চলছে!

সবই ঠিকঠাক চলে, শুধু চুপিসাড়ে খুন হয়ে যান কালবুর্গি, পানসারে, দাভোলকারেরা। আমরা চুপ করে থাকি, সকালবেলায় চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খবরের কাগজে পাতা ওল্টাই, আর মনে মনে ভাবি, যাক বাবা, আমি তো সেফ। কী দরকার এইসব ব্যাপারে ভোকাল হবার? সুখে থাকতে ভূতে কিলনোর? চারপাশে সব্বাই তো কেমন স্রোতে গা ভাসিয়ে চলছে, আমার কী দরকার ভিন্নমত জোরগলায় তুলে ধরবার? যেটা মানি, সেটা মনের মধ্যে রাখলেই তো হয় – তা হলেই আর ইনটলারেন্স দেখতে হয় না।

ঠিক কথা। কী দরকার আলাদা আওয়াজ তুলে “চিহ্নিত” হয়ে যাবার? যেটা মানি –

এইখানেই হয়ে যায় গোলমাল। আমরা কতটা মানি, আমাদের মানার পরিধি কতটা? সেটা তো সবার জন্য এক নয়! আমি যে এই কবিতাটা ভীষণভাবে মানি! আর এটাই যে আমাকে চুপ থাকতে দেয় না!

প্যাস্টর মার্টিন নিলেময়নার-এর কবিতা, সেই ১৯৫০এর দশকে লেখা – পড়েছেন?

First they came for the Socialists, and I did not speak out—
Because I was not a Socialist.

Then they came for the Trade Unionists, and I did not speak out—
Because I was not a Trade Unionist.

Then they came for the Jews, and I did not speak out—
Because I was not a Jew.

Then they came for me—and there was no one left to speak for me.

[প্রথমে ওরা এসেছিল সোস্যালিস্টদের খুঁজে বের করতে, আমি কিছু বলি নি –
কারণ, আমি তো সোস্যালিস্ট নই।

তারপরে ওরা এল ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের খুঁজতে, আমি কিছু বলি নি –
কারণ, আমি তো ট্রেড ইউনিয়নিস্ট নই।

তার পরে ওরা এল ইহুদীদের খুঁজে বের করতে, আমি কিচ্ছুটি বলি নি –
কারণ, আমি তো ইহুদী নই।

আজ ওরা এসেছে আমাকে ধরতে, আজ আমার হয়ে কথা বলবার জন্য আর কেউ নেই। ]

আমি জানি, যেদিন আমার দিন আসবে, আমার হয়ে কথা বলার জন্যেও খুব বেশি কেউ থাকবে না, তবু এই কবিতাটা আমাকে চুপ থাকতে দেয় না। আমি ইহুদী নই, আমি আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী নই, আমি বিজেপির দেশব্যাপী গেরুয়াকরণের সমর্থক নই, আমি রামমন্দিরের সমর্থক নই, আমি ধর্মের নামে খাদ্যাভ্যাসের নামে একটি মানুষেরও খুনের সমর্থক নই, আমি ভিএইচপির নয়া হিন্দুত্ববাদের সাবস্ক্রাইবার নই – কিন্তু শুধু এই “আমি নই”টুকুকে মনের মধ্যে গোপন রাখতে পারি না, আমার মূল্যবোধ, আমার ভ্যালুজ তাকে লুকিয়ে থাকতে দেয় না। আমি তাই বলি। গলা ফাটাই।

রাস্তায় নামি নি আজও। আমি খুব সাধারণ, ঘরোয়া, দুর্বল একটা মানুষ, কিন্তু সোশাল নেটওয়ার্কে গলা ফাটাই। প্রতিবাদ করি। নিজের মত ব্যক্ত করি। আমি জানি, আমাকে কাত করার জন্য একটা লোকের একটা হাতই যথেষ্ট, তবু আমি থামতে পারি না।

