মন কি বাতঃ এক দেশদ্রোহীর জবানবন্দী (প্রথম পর্ব)

(১)

লেখা শুরু করার আগে ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখা ভালো, যা দিনকাল চলছে। কে কখন কোথা থেকে সিডিশন চার্জ ফার্জ লাগিয়ে দেবে, জানা তো নেই, দিল্লি ঘেঁষে বাস করি, বহুকালের চেনাশনা বন্ধুরাও আজকে কেমন কিছু ইস্যুতে পোলস অ্যাপার্ট হয়ে যাচ্ছে, ঘরের দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছি – আর পিছু হঠবারও জায়গা নেই। পাকিস্তানে যাবার হুমকি বেশ কয়েকবার পেয়ে গেছি, দেশদ্রোহী তো বাই ডিফল্ট হয়েই গেছি কানহাইয়াকে সমর্থন জানিয়ে – তাই ডিসক্লেমার দিয়ে রাখা ভালো।

ডিসক্লেমারঃ

  • আমি ভারতীয় নাগরিক, আজন্ম। তবে আমৃত্যু থাকব কিনা, সেটা এখনই বলতে পারছি না।
  • দেশপ্রেম বলতে আপনারা যা বোঝেন, আমার মধ্যে তা নেই, কিস্যু নেই। আর্মিতে যোগদান করারও ইচ্ছে নেই, ভারতীয় আর্মিকে মহান ভাবি-টাবি না, দেশকে আমার মা-ও ভাবি না, আমার একটাই মা, দ্যাশের বাড়িতে আছেন।
  • দেশপ্রেমী নয় মানেই যাঁরা দেশদ্রোহী ভেবে ফ্যালেন, তাঁদেরও সবিনয় নিবেদন, না, ভারত নামক দেশের বিরুদ্ধে যাবার কোনও রকমের বাসনা আমার নেই। ভারতের বরবাদীও চাই না। হ্যাভিং সেইড দ্যাট, এগুলোও জানিয়ে রাখি, আমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেই, বাংলাদেশের নিপাত চাই না, সিরিয়া, ইরাক বা আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি বা আমেরিকা – কারুরই বরবাদী চাই না।
  • ভারতের সংবিধানে, ওয়েল, ভরসা আছে, তবে “বিশ্বাস” নেই। এমনিতেই আমি নাস্তিক মানুষ, বিশ্বাস ফিশ্বাস শুনলে কেমন ঠাকুর দেবতা মনে হয়, আর সেগুলোতে আমার প্রভূত ঝাঁট জ্বলে। সংবিধানকে ভগবান মনে করি না। সংবিধানে ভরসা আছে, যদিও পুরোটা পড়া নেই, তবে এটুকু জানি সংবিধানে আমার সুরক্ষার জন্য একটা লাইনও লেখা নেই। সব ধর্মের প্রতি সমান নজর দেবার কথা আছে, জাত-ধর্মের বেসিসে বিভেদ না করার কথা বলা আছে, কিন্তু ধর্মহীন জাতহীন নাস্তিকদের জন্য ওই বইতে কিছুই লেখা নেই। লেখা নেই সমকামীদের ব্যক্তিগত যৌন অধিকারের কথা, লেখা নেই আরও অনেক কিছুই, তবু ভরসা আছে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, সুষ্ঠুভাবে আজও চলছে – যে ফর্মেই হোক না কেন, সংবিধানে ভর করেই চলছে। সংবিধানটা কমপ্লিট নয়, আজও অ্যামেন্ডমেন্ট চলছে। একদিন কমপ্লিট হবেই, আশা রাখি।
  • ইন্টিগ্রিটির কেসটা একটু ঘাঁটা আছে, যদি বলেন কাশ্মীরকে দেশের ইন্টিগ্রাল পার্ট বলে মনে করি কিনা, তা হলে একটু তোতলাবো, কারণ কাশ্মীরকে আমি সত্যিই ভারত কর্তৃক জোর করে ধরে রাখা একটা স্বাধীনতাকামী ভূখণ্ড বলে মনে করি, এখন ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট, তার একটা বড় অংশ ভারত রাষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত, সেটাকে আমি সম্মান করি, কিন্তু এই যে অধিকাংশ কাশ্মিরী নিজেদের ভারতীয় মনে করেন না, তাঁরা আজাদী চান – ভারত, পাকিস্তান দু দেশের থেকেই আজাদী, তাঁদের সে ভাবনাকেও আমি সম্মান করি। আমি নিজে কাশ্মীরিদের আজাদীর জন্যে হাতে কালাশনিকভ তুলে নেব না, স্লোগান দেব না, এ ওঁদের লড়াই ওঁরাই ঠিক করবেন হিংসার পথে আজাদী হাসিল করবেন না অন্য পথে, তবে এক কথায় যদি ধরেন, বলব, কাশ্মীরিদের কাছে হিংসা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা রাখে নি আমাদের ভারতীয় রাষ্ট্র, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ এবং সর্বোপরি, ভারতীয় সেনাবাহিনি।
  • জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করি, তবে সিনেমাহল-এ জাতীয় সঙ্গীত বাজলে বসে থাকি, উঠে দাঁড়াই না।
  • জন্মেছিলাম একেবারে ন্যাংটো একটা শিশু হয়ে। ভারতেই জন্মাবো, বাঙালি হয়েই জন্মাবো, হিন্দু ব্রাহ্মণ ভরদ্বাজ গোত্র মেনেই জন্মাবো – এমন কোনও প্ল্যান ছিল না। সব আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে জন্মের পরে। কথা বলতে পারতাম না কিনা তখনও, তাই আমার মতামত কেউ নেয় নি। তাই এগুলোকে আমি স্রেফ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট হিসেবেই বয়ে চলি, এর জন্য আলাদা করে কোনও গর্ব বা ঘেন্না অনুভব করি না। হ্যাঁ, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে আমি আমার পরিচয় থেকে হিন্দু ব্রাহ্মণ ভরদ্বাজ অ্যাট্রিবিউটগুলো সরিয়ে দিয়েছি। না, অনুষ্ঠান করে নয়, নিঃশব্দেই সরিয়েছি। ধর্ম জাত গোত্র আমি প্রাণের ভেতর থেকে ঘেন্না করি। যারা গোরুকে মা বলে মনে করেন এবং গুজরাত দাঙ্গাকে জাস্টিফাই করার নিরন্তর চেষ্টা করেন, আর যারা শুওরের মাংসকে “হারাম” বলে মনে করেন আর ইসলাম বাদে বাকি ধর্মকে “ইনফিরিয়র” বলে মনে করেন – দুই দলকেই আমি সমান অপছন্দ করি। ইনসিডেন্টালি, আমি গরু শুওর, দু রকমের মাংসই খাই।

এবার প্রসঙ্গে যাই।

1350px-flag_of_india-svg
(২)
শুরুতে একটা গল্প শোনাই বরং। চেনা গল্প, অনেকেই জানেন। তাও শোনাই। আমার দেশ, মেরা ভারতের মহানতার গল্প।

১৯৪৭ সালের পরে ভারতের পূর্বদিকের একটা অংশ পূর্ব পাকিস্তান নামে জন্ম নেয়। মূলভূমি, পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সামলানো হত, এবং যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানের অনেক নীতি পূব পাকিস্তান মানত না, তাই পশ্চিম পাকিস্তান সেখানে অকহতব্য দমন-পীড়ন চালাতো। পূব পাকিস্তান বলল, আমরা নিজেদের পাকিস্তানের অংশ মানি না, আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাই। পশ্চিম পাকিস্তানের অত্যাচার আরও বেড়ে গেল পূব পাকিস্তানের ওপর। বেছে বেছে বুদ্ধিজীবিদের খুন, হিন্দু মুসলমান তোয়াক্কা না করে। মেয়েদের ধর্ষণ করছে, পুরুষদের অমানবিক পীড়ন, কিংবা স্রেফ গুলি চালিয়ে খুন। রাস্তায়, খালে বিলে, নদীতে, ধানের ক্ষেতে জমে গেল লাশের পাহাড়। পূব পাকিস্তানে লুকিয়ে চুরিয়ে গঠিত হল মুক্তিযোদ্ধা বাহিনি।

অবশ্য, তার মানে এই নয় যে পূব পাকিস্তানি মাত্রেই মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু অনেকেই সিমপ্যাথাইজার ছিল তাদের। তেমনি কেউ কেউ রাজাকার বা খানসেনাদের সিমপ্যাথাইজারও ছিল।

যুদ্ধ শুরু হল। দু তরফেই প্রচুর লোক মরছে, মারছে। সহজ টার্গেট হচ্ছে শিশুরা, মেয়েরা। এই সময়ে, বড়দা আমেরিকার স্ট্রং আপত্তি সত্ত্বেও একটা বিদেশী দেশ, ভারত তার নাম, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতের সেনা পাঠালেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য। রক্ত আরও, আরও ঝরল, অবশেষে পশ্চিম পাকিস্তান পিছু হঠল, আত্মসমর্পণ করল, পূব পাকিস্তানের ওপর থেকে নিজেদের দাবি তুলে নিল। জন্ম নিল স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। উনিশশো একাত্তর সাল।

… কেমন গব্বে বুক ফুলে যায় না, পড়লে? মেরা ভারত মহান, মনে হয় না?

এবার একই গল্পে, দেশের নামগুলো একটু পাল্টে দিই, কেমন? পূব পাকিস্তানের নাম দিলাম কাশ্মীর, পশ্চিম পাকিস্তানের নাম দিলাম ভারত, আর ভারতের নাম দিলাম পাকিস্তান। গল্পটা একই রইল, শেষের দিকটা বাদে, কারণ যুদ্ধ চলছে। শেষ হয় নি আজও।

সেই পূব পাকিস্তানের, থুড়ি, কাশ্মীরের, কিছু চ্যাংড়া ছেলে, পশ্চিম পাকিস্তানের – আই মিন, ভারতের মূলভূমিতে এসে বলছে “ইন্ডিয়া কি বরবাদি”। পূর্ব পাকিস্তানের লোকগুলো যেমন বলত, পশ্চিম পাকিস্তান নিপাত যাক। অবশ্য, পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে বলতে সাহস পায় নি কেউই। তা, এখনকার গল্পে, ভারতের মূলভূমিতেও এর আগে এইভাবে কেউ ভারত নিপাত যাক বলে স্লোগান দেয় নি, ও স্লোগান আকছার শোনা যায় কাশ্মীরের রাস্তায় ঘাটে বাগানে শিকারায়।

তাই বলে, কাশ্মীর কি ভারতের মূলভূমি নয়, নাকি? কাশ্মীরে বলা মানেই তো ভারতে বসে বলা। এত সাহস হয় কী করে?

অনেকটা এ রকমই ভাবতাম আমিও, জানেন। তখনও জানতাম না কাশ্মীরের ইতিহাস। ওপর ওপর শুধু জানতাম কাশ্মীরের আমজনতা না ভারত, না পাকিস্তান, কারুর সাথেই যেতে চায় নি, ওরা আলাদা একটা দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু এমন সুন্দরী রূপসী একটা রাজ্য, তাকে কি অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা যায়? না দাবি ছেড়ে দেওয়া যায়? নীল জল, সাদা পাহাড়, সবুজ গালিচায় মোড়া এই ভূস্বর্গ তো যে কারুর কাছেই লোভনীয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাই আক্রমণ চলেছে কাশ্মীর উপত্যকার ওপর। কখনও পঞ্জাব, কখনও ইংরেজ, কখনও আফগান উপজাতি।

ভারত দেশ স্বাধীন হবার পর জনমত উপেক্ষা করে রাজা হরি সিং কাশ্মীরকে ভারতের সাথে যুক্ত করতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। লোকে বলে, হরি সিং-কে রাজি করানো হয়েছিল, কিছু বিশেষ উপায়ে, যেটাকে “স্ব-ইচ্ছা” কোনওমতেই বলা যায় না। আসলে পাকিস্তান তখন তাল ঠুকছিল কাশ্মীরকে তাদের অংশ বানাবার জন্য। ছোট্ট দেশ কাশ্মীরের ক্ষমতা ছিল না পাকিস্তানকে প্রতিহত করার। রাজা হরি সিং ভারতের সাহায্য চান – ঠিক যেভাবে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে কাজ ভারত করে নি, সেই কাজ ভারত করল কাশ্মীরের জন্য। বলল, সাহায্য করতে পারি, যদি তোমরা ভারতের অংশ হও।

সুন্দরী কাশ্মীর, পাকিস্তান তোমাকে হরণ করে নিজের হারেমে রাখবে, সে আমি আটকাতে পারি, যদি তুমি স্বেচ্ছায় আমার হারেমে আসতে রাজি হও।

“স্বেচ্ছায়” রাজি হওয়া ছাড়া হরি সিং-এর কাছে আর কোনও অপশন ছিল না। তিনি রাজি হন।

দুই জায়গার জন্য দু রকমের নীতি নিয়েছিল নবগঠিত ভারত। একদিকে হায়দ্রাবাদ, অন্যদিকে কাশ্মীর। দুদিকের গল্প পুরো দু রকম ছিল। হায়দ্রাবাদের লোকজন ভারতে যুক্ত হতে ইচ্ছুক ছিল, ইচ্ছুক ছিলেন না শুধু হায়দ্রাবাদের নিজাম। সেখানে তাই জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে হায়দ্রাবাদকে ভারতের অংশ বানিয়ে নেওয়া হয়।

যাই হোক, কথা হচ্ছিল কাশ্মীর নিয়ে। কাশ্মীরকে ভারত এইভাবে নিয়ে নেওয়ায় পাকিস্তান রেগে যায়, তারাও ভূখণ্ড দখল করতে এগিয়ে আসে, কিছু অংশ দখল করেও নেয় যা আজও পিওকে, বা পাকিস্তান অক্যুপায়েড কাশ্মীর নামে রয়েছে পাকিস্তানের হাতে। এবং সেই জমি নিয়ে বিবাদ চলেছে দশকের পর দশক ধরে, সেই বিবাদিত জমির মধ্যে রয়েছে আমাদের সিয়াচেন হিমবাহও, যা পাকিস্তান দাবি করে তাদের, ভারত দাবি করে তাদের। আপাতত দীর্ঘকাল এই অঞ্চলের কব্জা নিয়ে রেখেছে ভারত, বিশ্বের উচ্চতম ব্যাটলগ্রাউন্ড, সবচেয়ে ডেঞ্জারাসও বটে, কারণ যুদ্ধ চলুক বা না চলুক, এই সিয়াচেনের বেস ক্যাম্প ভারতীয় সেনাবাহিনিকে স্টেডি “শহীদের” সাপ্লাই দেয়। এত কঠিন সেখানে বেঁচে থাকা, প্রতি বছরই কিছু না কিছু সৈনিক সেখানে মারা যান প্রকৃতির হাতে, এ বছরের গোড়াতে সেই রকমেরই এক বিশাল অ্যাভালাঞ্চে দশ ভারতীয় সৈনিক শহীদ হলেন, হনমন্তাপ্পা যাঁদের একজন, বরফের নিচে ছ দিন জীবিত ছিলেন, শেষে দিল্লির সেনা হাসপাতালে এসে জীবনের যুদ্ধে হার মানলেন।

প্রসঙ্গান্তরে চলে যাচ্ছি আবার। কাশ্মীর ভ্যালিতে চলে আসি। তো, কাশ্মীর ভ্যালির লোকজন যেহেতু ভারতের অংশ হয়ে খুশি হয় নি, মাঝে মাঝেই তারা মিছিল বের করত বাদামি বাগে, লাল চকে। হাম কেয়া চাহতে হ্যায়? আজাদী। শান্তিপূর্ণ মিছিল।

(৩)
ধুনো দেওয়া শুরু করল পাকিস্তান। নে শালা, আমরা যখন খেতে পারছি না, এমন হুড়কো দেব, ভারতও শান্তিতে কাশ্মীরকে চাখতে পারবে না। জঙ্গী সাপ্লাই শুরু হল। শুরু হল ধর্মের মোড়কে জঙ্গী বানানোর কাজ। আজাদীর লড়াইয়ের ট্রেনিং নেবার স্বপ্ন চোখে নিয়ে অনেকেই কাঁটাতার পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে চলে গেল পাকিস্তান অক্যুপায়েড কাশ্মীরে। সেখানে জিহাদি ট্রেনিং নিল, সাথে মাথায় ভরে নিল একগুচ্ছ নোংরা ইসলামিক জিহাদি চিন্তাভাবনা। তার মধ্যে একটা হচ্ছে – ভারত হিন্দুদের দেশ। ওরা তোমাদের জোর করে দখল করে রেখেছে, তাই হিন্দুস্তান আর হিন্দু – দুইই তোমাদের শত্রু।

না, সব মুসলমান কিন্তু এই স্বপ্ন দ্যাখে নি। বেশির ভাগ অংশই শান্তিতে কাশ্মীর ভ্যালিতে থাকত। পড়াশুনা করত, চাকরি করত, ব্যবসা করত। কিছু মুসলিম যুবক এই জিহাদের স্বপ্নে মশগুল হল। ট্রেনিং নিয়ে আবার ফিরে এল ভারতের কাশ্মীরে। আর ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদ লড়তে গেলে সহজ টার্গেট কে? কে আবার! আর্মি। মিলিটারি। ভারতীয় সেনা। চোরাগোপ্তা আক্রমণ চলতে লাগল।

পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে চলতে লাগল। বাড়তে লাগল অবিশ্বাস। কে সন্ত্রাসবাদী, আর কে নয়, তা বাছবিচার করার মত ধৈর্য বা মেধা ভারত সরকার বা ভারতীয় সেনা, কারুর কাছেই ছিল না। অবশ্য, সদিচ্ছা ছিল না বললেও হয়। প্রায়ই চলতে লাগল মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে দশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়েসী মুসলমান নামধারী লোকেদের বের করে সারা দিন ধরে আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড। একটা জালে ঢাকা ভ্যানের সামনে নিয়ে যাওয়া হত সবাইকে এক এক করে, ভ্যানে বসে থাকত একজন “ইনফর্মার” যে পোটেনশিয়াল সন্ত্রাসবাদীকে চিনত। যে মুসলমানটিকে দেখে সে গাড়ির ভেতর থেকে হর্ন বাজাবে, তাকে ভারতীয় সেনা তুলে নিয়ে যাবে তাদের নিজস্ব আপ্যায়নখানায়। তার পরে আপ্যায়ন। যতক্ষণ না কথা বেরোচ্ছে। সত্যি হোক, মিথ্যে হোক, তাকে বলতেই হবে সে জিহাদি ট্রেনিং নিতে গেছিল। সে নয় তো তার দাদা, তার ভাই, তার চাচা। নইলে মার। রুলের গুঁতো। শরীরের অঙ্গে, রন্ধ্রে ঢুকত সেনার মার।

সত্যিকারের সন্ত্রাসবাদী কি ধরা পড়ত না এ সব করে? হ্যাঁ পড়ত। তারা আর ফিরত না সেই আপ্যায়নখানা থেকে। দুদিন পরে তার গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যেত কাশ্মীরের রাস্তায় কিংবা শহরের বাইরে, বরফের ধারে। মহল্লার লোকেরা ভয়ে ভয়ে তুলে আনত সেই বিপথগামী তরুণের শবদেহ, কবর দিত চিনার গাছের তলায়, আর সেই কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আরও একদল তরুণ দাঁতে দাঁত চেপে শপথ নিত, এর বদলা নেবই।

আর যারা সত্যি সন্ত্রাসবাদী নয়? স্রেফ “স্বীকারোক্তি”র কারণে যাদের সেনার অত্যাচার সইতে হত?