হাত ওঠে নি? না, ফিজিকালি আজও কেউ আমাকে আক্রমণ করে নি দেশজোড়া পপুলার মতাদর্শের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য, কিন্তু ভার্চুয়ালি? যথেষ্ট হয়েছে। নয়ডাতে একটা ফ্ল্যাট কিনেছিলাম, সেইখানে আমার হলেও-হতে-পারতেন এক প্রতিবেশি, শ্রী যতীন ধাওয়ান, সুপ্রিম কোর্টের ক্রিমিনাল লইয়ার, আমার সাথে দীর্ঘদিনের পরিচিতি তাঁর, আমাকে ভয়ঙ্করভাবে আক্রমণ করেছিলেন খোলাপাতায়। আমি তাঁর “ভাবাবেগে” আঘাত করেছি, আমি হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করেছি, আমি রোমে থেকে যেন রোমানদের মত হয়েই চলি, নইলে “কনসিকোয়েন্সের” জন্য যেন প্রস্তুত থাকি, অথবা আমি পাকিস্তানে চলে যেতে পারি।

এর পরে তাঁকে আমি বন্ধুর তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হই, কিন্তু ভার্চুয়ালি বাদ দিলে তো থ্রেটনিংগুলো মিথ্যে হয়ে যায় না!

পাকিস্তানে যাবার সুপরামর্শ আপনারা আজকাল শুনছেন, আমি এই গত দেড় বছর ধরে অনেকবার পেয়ে এসেছি। ২০১৪র নির্বাচনের সময় থেকেই ভারত কেমন একটা অদ্ভূত রকমের পোলারাইজড হয়ে গেছে, যে বা যারা নরেন্দ্র মোদীর সমর্থন করবে না, তারা দেশের শত্রু, তারা দেশের বিকাশ চায় না, তাদের অবিলম্বে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। বিজেপি জেতার পরে উল্লসিত অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, আমি কবে পাকিস্তান যাচ্ছি। সেই প্রশ্নকারীদের মধ্যে আমার কলেজের সহপাঠী, স্কুলের সময়কার বন্ধু কিংবা পরে হওয়া অল্পপরিচিত ব্যক্তিও আছেন, এই শ্রী যতীন ধাওয়ান তাঁদের মধ্যেই একজন।

শুধু এই দেশ থেকে নয়, বাংলাদেশের এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থেকেও মাঝেসাঝে আমার কাছে হুমকি আসে, দিল্লিতে আমাকে ট্রেস করে আমাকে খুন করা নাকি তাদের কাছে কোনও ব্যাপারই নয়। হুমকি আসে, কারণ, একটি ভার্চুয়াল কমিউনিটির আমি সদস্য, সেখানে প্রচুর বাংলাদেশের বাসিন্দাও আসেন, লেখেন, এবং তাঁদের অনেকেই গোঁড়া ইসলামিক ধ্যানধারণার বাহক। এবং যে কোনও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে আরও দশজনের মত আমিও সরব।

এখন, এতে এত ভয় পাবার মত কিছু নেই, কারণ এই ধরণের হুমকি আমি একা নই, আমার মত অনেকেই পেয়ে আসছেন, যাঁরাই আমার মত সরব থাকেন, কারুর সাথেই কোনও ক্ষতিকর ঘটনা ঘটে নি। দেশের বাইরের এলিমেন্টদের নিয়ে আমি ঠিক ততটা চিন্তিত নই, যতটা চিন্তিত এই দেশের গোঁড়া উগ্রবাদী মানুষজনদের ব্যাপারে।

সম্প্রতি গাড়ি চালিয়ে ঘুরে এলাম দিল্লি থেকে কলকাতা। দীর্ঘ পথের অনেকটা গল্প করতে করতে চলেছিলাম আমার স্ত্রী-র সঙ্গে। আমার স্ত্রী অনেক বিষয়েই আমার সঙ্গে একমত হন, কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন, আমি সমস্তকিছুকেই সম্মান করি এবং আমরা দুজনেই বিশ্বাস রাখি যে, বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও আমরা দুজন এক ছাদের তলায় সারাজীবন শান্তিতে বাস করতে পারি।