আসুন, আলাপ করিয়ে দিই হুসেনের সাথে।

দক্ষিণ কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রামের এক ভীতু মানুষ, হুসেন । শান্ত চোখ, সঙ্কুচিত ভঙ্গিতে বসে থাকে ডাক্তারখানায়। হুসেনের ধারণা সে ইমপোটেন্ট হয়ে গেছে। তার ডাক্তার ভাইয়ের ভাষায়, ‘হুসেনের আর দাঁড়ায় না’। হুসেন বিয়ে করতে চায় না, কারোর সাথে মিশতে চায় না। নিজের ছোট্ট দোকান-ঘরের মধ্যে জড়োসড়ো হয়ে কাটিয়ে দেয় সারাদিন। হুসেন এক একলা ভাঙ্গাচোরা মানুষ।

১৯৯০ সালে যখন কাশ্মীরে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের ডাক ওঠে হুসেন তখন কলেজে পড়ে। তেরোজন বন্ধুর সাথে হুসেন রওনা দিয়েছিল এল ও সি পেরিয়ে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে ‘ট্রেনিং’ নিতে। কুপওয়ারা থেকে একটু দূরে বিএসএফ তাদের ট্রাক থামায় এবং অ্যারেস্ট করে কাছের আধা-সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালবেলা ইন্টেরোগেশন রুমে নিয়ে আসা হয় তাদের। জোর করে উলঙ্গ করিয়ে দুই হাতে তামার তার বেঁধে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতে থাকে। হুসেনের গলা ফাটিয়ে ঠিকরে আসতে চায় বমি, কিন্তু করতে পারে না কারণ মুখে গোঁজা ছিল তুলোর বল। রক্ত লালা এবং বমিতে সেই বল ভিজে গেলে ফেলে দিয়ে নতুন বল ঢোকানো হচ্ছিল। এরপর হুসেনের পুরুষাঙ্গের ভেতর তার ঢুকিয়ে দেওয়া হয় জোর করে। শক পেতে পেতে মনে হয় ছিঁড়ে যাবে পুরুষাঙ্গ। হুসেন পরে বুঝেছিল, এগুলো শুধুই কথা বার করার জন্য নয়। কারণ সকলেই একটা না একটা সময় মুখ খোলে, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মুখ খুলতে বাধ্য হয়। ইন্ডিয়ান আর্মিও জানে সেটা। তারা দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে এই টর্চার চালায় নিছক স্যাডিস্ট আনন্দ পাবার জন্যেই।

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হুসেন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল একসময়। তাকে জাগিয়ে তুলে আবার শক দেওয়া হয়। হুসেন প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে, কিন্তু হিসির বদলে রক্ত বেরিয়ে আসে। ফুলে ওঠে অন্ডকোষ। বিপদ বুঝে আর্মি হাসপাতালে ট্রান্সফার করে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর আবার অত্যাচার। দুই বছর বাদে হুসেন যখন ছাড়া পায় তখন তার পুরুষাংগ আর শক্ত হয়না। বাড়ি ফিরে আসার পর গুটিয়ে যায় সে। বাড়ির লোক বিয়ে করার জন্য বার বার চাপ দিতে থাকে, একসময় সে জানায় যে সে বিয়ে করতে পারবে না, কারণ তার “দাঁড়ায় না”। কোনও ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না লজ্জায়। গোটা সময় কাটায় গ্রামের মসজিদে। হুসেন ধর্মপ্রাণ এক মুসলিম হয়ে যেতে শুরু করে, যাকে অনায়াসে ভারতীয় মিডিয়া দাগিয়ে দিতে পারে ধর্মান্ধ মৌলবাদী নামে।

শুধু পুরুষ? শুধু কাশ্মীরি তরুণরাই ভারতীয় আর্মির আক্রমণের শিকার হত? মেয়েরা? রশিদ আর মুবিনার কথা শুনুন।

কূপওয়াড়া থেকে বিয়ে করে নতুন স্বামী রশিদের সঙ্গে বরযাত্রী-ভরা বাসে করে ফিরছিল মুবিনা। পথে বিএসএফ বাস দাঁড় করায়। মুবিনাদের বাস আসার আগে জঙ্গীদের একটা জিপ গিয়েছিল সেই রাস্তা দিয়ে এবং সেখান থেকে বিএসএফ-এর উদ্দেশ্যে কয়েকটা গুলি ছোঁড়া হয়েছিল শূন্যে। কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু সেই জিপকে ধরা যায়নি। এই অক্ষমতার জ্বালা কীভাবে মেটাবে বিএসএফ? তাই পরের বাসটিকে থামানো হয়, যাতে ছিল বরযাত্রী সমেত নবদম্পতিরা। তাদের ভয়ার্ত চোখের সামনে বন্দুক উঁচিয়ে নববধূ মুবিনাকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। সারারাত ধরে চলে তার ওপর গণধর্ষণ। জঙ্গীদের জিপ মিস করার পরে তাদের অপমানিত দেশপ্রেম এ ছাড়া তো শান্তি পেত না।

মুবিনা আজও বেঁচে আছে। রশিদও আছে। আপনারা জানেন, কাশ্মীরিদের বিয়ে একটা দারুণ মনমাতানো অনুষ্ঠান? ভারতের অন্যান্য প্রদেশের বিয়ের অনুষ্ঠানের মত অনেকটা, তবে একটু আলাদা। মেহেন্দী, মেয়েদের গান, নাচ, আর তুমুল খাওয়াদাওয়া না হলে বিয়ে সম্পূর্ণই হয় না কাশ্মীরিদের।

মুবিনার ঘটনার পরে কাশ্মীরে আর কখনও সন্ধ্যের পরে কারুর বিয়ের অনুষ্ঠান হয় নি। এখন দিনের বেলাই সমস্ত অনুষ্ঠান সেরে দিনের আলো থাকতে থাকতে ফিরে আসা হয়।

শুনুন গুলজারের কথা। ক্লাস টু্য়েলভের ছাত্র গুলজার নিছক মজা করার জন্য স্কুলের এক জুনিয়ারকে একটু র‍্যাগ করেছিল। সে জানত না যে, সেই ছেলেটি এক ইন্ডিয়ান আর্মি অফিসিয়ালের পুত্র। আর্মি গুলজারের বাড়িতে এসে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং হাত পা বেঁধে কাছের এক গোডাউনে ঢুকিয়ে মাইন ফাটিয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল তার শরীর। অফিসিয়াল ডকুমেন্টে লেখা হয়েছিল, গুলজার এক বিপজ্জনক জঙ্গী যার মাইন ভুল করে হাতে ফেটে গেছিল।

আর শুনতে চান? পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র একটা ভূখণ্ডের ওপর নিজের অধিকার বজায় রাখতে গিয়ে কী কী করতে পারে? আমাকে দিয়ে আর না-ই লেখালেন। পড়ে ফেলুন একটা বই। একটা নয়, বরং বলব, পর পর দুটো বই পড়তে। এই ঘটনাগুলো সেখান থেকেই তোলা। পড়ুন, বাশারাত পীর-এর লেখা The Curfewed Night, আর তার পরে পড়ুন রাহুল পণ্ডিতার লেখা Our Moon Has Blood Clots। কাশ্মীরকে জানতে হলে, সেখানকার মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝতে হলে এই বইদুটো পড়া ছাড়া গতি নেই। আরও কয়েকটা বই আর দুটো সিনেমা রেকমেন্ড করতে পারতাম, কিন্তু, আপাতত দুটোই থাক, পড়ে উৎসাহ পেলে আপনি নিজেই খুঁজে নিতে পারবেন বাকিগুলো।

একটা ভূখণ্ডের জনজাতির ওপর নিয়মিত চলা সেনাবাহিনির এই রকমের অসহ্য অত্যাচার, কতদিন সইতে পারে, মানুষ? নিরপরাধ মানুষ, স্বাধীনতাকামী মানুষ রোজ মরছে, ধর্ষিত হচ্ছে একটা দেশের সেনাবাহিনির হাতে, আপনি এর পরেও আশা করবেন তারা সাম্যের গান গাইবে? তারা ভারতের ইন্টিগ্রিটির প্রতি সম্মান জানাবে? কাশ্মীর ভুলে যান, আপনার গ্রামে, আপনার শহরে, ভারতের যে কোনও অঞ্চলে কোনও বিশেষ জনজাতির ওপর দশকের পর দশক ধরে এই জিনিস চলতে থাকলে আপনি কতদিন মেনে নেবেন?

কাশ্মীরিরা তাও মানিয়ে নিচ্ছিল। সহ্যের বাঁধ ভাঙল ১৯৯০ সালে। আজাদী চেয়ে হেঁটে যাওয়া একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল যখন ঝিলম নদীর ওপর একটা ব্রিজ পেরোচ্ছিল, তখন বিনা প্ররোচনায় দুদিক থেকে রাস্তা আটকে সেই মিছিলের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছোঁড়ে ভারতীয় সেনা। কয়েকশো কাশ্মীরি, নিরস্ত্র কাশ্মীরি মারা যান। স্বাধীনতা চাইবার অপরাধে।

সন্ধ্যের অন্ধকারে আর্মির ট্রাক এসে তুলে নিচ্ছিল মৃতদেহগুলো। হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হবে। মৃতদের স্তুপে আর বন্দুক উদ্যত করে রাখার দরকার হয় না। আধা অন্ধকার সেই মর্গের সামনে যখন ট্রাক এসে থামে, তখন মৃতদেহের স্তুপ থেকে সুড়ুৎ করে গড়িয়ে নামে এক ছায়ামূর্তি, একটা দশ বারো বছরের বাচ্চা ছেলে, শবের নিচে চাপা পড়ে ছিল সে সারাদিন। “আমি বেঁচে আছি, আমি বেঁচে আছি” বলে চেঁচাতে চেঁচাতে রক্তমাখা সেই বালক দৌড়ে নিমেষে হারিয়ে যায় হাসপাতাল মর্গের বাইরের অন্ধকারে। সেনাবাহিনির বন্দুক তার নাগাল পায় নি।

আগুনে ঘি পড়ে এর পরে। অশান্ত হয়ে ওঠে সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকা। আগে ছুটকোছাটকা যেত, এর পর থেকে দলে দলে মুসলিম তরুণ যুবক কাঁটাতার পেরিয়ে যোগ দেওয়া শুরু করল পাকিস্তানের দিকের জিহাদি ক্যাম্পে, উদ্দেশ্য, কাশ্মীরকে আজাদ করা। না, ভুল বুঝবেন না, পাকিস্তানে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন কখনওই দেখে নি কাশ্মীর। তারা শুধু আজাদী চেয়েছে। পাকিস্তান তাদের ট্রেনিং দিয়েছে, অস্ত্র রসদ জুগিয়ে গেছে স্রেফ কাশ্মীরকে ফিরে পাবার আশায়, ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টায়, আর কাশ্মীরিরা পাকিস্তানের থেকে এই সাহায্য নিয়ে চলেছে, শুধু, শুধুমাত্র কাশ্মীরকে স্বাধীন করার চেষ্টায়।