আমার মতাদর্শকে উনি সম্মান করেন, কিন্তু আমার সোশাল নেটওয়ার্কে ভোকাল হওয়াকে, এই ভার্চুয়াল প্রতিবাদী চরিত্র মেনটেন করাকে উনি সমর্থন করেন না। সেটা মূলত আমার নিরাপত্তার কথা ভেবেই। কথায় কথায় আমাকে বলছিলেন – আমি কেন খোলা পোস্টে এ-সব লিখি – আমি গোরুর মাংস খাই, আমি কেন আমার প্রোফাইলের ছবিতে লিখে রেখেছি, ভার্চুয়ালি পরিচিত হওয়া মাত্রই আমার বন্ধু সবাই নন, আমি কেন আরেসেস সাপোর্টারদের চাড্ডি-চাড্ডি বলে মক্‌ করি – এই সব কথাতেই উঠে এল, কেহ বা কাহারা (আমি জানি সে বা তাঁহারা কারা, জাস্ট খোলাপাতা বলে নাম নিচ্ছি না, তবে তাঁরাও আমার বন্ধু লিস্টে আছেন) তাঁর কাছে আমার সম্বন্ধে কনসার্ন ব্যক্ত করেছেন। শমীকদা কেন এসব লেখে, তুমি একটু বারণ করতে পারো না, অনেকেই অফেন্ডেড হয়, কী দরকার জেনেবুঝে এই সব কমিউনিটির লোকজনদের কাদায় পা গলানোর।

কনসার্ন মহৎ উদ্দেশ্যে, সন্দেহ নেই, কিন্তু এই লেভেলের কনসার্ন জানতে পেরে আমি, সত্যি বলতে কি, হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমাকে লিখতে বারণ করবার জন্য কেউ আমার স্ত্রী-কে অ্যাপ্রোচ করতে পারে, এটা আমার কল্পনায় ছিল না। আমার স্ত্রী-র একটা ফেসবুক প্রোফাইল আছে, কিন্তু তিনি সেটা কখনও খুলেও দ্যাখেন না, অনলাইনে তাঁর বিন্দুমাত্র প্রেজেন্স নেই। কিন্তু যে বা যাঁরা এই কনসার্নগুলো আমার স্ত্রী-কে জানিয়েছেন, তাঁরা তো আমার বন্ধু লিস্টেও আছেন, সরাসরি কেন তাঁরা আমাকে বলতে পারলেন না, এই কথাগুলো? একটা খোলাখুলি আলোচনা করার স্কোপ তো থাকত। আমি কোনও মতাদর্শেই গোঁড়া নই, তাদের কথায় যুক্তি থাকলে আমি নিশ্চয়ই মেনে নিতাম – কিন্তু আমার স্ত্রী-কে কেন? … জানলাম, শমীকদার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে নাকি তাঁদের “ভয়” লাগে, তাই –

এই শুভানুধ্যায়ীরা আমার যথেষ্ট প্রিয়জন, সময়ে সময়ে আমি তাঁদের কাছ থেকে অজস্রবার উপকৃত হয়েছি, তবু সত্যের খাতিরে আজ এটুকু না জানালেই নয় যে, তাঁদের এই প্রচেষ্টা আমি সম্মানের চোখে দেখতে পারি নি। এখনও মনে করলে তাঁরা সরাসরি আমার সাথে, মুখোমুখি বসে বা ভার্চুয়ালি আলোচনা করতে পারেন। মতে মিলবে এমন কথা নেই, কিন্তু না মিললেও আমি শুনতে আগ্রহী, বলতে আগ্রহী। আমি সবসময়েই সরাসরি ডায়ালগে বিশ্বাসী। কিন্তু আমাকে “ভয়” করে নামক একটি অলীক কারণ দেখিয়ে আমার অবর্তমানে আমার অনলাইন অ্যাকটিভিটির বিষয়ে আমার স্ত্রী-কে জ্ঞাত করা – এটাকে সহজ সরল ভাষায় “চুকলি কাটা” বলে। আর চুকলি কাটা-কে আমি ভয়ঙ্কর অপছন্দ করি।

অনেক লম্বা, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লিখে ফেলছি। ছোট করে শেষকরা দরকার এইবারে। … তা হলে কী দাঁড়াল? অসহিষ্ণুতা আছে, না, নেই? দেশ নিরাপদ, নাকি দেশ ছেড়ে যাওয়াটা নিরাপদতর?

এক কথায়, আবারও, এর উত্তর হয় না। যে বা যিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন, তাঁর জায়গায় নিজেকে প্লেস করে দেখার চেষ্টা করুন, অনেক কিছু দেখতে পাবেন। মহম্মদ আখলাকের বাড়ির ফ্রিজে গরুর মাংস রাখা থাকতে পারে – শুধুমাত্র এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাঁকে পিটিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হল। কারা মারল? তাঁর সারাজীবনের প্রতিবেশিরা। এইখানটাতে আমি আখলাকের সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারি, কারণ আমি সত্যিই গরুর মাংস খাই। দিল্লিতে কখনও খাবার সুযোগ আসে নি কারণ এখানে বিক্রিই হয় না, কিন্তু কলকাতায় বা ভারতের বাইরে অন্যান্য দেশে গিয়ে যথেষ্টই খেয়েছি। ভারতে এমন বহু লোক গরুর মাংস খান, যাঁরা ধর্মপরিচয়ে হিন্দু। কোনও একটি প্রাণীর মাংস খাবার সাথে ধর্মের সত্যিই কোনও যোগ নেই। এটা নিতান্তই আঞ্চলিক খাদ্যাভ্যাস।

আমি শুওরের মাংসও খাই, এবং আমি এমন কিছু লোককে জানি, যাঁরা শুওরের মাংস খান – নামচিহ্নে মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও। কিন্তু শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে কারুর যখন প্রাণসংশয় ঘটে যায়, তখন আমার মনে পড়ে যায় ওপরে দেওয়া ওই কবিতাটা – ওকে মারছে বলে আমি যদি আওয়াজ না ওঠাই, যেদিন আমাকে মারতে আসবে, সেদিন আমার জন্যে আওয়াজ তোলার জন্যেও কেউ থাকবে না। থাকবে কিনা জানি না, অন্তত এইটুকু জেনে যেতে পারব, জানিয়ে যেতে পারব, আমি চুপ করে থাকি নি অন্যের ওপর ঘটা অন্যায়ের সময়ে।

আমি সংখ্যালঘু। যাঁরা আমাকে ভাল করে চেনেন, তাঁরা জানেন এ কথা, কিন্তু অনেকেই জানেন না। শমীক মুখার্জি, সে আবার সংখ্যালঘু কী হিসেবে হয়? … আজ্ঞে হ্যাঁ, আমি সংখ্যালঘু। কারণ নাম পড়ে আমাকে হিন্দু ব্রাহ্মণ বলে মনে হলেও, আমি হিন্দু বা ব্রাহ্মণ নই। অন্তত আমার নিজের সেই পরিচয়ে আমি সাবস্ক্রাইব করি না। করি নি আজ পর্যন্ত। আমি নাস্তিক, ঈশ্বরহীন, ধর্মহীন। ভারতের সংবিধান সব ধর্মকে সমান চোখে দেখার আদেশ দিয়েছে, কিন্তু ধর্মহীনদের নিয়ে কিছু লেখে নি, তাদের প্রোটেকশনের ব্যাপারে কিছু লেখা নেই সংবিধানে। কারণ, সংবিধান-প্রণেতারা ভাবতে পারেন নি, ধর্ম-পরিচয়ের বাইরে থেকেও কোনও মানুষ জীবন কাটাতে পারে।

আজও পারেন না। বেশির ভাগ লোকই বুঝতে পারেন না। তুমি যদি নাস্তিক তো নামের শেষে মুখার্জি পদবি লাগাও কেন? তুমি যদি ধর্মহীন তো দুর্গাপুজোয় চাঁদা দাও কেন?

বহুবার এসব নিয়ে লিখেছি, নতুন করে লিখে প্রমাণ করবার কিছু নেই। সত্যি কথা বলতে, কারুর কাছে জবাবদিহি করে তো আমি আলাদা করে কিছু অ্যাচিভ করছি না। আমি তো জোর করে কাউকে আমার মতাদর্শে সাবস্ক্রাইব করাতে যাচ্ছি না। ঠিক যেমন অনুপম খেরের প্রশ্নের জবাবদিহি করে আমীর খানের আলাদা কিছু অ্যাচিভমেন্ট ঘটবে না। আপনার যেমন অধিকার আছে আপনার নিজস্ব বিশ্বাস নিয়ে থাকার, সে আপনার তাত্ত্বিক বিশ্বাস হোক বা ধর্মবিশ্বাস, আমারও ঠিক ততটাই অধিকার আছে আমার নিজের বিশ্বাস নিয়ে থাকার – বন্ধুত্বপূর্ণ স্বাভাবিক প্রশ্ন সবসময়েই কাম্য, একে অপরের বিশ্বাসের বা অবিশ্বাসের ব্যাপারে,কিন্তু যখনই আপনি – আপনি-টা এখানে প্লেসহোল্ডার – যে কেউই যখন মনে করে আমার মতটাই ঠিক, আমার বিশ্বাসই শ্রেষ্ঠ, জগতের সমস্ত সমস্যার সৃষ্টি সেইখান থেকেই হয়। সেইখানে আসে অসহিষ্ণুতা।