ভারতীয় সেনার এই বর্বর অত্যাচারের ফলে, জম্মু কাশ্মীর লিবাআরেশন ফ্রন্টের নেতা ইয়াসিন মালিকের মনে জেগে ওঠে ভেদবুদ্ধি। যেহেতু বেশির ভাগ অত্যাচারই হত মুসলিমদের ওপর, সে হেতু কাশ্মীর ভ্যালিতে বসবাস করা এক বিপুল সংখ্যক হিন্দু, যাঁদের “পণ্ডিত” বলা হয়, তাঁদের ভারতীয়দের সাথে সমার্থক করে ফেলার রাজনীতি শুরু হল কাশ্মীরে। কাশ্মীর, শুধু মুসলমানদের। জিহাদি মুসলমানদের। হিন্দুস্তান হিন্দুদের, অতএব হিন্দু পণ্ডিতদের খেদাও।

পুরো নব্বইয়ের দশক ধরে শুরু হয় উলটো অত্যাচার। এবার পণ্ডিতদের ওপর। শুরু হয় মাস এক্সোডাস। পন্ডিত সম্প্রদায়, যারা এতদিন পাশাপাশি বাস করে এসেছে কাশ্মীরি মুসলমানদের সাথে, একে অপরের সুখদূঃখের শরিক হয়েছে, এর পরবে ওর নেমন্তন্ন এসেছে, ওর পার্বণে এ প্রসাদ খেয়ে গেছে, তারা রাতারাতি উৎখাত হতে শুরু করে কাশ্মীর ভ্যালি থেকে, নিজেদের সারাজীবনের সঞ্চয়, জমি, বাড়ি, বাগান ফেলে। কেউ কেউ সাহস করে থেকে যেতে চেয়েছিলেন, প্রতিবেশিদের ওপর ভরসা করে। কাশ্মীরি সন্ত্রাসবাদীর দল রাতে হানা দিত তাদের বাড়ি। মেয়েদের ভাগ্যে জুটত – যে কোনও যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ভাগ্যে যা জোটে, তাইই, ছেলেদের মেরে ফেলা হত। শিশু, কিশোর, তরুণ, বুড়ো – কেউ বাদ পড়ত না তাদের হিংসার আওতা থেকে। কারণ, ওরা পণ্ডিত।

এক সত্তরোর্ধ্ব, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের কাহিনি পাবেন রাহুলের বইতে। শুধু সংস্কৃত নয়, আরবি এবং অন্যান্য ইসলামিক লিটারেচারে ছিল তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য। তিনি ছিলেন একজন হিন্দু পণ্ডিত। নিজের টাউন শুধু নয়, আশপাশের গাঁয়ের হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে তাঁকে শ্রদ্ধা করত। ভালোবাসত। তিনি তাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তা সহ্য হয় নি। এক রাতে তারা আসে। বৃদ্ধকে বলা হয় ঘরের সমস্ত মূল্যবান জিনিস একটা সুটকেসে ভরে নিতে। এর পরে তাঁর কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে সেই ভারী সুটকেস তাঁকে দিয়ে বইয়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায় জঙ্গীরা। বৃদ্ধের বড় ছেলে স্বেচ্ছায় বাবার সাথে যেতে চান, জঙ্গীরা তাকেও নিয়ে যায়।

পরের দিন দুজনেরই গুলিবিদ্ধ ছিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া যায়। বৃদ্ধ অধ্যাপকের কপালে, জঙ্গীরা ঠুকে ঠুকে গেঁথে দিয়েছিল একটা পেরেক। করোটির মধ্যে।

আমরা, যারা ভারতের নিশ্চিত নিরাপদ নাগরিক জীবন কাটাই, তারা বুঝতেও পারব না, ঠিক কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছে, যাচ্ছে, কাশ্মীর। একদিকে এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নৃশংস কার্যকলাপ, অন্যদিকে তাকে থামাতে না পেরে নিরীহ কাশ্মীরিদের ওপরে ভারতীয় সেনা আর বিএসএফের অমানুষিক অত্যাচার, আর দুই যুযুধান পক্ষের মাঝে পড়ে হাজারে হাজারে অসহায় সম্বলহীন কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাশ্মীর ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া জম্মুতে, দিল্লিতে, পাঞ্জাবে, চণ্ডীগড়ে।

যে ভারত তার অখণ্ডতায় এত গর্ব রাখে, যে মিডিয়া হাজারটা সামাজিক সমস্যা নিয়ে এত উদ্বেগ দেখায়, দীর্ঘ এক দশক ধরে চলে আসা এই এক্সোডাসের প্রতি এতটুকুও সহানুভূতি দেখায় নি। অবশ্য, নব্বইয়ের দশকে এত মিডিয়া ছিল না, আমরা মূলত দূরদর্শন দেখতাম। পণ্ডিতদের এক্সোডাস থামাবার জন্য কোনও চেষ্টা হয় নি, কাশ্মীরের সমস্যা সমাধান করার জন্য আলোচনার থেকে সবসময়েই সেনাবাহিনির বন্দুকের ওপর বেশি ভরসা রেখেছে ভারত সরকার।

আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দলের অন্যতম অ্যাজেন্ডা ছিল কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাশ্মীর ভ্যালিতে পুনর্বাসন দেওয়া। কিন্তু সে কাজ আজও শুরু করা যায় নি।

(৪)

কিন্তু ধান ভানতে বসে, এত বড় শিবের গীত কেন গেয়ে বসলাম আমি? কাশ্মীরের ইতিহাস তো আমার লেখার কথা ছিল না!

লিখতে হল এই কারণে, কারণ, কাশ্মীরের এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটটা না জানলে বোঝা সম্ভব নয়, কোন আইডিওলজি, কোন আদর্শ থেকে আফজল গুরুরা আসে, জন্ম নেয়, ঢুকে পড়ে আমাদের নিরাপদ রাষ্ট্রের ঘেরাটোপের ভেতর। এই সোশাল নেটওয়ার্কেই, আমার পরিচিত বন্ধু, প্রিয় লোকজন, তাঁরাও দেশপ্রেম আর দেশদ্রোহের দ্বন্দ্বে উত্তাল গত এক সপ্তাহ ধরে। সমস্ত ঘটনাপ্রবাহে সম্যক মন না দিয়ে, পূর্বাপর ইতিহাস না জেনে, না পড়ে, কিছু মনগড়া ধারণা আর কিছু মিডিয়ার খাওয়ানো খবরের ভিত্তিতে তাঁরা তৈরি করছেন তাঁদের নিজস্ব মতবাদ। মতাদর্শ বলাই ভালো। খুব কনভিনিয়েন্টলি ঘেঁটে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবাদ, প্রতিবাদের কনটেক্সট, এবং চলছে বাজারে সহজলভ্য কিছু স্টিকার নিয়ে এর ওর গায়ে সেঁটে দেওয়ার প্রক্রিয়া। তুই দেশদ্রোহী। তুমি দেশপ্রেমিক নও। আপনি আফজল গুরুকে সাপোর্ট করছেন। আপনি ভারতের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করছেন না। কানহাইয়া কুমারকে তো পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত, পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত, শালা বলে কিনা পাকিস্তান জিন্দাবাদ! বলে কিনা ইন্ডিয়া কি বরবাদী! শালা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পড়বে আর দেশের নামে গদ্দারি করবে?

মারো সালে কো।
পিটো সালে কো।
ফাঁসি পে লটকা দো চুতিয়া কো।
ভারতমাতা কী জয়!
বন্দে মাতরম্‌।

(পরের পর্বে শেষ করব)

Advertisements

89 thoughts on “মন কি বাতঃ এক দেশদ্রোহীর জবানবন্দী (প্রথম পর্ব)

  1. ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবোনা।
    একটা প্রশ্ন করার ছিল! ভারতীয় সৈন্য দের ধৈর্য বা সদিচ্ছা ছিলনা বললেন। কোনো রাষ্ট্রই কি আজ অব্ধি তাদের বোড়ে দের এই দুটো অস্ত্রর প্রয়োগ শেখায়? শিখিয়েছে এযাবৎ?
    ভীষন প্রাসঙ্গিক লেখা – Kasmir Crushible বইটা ও পড়ে দেখতে পারেন…

    Like

    1. আর্মি যারা মেনটেন করে, তারা শেখায় না। কোনও দেশই না। একমত। তবে সেই চল্লিশ পঞ্চাশ কি সত্তরের দশকে ঠিক ভুলের ডেফিনিশনটাও আজকের তুলনায় অন্য রকম ছিল।

      তা সত্ত্বেও ভুলটা, ভুলই থাকে। কয়েকশো বছর পরেও তাই চার্চ ক্ষমা চায় গ্যালিলিওর কাছে। যদিও সেদিন চার্চ ভেবেছিল গ্যালিলিওকে শাস্তি দেওয়াটাই ঠিক।

      Like

    2. সংবিধান নিয়ে যে কথাটা বলা আছে…. সেটা লোক খ্যাপাবার জ্ঞারাকলের গল্প, সংবিধান না পরেই একপেশে কথা….. এবার প্রশ্ন…. আফজল গুরু নিয়ে যারা চোখের পানি ভাসিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রশ্ন করি “কাশ্মীরি ব্রাম্হন” যে ভাবে বিতারিত হয়েছেন কাশ্মির থেকে….তারা তো সন্ত্রাসবাদী হন নি ? তবে কাশ্মীরিদে’র দাবি প্রতিষ্ঠা করতে অস্ত্র ধরতে হয় কেন বন্ধু ? ইতিহাঁশ বলে কাশ্মির হিন্দুদে’রও !

      Like

      1. হয় তো আপনি অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে ভাবছেন। তবে এত প্রকট বানান ভুল করা পোস্টের উত্তর দিতেও একটু কিন্তু-কিন্তু লাগছে। “ইতিহাঁশ”? “ব্রাম্হন”? “বিতারিত”? “জ্ঞারাকল”?

        অসম্ভব!

        Like

    3. আরেকটি কথা…. পৃথিবী তে সমাজতান্ত্রিক কিম্বা ধন-দেশের সেনাবাহিনী কি তাদের অপারেশন চালায় হাতে গোলাপ-ফুল নিয়ে নাকি ? পৃথিবী কি দেখেনি বার্লিন দখলের পর সোভিয়েত বাহিনীকে ? সেটা কি ছিল বন্ধু ?