অসহিষ্ণুতা সম্বন্ধে বুঝতে গেলে, অসহিষ্ণুতাকে দেখতে গেলে আপনাকে সংখ্যালঘু হতে হবে। সংখ্যালঘুর জুতোয় পা গলাতে হবে। যতক্ষণ না সেই জায়গায় নিজেকে দাঁড় করাতে পারছেন, ততক্ষণ আপনার চারপাশে সবকিছু শান্তিকল্যাণময় মনে হবে। আপনাকে চুরাশি সালের দিল্লিতে শিখ হতে হবে, নব্বইয়ের দশকের কাশ্মীরি পণ্ডিত হতে হবে, যে কোনও সময়ের ভারতে একজন সাধারণ মুসলিম হতে হবে, আপনাকে নাস্তিক হতে হবে ধর্মবিশ্বাসীদের ভিড়ে, দেশজোড়া মোদী-ওয়েভের মধ্যে দাঁড়িয়ে মোদীর দিকে আঙুল তুলতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে গুজরাত দাঙ্গায় তার ভূমিকার কথা নিয়ে, তবে বুঝবেন ইনটলারেন্স কাকে বলে।

আমরা সবাই কমবেশি ইনটলারেন্ট, বিভিন্ন বিষয়ে। কোনও ইনটলারেন্স হয় তো তেমন ক্ষতিকর নয়, কোনও ইনটলারেন্স অনেক বেশি ক্ষতিকর। কোনও অসহিষ্ণুতা সারাজীবন আমরা বয়ে বেড়াই, আর পাঁচটা মেন্টাল ব্যাগেজের মত, কোনও অসহিষ্ণুতা আমাকে প্রতিপদে মনে করিয়ে দেয়, আমি সংখ্যালঘু, আমি এ দেশে নিরাপদ নই। তসলিমা নাসরিন, সালমন রাশদি, মকবুল ফিদা হুসেন এঁরা প্রত্যেকে বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের ইনটলারেন্সের শিকার। এঁরা সেলিব্রিটি, তাই এঁদের যুদ্ধগুলো খবরে আসে, আপনার আমার যুদ্ধ খবরে আসে না, আসবে না।

যুদ্ধ তাই বলে থেমে থাকে না। লড়ে যেতে হয় প্রত্যেককে, তার নিজের লড়াই। এ যুদ্ধে ফাইনাল হারজিত বলে কিছু নেই। আবহমান কাল ধরে চলতে থাকে এই লড়াই আর লড়াই থামাবার প্রচেষ্টা। আমি লড়াই থামাবার পক্ষে।

আপনি?

Advertisements

16 thoughts on “ইনটলারেন্স নিয়ে কিছু কথা

  1. সাব্বাশ…একদম হক কথা লিখেছো…আমারও এমনটাই মনে হয় যে আমরা যারা অন্যরকম ভাবি…অন্যরকম বাঁচি…অন্ততঃ চেষ্টা করি…আমরাই আসলে সংখ্যালঘু…তবে একেবারে শেষের লাইনটা একটু বিভ্রান্তিকর ঠেকছে…!!!!

    Like

  2. বিভ্রান্তি কেন? লড়াই অনন্তকাল চলে যাওয়াটা তো কোনও কাজের কথা নয়। অনর্থক এনার্জির খরচা। অন্যমতের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে দেশটা তো দরকারি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে পারে।

    Like

  3. মতামত প্রকাশ করে যান। মতামত প্রকাশ করে যান। এবং মতামত প্রকাশ করে যান। কিন্তু করতে পারবেন না। কিছু করতে পারবে তারাই, যারা লড়াই করতে পারবে। তাদেরকেও অবশ্য আপনি ‌‌খিচুড়ির ম‌ধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ইন্দিরা, চারু মজুমদার মিলে মিশে একাকার। ফলাফল, হাতে একটি নেভা হারিকেন। এই ধরনের লেখা দিয়ে ব্লগ আর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গরম করে লাইক পাওয়া ছাড়া আর কিছু হয় না। বরং বুশ তার নিজের বক্তব্যে অনেক বেশি সৎ। এটা একটা যুদ্ধ। এখানে দুর্বলের কোনও স্থান নেই। যতক্ষণ না সমাজের উৎপাদনকারী মানুষেরা তাদের ‌‌ উৎপাদিত সামগ্রীর ভোগের ‌‌ অধিকার পাচ্ছে, ততদিন এই যুদ্ধ চলবে। নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে লড়াই চাই না বলে কোনো লাভ নেই কারণ যারা শাসনক্ষমতায় বসে শোষক চালাচ্ছে, তারা বিনা যুদ্ধে জায়গা ছেড়ে দেবে না ।

    Liked by 1 person

  4. Bangla font nei apar friend list eo naam nei amar, Tao likhchi apnake . Ami anek ta ekmyot, kichu bishoy chara. Amar mone hoy everything is media hype. Everyone is politically movitated. And everyone has got their vested interest, in this intolerance issue. Staying Gujarat for so many years and contributed for infrastructure development of Gujarat, I have watched closely Mr. Modi. A terrific statesman and a terrific motivator. And I do believe sooner or later this Man will deliver. Ar roilo baki intolerance er katha, Bharatbarsho Shab shamay tolerant Sir. Ami apni jebhabey pari amader katha boltey pari. Ami very tolerant attitude niye anpar puro lekha porlam. Eijey apni etohkichu akopotey likhlen, etai shabthekey baro shohishnuta . Yes there are problems, May be my country is not the best. I believe my country is tolerant Sir. Valo thakben . Keep smiling Sir.

    Like

    1. অনেক ধন্যবাদ, মন দিয়ে লেখাটা পড়ার জন্য, জয়বাবু। আপনার মন্তব্যটা অনেকগুলো আলোচনার মুখ খুলে দেয়, কিন্তু এই পরিসরে বোধ হয় আলোচনা করা সম্ভব হবে না। এটুকু জানাই, আমাদের দুজনকার দেখার চোখ আলাদা, হয় তো সেইজন্যই বিচারবোধও আলাদা, আমরা একমত সে জন্যেই হতে পারছি না। দেশ সহিষ্ণু, এ ব্যাপারে আমার দ্বিমত নেই, কিন্তু মোদীর জমানায় দেশে অসহিষ্ণুতা হইহই করে বাড়ছে, এবং বিজেপির স্নেহধন্য গেরুয়াবাদীরাই এই অসহিষ্ণুতার মূল কারণ, সেটাই আমি বলতে চেয়েছি।

      আপনি গুজরাতে থেকেছেন, মোদীকে কাছ থেকে দেখেছেন, সে বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন মূল্যবান, তবে অনেক বড় মোটিভেটরকেও অসংখ্য নিরীহ মানুষের খুনের দায় নিয়ে চলতে হয়। গুজরাতের প্রচুর লোক অসহায়ভাবে মারা গেছে এই মোদী লোকটিরই অঙ্গুলিহেলনে, এর বিচার আজও শেষ হয় নি।

      আর গুজরাতের ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়েও অনেক কথা বলবার আছে, পরে কখনও বলব, এটুকু বলি, আমি মাত্র তিন মাস গান্ধীনগর-আমেদাবাদে ছিলাম। রাজধানী শহরের ইনফ্রাস্ট্রাকচার আমার একেবারেই আহামরি কিছু লাগে নি। গুজরাতে বাস্তবের থেকে একটু রঙ মিশিয়ে বাড়িয়ে চড়িয়ে ঢাক পেটানোর কালচার বহুকাল থেকেই আছে।