      Like

    1. আপনি বোধ হয় কিছুই পড়েন নি এ বিষয়ে। পড়লে এই লাইনগুলো লিখতে পারতেন না। আর পড়ার পরেও যদি এই প্রশ্ন জাগে আপনার মনে, তা হলে বলি – ভালো থাকুন। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।

      Like

  2. eisob jhater 169 takai toiri kora domain e je keu likhe nijer moto proof jai koruk na keno..
    ultimately ektai kotha joto eto janis eisob papaer theke elo patahri copy paste dialoge bhai neme aya rsatay dekhi kto manob prem..
    bangladesh,kashmir niye likheche..
    ki bal bichi jane bangladesh niye..asis amr barite sunis..
    sala pore ga gorom hoye jai..eisob pakka suorerbachha der jonne desh e ek srenir manush nijeke intlect vabe..
    bangladesh niye likheche,Kashmir niye likheche..
    ma sobar ektai hoi..eta sobai jane..
    ar desh prem ke ma hisebe tulona kore..
    are janowar ma mara jaowar por bachha jokhon sei matrisneho je nari r kache pai takeo to ma hisbei valobase na bou hisebe valobasbe..
    eisob jahter kotha onek sunechi..ar eisob sentiment e gha deowa kotha hoyto tor moton choto moner kache hote pare,..aduo amader kache noi..
    asis sikhte deshprem kake bole,oisob facebook ,orkut e jhatbaji korina,proakshyo somaje buk chitiye dariye lokke sekhai ar tader odhikar somondhye boli..
    ki logic..prokashye bol..
    onek jhatbaji dekhi..likhlam ar sojhyo korte na pere..
    onek hoyeche communism ,socialsim r name nongra kore jra jonne aj prokashyo somaje je keu hoye jachhe celebrity..ar
    sala goto 70 yr dhoreo lore jachhe manusher odhikar niye amader moton sadhorn poribarer communism culture..
    aste bolis..niye jabo purbo medinipur,niye jabo pandua r opar area te,niye jabe east 24 pargana ,sundarbon area te..
    mansuh dorod..
    dekhbe kata taraer berai epare opare theke asa manusher asol kotha ar tader desh vokti ta ki?

    Like

    1. এটা তো সমাধানসূত্র দেওয়া মানেবই নয় যে, সমাধানটাও লেখা থাকবে। এক দু লাইনে সমাধান হয়ও না, সবার আগে দেশের মানুষকে পাল্টাতে হবে। এই উগ্র ধর্মবাদ আর জাতীয়তাবাদের নেশা থেকে মুক্ত হতে না পারলে দুনিয়ার সেরা সমাধানও কাজ করবে না।

      Like

  3. Apnar lekha porlam. Apni Tibet niye kichhu likhlen na dekhe hotash holam. China , Tibet odhikar korar por bohu Tibetanen ei desh e paliye eshechhen. Apbar 2 nd part e Tibet niye kichhu likhle valo lagbe.

    Kashmir theke eshe Delhi te Anti India kotha sudhu noy , onekei santrash badi ( ati biplabi) kaaj o koreche. Tate Bharat namak desh r onek sadharon lok jon marao jachhe and atiteo mara gechhen. Indian Govt. to aam admi praan hani chaibe na. Tai kichhu ati biplabi ke jail ba fashi ditei hoy.
    Eta thik na bhul sei prosonge jachhi na.

    Like

    1. তিব্বত চীনের গল্পটা তো আলাদা। সেটা নিয়ে লেখার পরিসর এখানে ছিল না।

      ভারতের সংবিধান কিন্তু বিনা বিচারে বা ভুল বিচারে কাউকে ফাঁসি দেওয়া সমর্থন করে না।

      Like

  4. অনেকে বলছে কাশ্মীরকে স্বা—– ধীনতা দিতে হবে। তা দাও না– অসুবিধা কি আছে? এমনিতে কাশ্মীরের পশ্চিমদিকে সিয়াচেন- কার্গিল অন্যদিকে তিব্বত-চায়না। ইন্ডাস্ট্রি তেমন কিছু নেই। এখন সেনা রাখতে, রেশন দিতে কোটি – কোটি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। আলাদা দেশ হলে তখন আমরা চড়া দামে জিনিস বেচব — ওদের। খাবারদাবার – মোটর গাড়ি , পোশাক, তেল, গ্যাস — সব কিছুই আমরা বেচব ওদের। আমাদের স্যাটেলাইট গুলো ওরা ব্যবহার করবে আর ভাড়া গুনবে। অনেক বিদেশি মুদ্রা আয় হবে।

    Like

      1. উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য নয় — আপনি ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এনেছেন ( যেহেতু আমরা ভোট দিই– তাই তার দায় বা কলঙ্ক থেকে আমরাও মুক্ত নই)। অন্তত এই স্বস্তি টুকু পাওয়া যাবে। পাঠানকোটে আর কোন জয়ান মারা যাবে না– কার্গিলে কেউ মরবে না- সিয়াচেনে কেউ হারিয়ে যাবে না। আর করদাতাদের অনেকগুলো টাকা বেঁচে যাবে। হয়তো মুম্বাইতে আর কোনদিন জঙ্গি হামলা হবে না। অখণ্ড শান্তি।

        Like

      2. মানেটা স্পষ্ট নয়। আপনি ঠিক কি চাইছেন ? কাশ্মীরের ভৌগোলিক অবস্থান এমনই — তা যদি হিন্দু পণ্ডিতদের বিতাড়িত করে স্বতন্ত্র (ইস্লামিক) দেশ- ও হয় (আমি মনে প্রাণে তাই চাই) তাহলেও তাকে “ইন্ডিয়া”-র মত “শয়তানের” উপর নির্ভর করেই চলতে হবে। আর আপনার পোস্ট গুলি ইতোমধ্যে পশ্চিম -বাংলার কাঠ – মোল্লারা শেয়ার করতে শুরু করেছে। কারন কাঠ – মোল্লা আর মৌলবাদীরা কোন দেশ বা জাতি বা দেশপ্রেম-এ বিশ্বাসী নয়– তারা ইসলামিক – ব্রাদার- হুড এ বিশ্বাসী। আজাদ কাশ্মীরে পণ্ডিতদের তাড়িয়ে শরিয়তি আইন চালু হলে — সে দেশ হয়তো আরও ১০০ বছর পিছিয়ে যাবে। কিন্তু বিতাড়িত কাশ্মিরি পণ্ডিত দের রাখবেন কোথায়? পশ্চিম – বাংলার দিকে তাকান — এখানে লোক ছিল ৩ কোটি , বাংলাদেশ থেকে তাড়া খেয়ে এলো আরও ৩ কোটি “হিন্দু” — এখন আমরা ১০ কোটি। এ যেন একটা ১০ বাই ১০ ঘরে ৩০ জন লোক ঢুকিয়ে দেওয়া । কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কোথায় রাখবেন ?

        Like

        1. দিল্লিতে, চণ্ডীগড়ে, পাঞ্জাবে। সেখানেই থাকছে তারা। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের জন্য বেশ কিছু স্কিম আছে। চলছে।

          আমি যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকি, সেখানে আমাদের ফ্লোরেই একটা ফ্ল্যাটে এক কাশ্মীরি পণ্ডিত পারিবার থাকেন। আর আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন অন্তত দশ-বারোটা পরিবার।
          হিন্দুদের বিতাড়ন করে ইসলামিক দেশ করার কথা কেউ বলে নি। হিন্দু বিতাড়ন করা হয়েছে ভারতীয় সরকার এবং ভারতীয় সেনাবাহিনির দ্বারা করা কাশ্মীরিদের – বিশেষত মুসলমানদের ওপর করা অকথ্য অত্যাচারের রিটালিয়েশন হিসেবে। আমি পণ্ডিতদের বিতাড়ন সমর্থন করি না, তার সঙ্গে এটাও মানি যে কাশ্মীর সমস্যা শুরু থেকে ঠিকভাবে হ্যান্ডল করলে কাশ্মীর আজ ভারতেরই একটা অংশ হয়ে থাকত, এত লোক মরত না, এত লোক ঘরছাড়া হত না। ভারত সরকার একেবারেই সে চেষ্টা করে নি কোনওদিন। বন্দুক আর বেয়নেট দিয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছে প্রথম দিন থেকেই, যার ফলে সেদিনের সামান্য কাটাছেঁড়া আর পচে গ্যাংগ্রিন হয়ে গেছে। অঙ্গ কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া বোধ হয় আর সত্যিই কোনও রাস্তা নেই। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ভারত সরকার, ভারতের সেনাবাহিনি।

          Like

      3. আর এটাও আপনার অজানা থাকার কথা নয় যে Pakistan occupied Kashmir (POK) এর জনগণ এখন ইন্ডিয়া তে আসতে মরিয়া । পাকিস্তান ওদেরকে কোন সুবিধাই দেয়নি । না স্বাস্থ্য – না শিক্ষা – না ন্যুনতম নাগরিক সুবিধা। মধ্য – প্রাচ্যের তেলের টাকায় আর আমেরিকার F16 দিয়ে ইন্ডিয়ার পিছনে লেগে থাকা যায় , জিহাদ কে পুষ্ট করা যায় – মানুষ মারা যায় ,কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন করা যায় না।

        Like

        1. জানি। আবারও, খণ্ডচিত্র দেখবেন না। আমি পুরো ছবিটা আমার লেখায় দিই নি – আমি শুধু এবং শুধুমাত্র কাশ্মীর ভ্যালির কথা লিখেছি। কাশ্মীর রাজ্যের আরও অনেক অংশ আছে, সেখানকার গল্প অনেক আলাদা। পরে লিখব এ বিষয়ে।

          Like

      4. বেশ রিটালিয়েশন করার অধিকার কেবল মুস্লিম-দেরই মজ্জাগত। এবার বলতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কোটি – কোটি হিন্দু বিতাড়ন কিসের রিটালিয়েশন ছিল ? আর ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশ এটা নিয়ে কি ভেবেছে ? এইটা নিয়ে একটা লেখা লিখুন দেখি– আমারও ভালো জানা নেই । কিন্তু মানুষ – গুলোর দুর্দশার সাক্ষী আমি । আর আপনি যেই এটা নিয়ে বলবেন / লিখবেন — পশ্চিমবাংলার ( এবং বাংলাদেশের) কাঠ মোল্লার নীরব হয়ে যাবে — strategic silence– যেটা ৩৪ বছর বামেরা প্রাকটিস করে এসেছে। ধন্যবাদ।

        Like

        1. ধুর মশাই, ধর্মের লাইনে খেলবেন না তো। পণ্ডিতদের যদি ইচ্ছে হয় তো তারা রিট্যালিয়েশন করবে। কে রিট্যালিয়েট করবে, কে করবে না, সেটা কি আমার সমর্থন নিয়ে করবে নাকি? যে কোনও সমস্যাতেই ধর্মের অ্যাঙ্গেল না ঢোকালে গল্প তৈরি হয় না নাকি?

          আর কথা এগোবার ইচ্ছে নেই। আপনার মতাদর্শ পাল্টানোরও আমার তরফে কোনও চেষ্টা নেই। ধন্যবাদ।

          Liked by 1 person

          1. #intolerant হয়ে গেলেন দেখছি । আপনার ব্লগ আপনি আপনার মতাদর্শ চালাবেন । আপনার জমি (অচলসিকি) এটা — তাই জমিদারিটাও আপনার। আর গল্পে তো অলরেডি ধর্মের অ্যাঙ্গেল জ্বল – জ্বল করছে । কাশ্মির থেকে বেছে বেছে হিন্দু বিতাড়ন হল। তখন সেটা তো ইন্ডিয়া-র দায় তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার (বিপ্লবীদের কোন দায় থাকে না)। একটা ভ্যালির হাতে -গোনা (সংখ্যায় বাংলাদেশের হিন্দু শরণার্থীর ১০%) মানুষের জন্য আপনার কয়েকশো গ্যালন চখের জল বেরিয়ে গেল। এই “truncated view” যে কাঠ-মোল্লাদের আরও তোল্লাই দেবে – তা নিজের ব্লগে ওদের আহ্লাদি কমেন্টগুলো পড়লেই বুঝবেন। আর এরপর আমার কমেন্টগুলো ব্লক করার সঙ্গত অধিকার আপনার হাতে থাকল (কারন জমিদারিটা আপনার) । আর তালিবানি ফতোয়া আর লৌহ – প্রাচীরের কথা কে না জানে। মুশকিল্ হল –আপনি লেখেন মেঘের আড়াল থেকে –নিজেকে হিন্দু -ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে (আবার বিফ-পর্ক খাবার প্রগতিশীলতা জাহির করে) । আমি আমার নিজের আইডেন্টিটি গোপন করে লিখি না (আর বিফ-পর্ক-দুধ-ছানা-ঘি – মাখন-বার্গার – পিজ্জা দিয়ে নিজের প্রগতিশীলতা জাহির করি না)। আর – বাম কে বাম বললে যদি গাত্রদাহ হয়– তাহলে আর #tolerance বলে কি থাকল? আর আমি কোন মত বা আদর্শ চালাতে চাই নি । তর্কের মধ্যেও যেতে চাই নি — শুধু বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থী নিয়ে আপনার মতামত জানতে চেয়েছহিলাম। তর্কে কোথাও পৌ৺ছানো যায় না।

            Like

  5. দেখুন আমি আপনার কাশ্মীর এর ভারতে অন্তর্ভুক্তি, বাংলাদেশ লিবারেশান্ ওয়ার আর হায়দ্রাবাদের গল্পটা ছাড়া বাকি সবটুকুর সাথে একমত। আমি কাশ্মীরের ভারতে অন্তর্ভুক্তির গল্পটা জানি, এটা কখনোই জোর জবরদস্তি চাপিয়ে দেওয়া নয়, পরিস্থিতিই দায়ি, হায়দ্রাবাদ , কাশ্মীর ছাড়া আরো ৫৬০ টা princely state ছিল, কোন পরিস্থতিতে কেন মহারাজা হরি সিং instrument of accession এ সই করেছিলেন সেটা জানার প্রয়োজন রয়েছে এবং তৎকালিন কাশ্মীরের জনগন কি চেয়েছিলেন সেটাও, সাথে শেখ আবদুল্লার ভূমিকাও, আর এটাও বোঝার দরকার আছে ১৯৪৮ যে রক্তক্ষয়ি যুদ্ধটা ভারত লড়েছিল সেটা কাশ্মীরকে ওই ৮০০০ আর্মড্ ইনভেডার্স দের হাত থেকে বাঁচাতে, পুরো স্টেট কোলাপ্স করে গিয়েছিল, ডিফেন্স বলে কিছু ছিলইনা, এর ই মধ‍্যে অনেক inticacy এর গল্প আছে, day by day details টা আমি শেয়ার করে দেব আপনাকে, সাথে হায়দ্রাবাদ টাও,লিখে জানানো অসম্ভব

    Like

  6. valo lekha. ei sob niye alochona hok ..bitarko hok. sob e thik ache kintu ekta byapar kichutei mante parlam na .. ei je indian flag orano niye apotti university te. kasmir bharote thakbe kina seta to alda bitarko. ei byapare apnar ki mot ?

    r ekta byapar holo je ei andoloner slogan gulo r ektu valo r relavent hole valo hoto na ki ? mane .. “bharat ki barbadi tak jang rahegi” er badole “kashmir ki ajadi tak jang rahegi ” bollei to jhamela kome jeto.

    asole apni o janen je byapar gulo eto sahoj noi je ekdin e solve hoye jabe .. It’s good to create awareness about what we have done to kashmir kintu seta to hocche na eivabe ,.. ete to sob ghete jacche r RSS ei sujoge deshvakto sajche. apni ei sob byapare porechen jenechen se byapare sandeho nei kintu jader tv te dekha jacche anodoloner samarthok hisbe tader common sense er avab ta kintu sobar kachei spasto r sekhanei main problem bole amar dharona.

    Like

    1. ভারত কি বরবাদী তক জং জারি রহেগি – কেউ কি কোথাও এটার সমর্থন করেছে? আমি করেছি?

      না, করি না। কিন্তু তার মানে এটাও মনে করি না এটা বলা মানে দেশদ্রোহ, সিডিশন। আমেরিকায় হরবখত এই ধরণের স্লোগান দেয় প্রচুর আমেরিকান – আমেরিকা নিপাত যাক, আমেরিকা ধ্বংস হোক। লোকে সমর্থন করে বা নিন্দে করে, কিন্তু পুলিশ বা সরকার, কেউ তাদের ধরে না। কিচ্ছু করে না। বরবাদী বললেই কি ভারত বরবাদ হয়ে যায় নাকি? দেশের কাঠামো এত ঠুনকো?

      আমি মনে করি না ভারত কি বরবাদী বলে ছেলেগুলো কিছুমাত্র ভুল করেছে। কম বয়েসের উচ্ছ্বাস তো থাকেই, সেটা দেখব না? মা রাগের মাথায় বাচ্চাকে বলে – তুই মরিস না কেন? তুই মরলে আমার হাড় জুড়োয়। মা-কে কি খুনের দায়ে পুলিশ ধরবে? আইন কী বলে?

      Like

      1. america r sathe tulona korte jabo keno ? seta to sei “pakistan e giye bolun dekhi” gocher kota hoye gelo.

        apnar udaharone ektu vul hoye gelo “আমি মনে করি না ভারত কি বরবাদী বলে ছেলেগুলো কিছুমাত্র ভুল করেছে। কম বয়েসের উচ্ছ্বাস তো থাকেই, সেটা দেখব না? মা রাগের মাথায় বাচ্চাকে বলে – তুই মরিস না কেন? তুই মরলে আমার হাড় জুড়োয়। মা-কে কি খুনের দায়ে পুলিশ ধরবে? আইন কী বলে?”
        ekhaner ghotona ta holo je: Ma annoi koreche ekta byapare. ek chele seta jante pereche r tar protibad korche parar loker samne. uttejito hoye mayer mrittu kamonao korche. ekhon tar r ek vai je byapar ta samondhye beses kichu jane na hatat kore mayer mrityu kamona sune khepe geche khub swavabik vabei uttejito hoye tar vai er mrityukamona korche”

        Like

        1. অনেক দেশের সংবিধান পড়ে, ঘেঁটেঘুঁটে, তার ভালো ভালো জিনিসগুলোকে কালেক্ট করে আমাদের সংবিধানটাকে বানানো হয়েছে যে! ভালো উদাহরণের জন্য অন্য দেশের তুলনা টানলে ক্ষতি কী?

          কারুর ভারতের ওপর রাগ থাকলে সে একশোবার স্লোগান দেবে ভারত কি বরবাদী বলে। তাতে ভারতের কিচ্ছু এসে যায় না। দুনিয়ার বহুদেশে এ রকম দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। কোনও দেশ তাতে স্লোগানদাতাকে সিডিশন চার্জে জেলে পোরে না।

          Like

      2. The blanket statement of ‘People get away with anti-american slogan and activities. No retribution from the police, intelligence’, is not entirely true. Look out for Bikram Buddhi or Occupy Wall street movement as case in example.

        While i agree with you on certain parts of the article, liberating Kashmir at this stage would not be very simple. With people of Jammu and Ladakh would be having a different voice than that of Kashmir, India would end up playing the role of Britain while liberating India from its imperialism. Keeping Kashmir however has become a very expensive affair for Indian tax payers.