      তো, বেশির ভাগ পয়েন্টেই খুঁটির জোর হচ্ছে আপনার মনে হওয়া আর আমার মনে হওয়া। একে বলে অ্যানেকডোট। আপনার মোদীকে টেরিফিক স্টেটসম্যান আর মোটিভেটর মনে হয়, আমার মোদীকে মনে হয় গণহত্যাকারী, ওর হাতে অনেক মানুষের রক্ত লেগে আছে, আজও। দেখার চোখটা আলাদা।

      আমি লিখছি, আপনি পড়ছেন, এটা সহিষ্ণুতা অবশ্যই, কিন্তু এই রকমেরই ভিন্নমত লেখার জন্য এই দেশেই অনলাইনে গালাগাল লেখা হয়েছে, বই পোড়ানো হয়েছে, খুনও হতে হয়েছে, যাঁদের কথা আমি লিখেছি। আমাকে এখনও পর্যন্ত সেই ধরণের বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয় নি, এটা আমার সৌভাগ্য বলতে পারেন, কে বলতে পারে, কাল আমারও ভাগ্য ওই তাঁদের মতই হবে না? বাক্‌স্বাধীনতা আমাকে যতটা দিয়েছে সংবিধান, ততটাই দিয়েছিল পানসারে, কালবুর্গী, দাভোলকারদের। তাঁদের ভাগ্য অতটা ভালো হয় নি, আমার ভাগ্য একটু ভালো, এটাকে যদি সহিষ্ণুতা বলেন, হ্যাঁ, তা হলে তাই।

      ভালো থাকবেন। পরে অন্য পরিসরে আলোচনা করা যাবে বরং।

      Like

  5. একটাই কথা যেটা সমর্থন করছি তা হল, অসহিষ্ণুতা ছিল, আছে, থাকবে আবহমান কাল ধরে। আর এর মধ্যেই পথটাও করে নিতে হবে। আমরাও পারব। ভারত পারবে। কাল নিশচই মোদি চলে যাবেন, অন্য কেউ আসবেন। সমস্যা তো সেটা নয়, আদৌ নয়।

    Like

    1. অনেকটা একমত, জয়দীপ। পুরোটা নয়। মোদী একমাত্র কারণ অবশ্যই নয়, কিন্তু অনেক কারণের মধ্যে একটা মূল কারণ তো বটেই। অসহিষ্ণুতা ছিল, আছে। কিন্তু গত এক বছরে যে জিনিস পর পর দেখে চলেছি, এই ফ্রিকোয়েন্সিতে এর আগে দেখি নি। এত বিদ্যেবুদ্ধিওলা লোক শুধুই পলিটিকালি মোটিভেটেড হয়ে একের পর এক পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছে, যারা আগে সেইভাবে মুখ খোলে নি, এটা অন্য কেউ মনে করতে পারে, আমি মনে করি না।

      Like

  6. আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। প্রথম পড়লাম আপনার লেখা। সাবলীলভাবে যুক্তি সাজিয়ে বলা কথা। স্যোশাল মিডিয়ায় আপনার বন্ধুত্ব চাই। যুক্তিবাদী অভিনন্দন রইল।