        Like

  7. Tobe bharat ki barbadi taq jung chalegi? Kashmir er swadhinota paoar jonno bharat k borbad korte habe? Eta ki ugro chorompontha noy? Pakistan zindabad korlei ki somosya samadhan hoe jabe? Videogulo asha kori dekhechen…. koekta karikuri ba sajano thakleo odhikangshoi genuine… apnar jana proyojon j kashmir sudhu soundorjer jonno noy… strategic karaneo bharater kache important… east india company chhara bharat e ar j j invasion gulo hoeche… most of them through kashmir and nearby areas right from the time of alexander…. ajke jodi kashmir k swadhinota dieo deoa hoy… apnar mone hoy pakistan china bose thakbe? Tokhon o kintu tader biruddhe strong thakar jonno india kei sahajyo korte egie aste hobe… sekhetre inernational relationships will be unsettled that can even lead to inernational polarization… Bharat namok bhukhander integrity r jonno kasmir k rokkha kora proyojon… obosyo e atyachar kore ba bhoy dekhie noy… indian army r karjokolap 100% right noy manchhi kintu aj k j apni bose eto boro post ta likhte parchhen …. apnar mathar opor boma porchena sera kintu tader e jonno… apni karor pokkhe non…. niropekkho motobad dichchen valo kotha kintu kaekjon kharap bole puro army kharap eta bolte paren na. Ar rape er katha… mubinar katha jokhon uthlo boli…. nirvaya k jara rape o murder korechhilo…. tara army r chhilo na… apnar amar motoi civilian chhilo… er theke ki dhore bebo purush matrei kharap? Over generalization kore ki lav? Bangladesh er koekta locationgoto advantage ache… take akraman korte hoke pakistan k bharatiyo othova chin desher modhye die othoba indian sea territory r kach die egote hobe…. seta tader pokkhe kothin but kashmir er obosthan alada…. ebong kashmir aotay elei pakistan er moto feudal mentality r desh bharat k tukro tukro kore chhirbe….. tokhon apni apnar niropekkhota bojay rakhte .parben to? Aj o danabya machhdhora jelera jodi samydrashima longhon kore …. tader sarajibon pakistan er jele poche morte hoy… kothay tader jonno to jnu ju er chhelemeyera kokhono protest kore na… amar to mone hoy bharat jothesto tolerant….. sobseshe boli apnar lekha otyonto bolishtho ebong juktipurno… boi duti ami pore dekhbo obosyoi…. thank you for ur take on the matter

    Like

  8. দেশের একপ্রান্তে অত্যাচারিত মানুষের স্বাধীনতা কামনায় দেশের রাজধানীতে (সাধারণ নাগরিকদের রক্ত-জল করা উপার্জনের টাকা থেকে সাবসিডি পাওয়া) ছাত্রদলের মুখ থেকে “ভারত কি বরবাদী, পাকিস্তান জিন্দাবাদ বা ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে” শুনেও শান্ত থাকব বা সহানুভূতি দেখাবো – এ আশা করেন কি করে? এ তো হুমকি ছাড়া কিছুই নয় – ছাত্ররাজনীতি না জঙ্গি-সংগঠন? আপনার কথা মানতে হলে তো সমস্ত জঙ্গি সংগঠন উত্থানের ইতিহাস পড়তে হয় – আর তাদের সমর্থন করতে হয়। পার্লামেন্ট-এ হামলা করা আফজল গুরু “শহীদ”? ভাবুন তো – আপনার পাশের বাড়ির স্বামী তার স্ত্রীর ওপর অকথ্য অত্যাচার করে; আর আপনি শান্তশিষ্ট মানুষ্, তার প্রতিবাদ করেন না। দুদিন পর কিছু লোক এসে সেই স্বামীর দোষের জন্য পুরো পাড়া জ্বালিয়ে দেব – এই হুমকি দিয়ে চলে যায়। তার জন্য আপনি তাদের পক্ষ নেবেন, না পুলিশকে ফোন করবেন?
    যে দেশের ওপর আপনার সেন্টিমেন্ট কাজ করেনা, যে দেশের অস্তিত্ব কেবল আপনার কাছে মাটি আর জল বলে মনে হয়, সেই দেশের নাগরিকত্বের সমস্ত রকম সুযোগসুবিধা ছাড়তে পারবেন কি? ছাড়তে আসলে হবে না – ভারত সহনশীল দেশ বলেই আপনার মত বা জে.এন.ইউ এর ছাত্রসম্প্রদায়ের মত লোকজন এই কথা বলে পার পেয়ে যান। পাকিস্তান হোক, কি বিশ্বের যে কোনো দেশ হোক, এই রকম কাজ করলে কি হাল হতে পারে সেটা একটু চোখকান খোলা রাখলেই জানা যায়।
    আমাদের সত্যি কিচ্ছু বলার থাকত না – যদি এই সব কথা বিজেপি-র বিরুদ্ধে হত। আমাদের সত্যি কিছু বলার থাকত না – যদি আফজল গুরুর সন্ত্রাসবাদ না থাকত। হুমকি দিয়েছে মানেই কি সত্যি ভারত টুকরো করবে – এরকম হালকা ভাবেও তাই নিতে পারছি না – সরি। “এক আফজল মারোগে, হাজার আফজল নিকলেগা?” মারতে হয়, অত্যাচারী সেনাদের বিরুদ্ধে স্টেপ নিন। সাধারণ মানুষ তথা দেশের বিরুদ্ধে হুমকি কেন? আমি সন্ত্রাসবাদী মেন্টালিটি বললেই দোষ? বাহবা আঁতেল।

    Like

      1. পড়েছি। খুঁটিয়েই পড়েছি। অনুরোধ করছি আপনাকে – একটু বোঝার চেষ্টা করে দেখুন নিচে কি বলেছি। বোধ করি বোগাস নয়।

        আফজল গুরু-র সাথে অন্যায় হয়েছে – তাকে ফাঁসি দেওয়া উচিত ছিল না – তাকে ফ্রেম করা হয়েছে – যদি এসব দাবিও সত্যি বলে ধরে নি (বেসিকালি সত্যি নাও হতে পারে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম প্রবাবিলিটি ০.৫) – তাহলেও অন্যায্য বিচারের “ভিকটিম” বলা হোক তাকে। শহীদ?? এদের ধারণা আছে শহীদ কাকে বা কাদের বলা হয়? শহীদ পর্যায়ে কারা পড়ে – সেই ধারণা আছে?

        দেখুন, কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার, আর্মির অকথ্য অমানুষিকতা কোনকিছু জাস্টিফায়েড না। কোনকিছুই না। গভর্নমেন্ট এবং ক্ষমতাশীল লোকেরা এর জবাব দিতে বাধ্য বৈকি। তবে যাই হোক না কেন, ভারত বিরোধী ওই রকম জঘন্য শ্লোগান কোনভাবেই শুনে চুপ করে থাকা যায় না। কোনভাবেই না। ওই যে বললাম, তাহলে সন্ত্রাসবাদীদের সাথে পার্থক্য রইলো কই!

        আমার এক বন্ধু উজানের একটি কোট দিয়ে শেষ করব। “কেউ ই ধোয়া তুলসীপাতা না। কেউ-ই না।”

        Like

        1. সবটাই তো ডিপেন্ড করছে আপনি টেবিলের কোন সাইড থেকে ঘটনাটা দেখছেন, তার ওপর। ক্ষুদিরাম, বিনয় বাদল দীনেশ আপনার চোখে শহীদ, ব্রিটিশের চোখে সন্ত্রাসবাদী। ভগৎ সিং আপনার চোখে শহীদ, ব্রিটিশের চোখে সন্ত্রাসবাদী। ঠিক তেমনি নাথুরাম গডসে আপনার চোখে সন্ত্রাসবাদী, আরেসেস চাড্ডিদের চোখে শহীদ। আফজল গুরু আপনার চোখে সন্ত্রাসবাদী, স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের চোখে শহীদ। অন্যদিকটাও দেখুন স্যার, একমত না-ই হলেন, অন্তত অ্যাকনলেজ করুন যে একটা “অন্য” দিকও আছে।

          ভারতবিরোধী স্লোগান দেবার সাথে সন্ত্রাসবাদের কোনও সম্পর্ক নেই। দুনিয়ার অনেক দেশে বসে বিপ্লবীরা দেশবিরোধী স্লোগান দেয়। আমেরিকাতেও দেয়। কেউ তাদের সন্ত্রাসবাদী, দেশদ্রোহী বলে না, পুলিশ তাদের ধরে না। রাস্তায় বা ওয়ার্কপ্লেসে তাদের কেউ হ্যারাস করে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা একেই বলে। ভারতের ওপর রাগ থাকলে একশোবার ভারতবিরোধী স্লোগান দেবে। সব্বার হক আছে দেবার। ভারতবিরোধী কাজ করলে, তবে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয় এ দেশে।

          Like

  9. কাশ্মীরে আছি গত দুবছর ধরে। কি পরিমাণ ভয়মিশ্রিত ঘৃণা বুকে একটা জনগোষ্ঠী তাদের দিন রাত কাটায় তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। ৯০ এর ঘটনাগুলোর কারণে কাশ্মীরের এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না, যারা তাদের স্বজন হারায়নি।

    Like

    1. প্রথম কাউকে পেলাম যিনি একদম চোখে দেখা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। সত্যি ভাই, আমরা কাশ্মীরের বাইরে বসে জানতেও পারব না কতটা আগুন কতটা রক্ত ছড়িয়ে আছে কাশ্মীরের উপত্যকায়। আমাদের পক্ষে বোঝা সত্যিই সম্ভব নয়।

      Like

  10. Vai, tomar eto boro post ta purotai portam. Bt ek jaygay atke gelam. Achha tumi toh chao Kashmir swadhinota pak. Amio chai. Bt Pakistan ki chay.. Eto boro boro lecture ektu odeshe gie sunie aaho toh. Adou trpr firte parbe ki? Odeshei ‘sohid’ kre debe… R a vai, ektu baki world a ki hchhe khabor rakho,tkn na hy bujbe Kon deshe ktota valovbe tumi beche acho.. Jao na, ektu china k gie bolo toh ‘tibbet’ freedom chay. Oder dao. Rply ta Pakistan er motoi peye jbe. Pok ble ekta ktha ache. Pak occupied Kashmir. Etoi jkn azadi chao toh oder gie ektu bolo na eta kano dokhol kre rekheche… U have no gut to that. So ebar r loker dristi akorshon na kre ghumie poro…

    Like

    1. খুবই প্রচলিত প্রশ্ন, কথায় কথায় পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা টানা। পাকিস্তান কী চায় সেটা পাকিস্তানই ঠিক করুক, আমি ঠিক করার কে? আর ফর দ্যাট ম্যাটার – পাকিস্তানেও প্রচুর আমার মত লোক আছে যারা কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে। দেশ মানেই সরকার নয়, দুটোর মধ্যে তফাত আছে সেটা বুঝতে হবে।

      ও দেশে গিয়ে লেকচার শোনানোর আমার কোনও দরকার নেই, কারণ ও দেশে এই রকমের লেকচার ইতিমধ্যেই অনেক লোক দেয়। দ্বিতীয়ত “পাকিস্তানে গিয়ে করতে পারবেন?” টাইপের প্রশ্নে আমার সত্যি এখন হাসি পায়। ভারত আর পাকিস্তান দেশের কাঠামো যে সম্পূর্ণ আলাদা। পাকিস্তান একটি ধর্মভিত্তিক দেশ, ভারত গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আপেল আর কমলালেবুতে তুলনা চলে নাকি?