    Like

  7. স্যার আপনার দুটি লেখা পড়লাম
    ১মন কি বাত
    ২এই টি
    প্রথমেই বলি আমার একটিও ভালো লাগেনি। কারন এই নয় যে আপনি দুটোতেই কম বেশি আমার দেশ (যেটা আপনার কাছে যাস্ট একটা বসত বাড়ি) এর বিরোধীতা করেছেন।
    কারন, আপনি সব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেই শান্ত হয়েছেন… এর সমাধান কি তা বলেননি… আপনি আমাদের দেশ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চালনা করেছেন অবশ্যই খুব জোরালো যুক্তি দিয়ে… কিন্তু তারপর যখন আপনার আর্দশে অনুপ্রানিত হয়ে আমরা দেশ নামক শব্দটিকে তুলে আছাড় মারব…তারপর আমাদের কি হবে….? সে সম্পর্কে আপনি কোথাও পথ দেখানি….
    আপনি আপনার লেখায় সমাজ, দেশ,রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন…কিন্তু এগুলি ছাড়া কোন জঙ্গলে আমরা থাকব সেটা বলেননি।
    অনেকদিন আগে এক ফ্রেঞ্চ রাইটার এর একটি বই পড়েছিলাম… সেখানে উনি ছেলের সাথে, মা, বোন, বা
    বাবার সাথে মেয়ের যৌনতার সপক্ষে প্রশ্ন করেছেন… লজিক হিসেবে দিয়েছিলেন…. আদিম কালে মানুষ যখন গুহায় থাকত তখন… যেদিন যে পুরুষ শিকার করে নিয়ে আসত সেদিন সে পুরুষ ওই গুহার যে কোন নারীর সাথে যৌনতাই লিপ্ত হতে পারত, তার ইচ্ছে অনুসারে।হয়ত উনার ককথায় যযুক্তি আছে,কিন্তু উনি ভুলে গেছেন তখন সমাজ ছিল না।আজ যদি উনি একই ব্যবস্থা চালু করতে চান তাহলে ভাবুনতো ব্যপারটা কি দাঁড়ায়…? আপনার লেখাগুলোও আমাকে ওই লেখাটার কথা মনে করায়। আপনাদের মত কিছু পড়াশোনা করা লোক.. কলমের আর চিন্তার জোরে….সমাজের উপরে উঠে আসতে চান….কিন্তু সমাজের বদলে নতুন কি হবে তা নিয়ে আপনাদের কোন যুক্তি নেয়…।
    আপনাদের সবটাই… ওই –
    “এই হলে,ওইহত তে সীমাবদ্ধ।” আর এখানেই আমার আপত্তি…… হয় পথ দেখান, নয় পথ ছাড়ুন…. রাস্তায় বাম্বার হওয়ার কোন মানে আছে কি?
    তাই আপনার লেখাটি বাহুবলি সিনেমার মত অসম্পূর্ন তা যতই “সুপারহিট” হোক না কেন।
    আমার ভালো লাগেনি, কারন আপনার লেখার সাথে আপনি সহমত নন,বা আপনি নিজেই আপনার লেখা বিশ্বাস করেন না,
    ও কিছু জিনিসের বিশ্লেষেন আপনি পুরো আষাড়ে গল্প লিখেছেন।
    একটা উদাহরন দি…
    আপনি লিখেছেন কোন কিছু খাওয়ার সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই…….
    ধর্ম মানে কি আপনার কাছে কি?
    ধরুন X বলে একটা ধর্ম আছে
    যার কিছু charecterstics আছে……
    ১- গান গাওয়া
    ২- স্নান করা
    ৩- ফুল তোলা
    আর বলা হয়েছে যারা উপরোক্ত তিনটি জিনিস পালন করবে তারাই X ধর্মের লোক। এখন আপনি উপরের তিনটি বা কোন একটি charecterstic মানলেন না… তাহলে কি ভাবে আপনি ওই ধর্মের লোক হলেন?
    আপনারও কি মনে হয় ধর্ম আপনার জন্মগত বা ঈশ্বর প্রদত্ত কিছু একটা?
    মূল ব্যপারটা হল… হয় আপনি ধর্ম মানতে পারেন অথবা না মানতে পারেন…. মাঝে দাঁড়ানোটা না হয় ছাড়লেন।
    আপনি বার বার গুরু খান বা শুয়োর খান বলে দাবী করে, আপনি যে একটা অন্য প্রজাতি (যেটা আমাদের থেকে উন্নত)
    ও এই বিষয়টি নিয়ে আপনার যে একটি অহমিকা আছে তা প্রমান করতে চাইলেন না…..
    এটিও আমার পছন্দ হয়নি……..

    পুনশ্চ একটা জিনিস বলতেই হয়
    আপনি প্রচুর পড়াশোনা করেন ও যুক্তি সাজানোর ক্ষমতা রাখেন…. সে ভুলি হোক আর ঠিক….
    আরও কিছু বলতে পারতাম…. কিন্তু ওই সময় এর অভাব এ
    যুদ্ধবিরতি রইল……..।
    ভালো থাকুন।

    Like

    1. যুদ্ধবিরতিই থাক ভাই, এর উত্তর হয় তো আমি লিখতে পারতাম, তবে মনে হচ্ছে লিখে লাভ নেই। আমি আপনার বক্তব্যের সাথে সহমত নই, কিন্তু আপনার বক্তব্য রাখার অধিকারের পক্ষে।

      Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s