      Like

  11. Kono rokom somadhan chara , jara somosya ke khuchie tole tara to somajer sustho jibon ta ke aro aswavabik kore dei. Apnar lekha ebong motamot dui e porlam. Kashmir e ja hoi ta kono sikhkhito manush er pokhkhe mene neoa sombhob noi. Amio mani na. Kintu er somadhan ta ki ? fb chere bairer duniya te asun . ekta sushthu somadhan bolun .tobe giye complete bolte parbo apnar lekha ke. Ami ekadhare go mangso o suor er mangso dui e anonder sathe kheye thaki. Pub e bose Jack Daniels o chou nach dekhte dekhte mohua dui e kheyechi. Sutorang jat pat based bichchinotabadi mentality amar modhye nei.
    Ebar apnake prosno etai je jat – pat egulo sorie dilei ba monushyotyer bikash ghotlei sob somosya mite jai eta khub e sohoj katha.Kintu tar implementation ta ki otoi sohoj?

    prosongoto bole rakhi JU ba JNU ei dui universityr bohu bidroher ami somorthok .Ami nije Ju er student. Ekhon katha holo ei je biplob etate apapnar dabi “India ki barbadi” ba “Pakistan zindabad ” na hoye indian army r against e ba tader otyachar er against e hoya uchit chilo na ki? Manchi ekdine ei awaj otheni. Kon sentiment theke ei awaj esche seta na anubhob korleo korar chesta korchi. Kintu tar jonnyo je poth e apni ba apnara hata suru korte chaichen seta ki adou gothonmulok ? Kashmir ke azadi deoa mane International market e India ebong kahmir er poroborti abostha ta ki hobe tar porinam vebechen? Indian army ba govt. vul korche bolei apni o vul slogan tule bidroho korle terrorist r apnar modhye difference ta ki? Kashmir ba Manipur er otyachar er birudhdhe slogan tulun , ami noi gota Bharot er sikhkhito lok der pashe paben . Tar azadir slogan tule aro vul pothe hete seta hasil korleo tar poroborti porinam gulo vabun tahole ashakori amake bujhte parben.

    Amr sesh boktobyo ami manobikotar pokhkhye. kashmir ebong North east er atyachar er birudhdhe.

    Like

  12. aapni aamar lekha chhapben na, kintu aapnar lekhay prochur dhop achhe…Kashmir-er modhyei oneke achhe jara seperate hote chay na…jara seperatist tara army otyachar-er kotha bariye likhe sentimental vote pabar chesta korchhe…Kashmir-e sena berechhe only after the militant incidents…ask the pandits why sena is needed…youtube-e JNU niye ekta video-r sesher dike ekta kashmiri meye-r interview achhe

    Like

    1. আমি ছাপা না-ছাপার কে? কমেন্ট করেছেন, আমি অ্যাপ্রুভ করে দিলাম। কারুর মুখ বন্ধ করে দেওয়া, মতে না মিললেই, সেটা আমার স্বভাব নয়। আলোচনা স্বাগত।

      Like

  13. aapnar lekhay je koto dhop/ashongoti achhe aami segulo facebook-e alochona korbo…anyways, Bangladesh instance is pretty nuanced from what is happening in Kashmir…aapnar pathokra segulo na porashona korle bujhbe na,,,I admire your writing…atleast lokera jaanchhe je seperatist-der boktobyo ekebaare phele dewar moto noy…
    Cinema-r naamgulo ektu janaben…boi kine porar somay nei – sotyi bollam

    Like

    1. ধন্যবাদ। কাশ্মীর সমস্যা বাংলাদেশের জন্মের ঘটনার সাথে হুবহু মিলে যায়, এমনটা আমি বলতে চাই নি। প্রতিটা সমস্যার নেচার আলাদা। তবে মূল কাঠামোটা একই রকমের, শুধু এক ক্ষেত্রে ভারত রক্ষকের ভূমিকায়, অন্য ক্ষেত্রে ভক্ষকের ভূমিকায়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। মেরা ভারত মহান বললেই যে দেশটা মহান হয়ে যায় না, অন্য অনেক দেশের মত এই দেশেরও প্রচুর দোষ আছে, সেটা বোঝাতে চেয়েছি। আজকের জাতীয়তাবাদীরা ভারতরাষ্ট্র এবং ভারতের সেনাবাহিনিকে প্রায় ভগবানের উচ্চতায় তুলে দিতে চাইছে। আমার আপত্তি সেইখানে।

      Like

  14. I agree with your view in most of the part of your writing..except for few things…Bangladesh is an Independent country since 1971. India supported Bangladesh but they never occupied them. Do you think Pakistan will take the the same stand as India in regards to Kashmir? They do not even believe in the word called democracy, after relentlessly supplying cross border terror for last 3 decades, they will let Kashmir to be independent & not occupy them? To me Independent Kashmir is a myth, they will either be with India or with Pakistan. You said, Kashmir did not have adequate strength to fight against Pakistan and hence asked help from India (আসলে পাকিস্তান তখন তাল ঠুকছিল কাশ্মীরকে তাদের অংশ বানাবার জন্য। ছোট্ট দেশ কাশ্মীরের ক্ষমতা ছিল না পাকিস্তানকে প্রতিহত করার। রাজা হরি সিং ভারতের সাহায্য চান – ঠিক যেভাবে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের সাহায্য চেয়েছিল।), so now they have everything to retaliate Pakistan and reign as free country? And Pakistan, after occupying Kashmir, will sit back quite? They wont plot bigger plan to occupy other parts of India ( like unhappy Manipur etc), are we all ready to go thru all these? I support democratic right of Kashmiri people when they air their voice for freedom, but we need to think wisely, because the problem is not so simple.

    Like

  15. আপনার লেখা খুব-ই ভালো লাগল. কয়েকটা কথা বলব আর কয়েকটা জিনিস চাইব.
    প্রথমে চাওয়ার পালা – ওই দুটো বই বাদে আর যে কয়েকটা বই আর দুটো সিনেমার কথা বললেন – সেগুলো-র নাম গুলো আমায় ই-মেইল করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো.

    চাওয়ার পালা শেষ, এবার বলি.

    আপনার আলোচনায় কয়েকটা তত্ত্বগত আর তথ্যগত অনিচ্ছাকৃত ভুল আছে বলে আমার বিশ্বাস, আমি ভুল করলে শুধরে দেবেন. আর আমার কথায় সারবস্তু আছে মানলে আমায় জানাবেন.

    প্রথমত, আপনি বাংলাদেশ এর সৃষ্টি নিয়ে সাঁটে যা বলেছেন তা নিখুঁত কিন্তু যখন সেই একই গল্প আবার বলছেন, এবার কুশীলব বদল করে, তাতে আমার একটু আপত্তি আছে. কারণ, আমি যদ্দূর জানি, পূর্ব পাকিস্তান কে দখল করার প্ল্যান করে ভারত মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেনি. করেছিল – যতদূর জানি এবং বুঝতে পারি, আপামর জনতার কাছে বোধগম্য নেহাত-ই মানবিক কারণে এবং তৎকালীন ভারত সরকার-এর কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তখনকার সময়োপযোগী রাজনৈতিক কারণে. আর আমি তাতে বিশাল ভুল কিছু দেখতে পাইনি. কাশ্মীর-এর প্রতি পাকিস্তান-এর এহেন গঠনমূলক সদিচ্ছা আছে বা ছিল বলে প্রমাণ পাইনি. নেইও.
    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারত-কে ঐ এক-ই কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের ধার্মিক সুড়সুড়ি দেওয়া বিষবৃক্ষের পাতা শোঁকাতে হয়নি – কারণ যে লোহা-গলানো যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ-এর মুক্তিযুদ্ধ পরিণত হয়েছে তাতে তার লক্ষ্য এতো সাবালক যে ঐ ছেঁদো ধার্মিক সুড়সুড়ি-র পিছনের অভিসন্ধি খুব সহজেই বুঝে যেত এবং বাজে কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দিত. সর্বোপরি ভারতের সেই উদ্দেশ্য ছিল-ও না. অতএব আপনার একই নাটকের অন্য চরিত্রায়ণ a bit flawed বলেই আমার বিশ্বাস.

    তৃতীয়ত, কাশ্মীর-এর সাধারণ মানুষ ভারত-এর অংশ হয়ে কি কারণে খুশি ছিলেন না তা স্পষ্ট নয়, বা কি কারণে চাননি ভারত – এর অংশ হতে. আমি যতদূর জানি ভারতের কাশ্মীর-এর প্রতি বৈষম্যমূলক এবং চাপিয়ে দেওয়ার মনোভাব ছিল না. কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অংশ হলে কোন রাজ্য যেটুকু আভ্যন্তরীণ সার্ব্বভৌমত্ব পায় বা যতটা কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ মানে (সব-ই একটা অত্যন্ত matured সংবিধান মেনে) সেইটুকুই কাশ্মীর পেত. আর তার বদলে তার নাগরিকদের জন্যে নিত পরিপূর্ণ ভাবে সভ্য ও স্বাধীন জীবনযাপনের অধিকার।

    চতুর্থত, কাশ্মীর এর সাধারণ মানুষ রাজা হরি সিংহের ওপর নির্ভর না করে নিজেরা কোন উপায়ে পাকিস্তান – এর উদ্যত আক্রমণ প্রতিহত করতে পারতেন কি? যেরকম মুজিবর করেছিলেন? আজাদ কাশ্মীর শুনতে ভালো কিন্তু practically তা কি হবে তা সবাই জানে।

    কিছু ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন.

    Like

      1. Achol-shiki..birat bigyermoto bolechen bangladesher kotha… amar onek porashuna ache bangladesher rajniti sonkranto bishoye…bharot bangladeshe’r mukti judhdhe sohojogita eai jonno korechilo je udbashtu somosha ekti birat somoshya hoye darachilo…aar bangladesher mukti judhdho ekti dharabahik andoloner foshol…. 1940 te Abul Kalamer Don potrika’r interview ta porun ochol-shiki, tar por na hoy gyan bitoron kimba bibhed bitoron korben……

        Like

  16. স্যার, আমার কমেন্ট পড়ে আমাকে পাগল মনে হতে পারে, কিন্তু আমার বক্তব্য হল, যা চার্লস ডারউইন বলে গেছেন, ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’।। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পেশীশক্তি বেশি ছিল, তাই ভারত মহান হয়েছে। কাশ্মীরের ইতিহাস যাই হোক, তার বর্তমানটা কিন্তু ওই এক পেশীশক্তির আস্ফালন। এক কথায় এই সমস্যা বোঝানো বা তার সমাধান করা কোনটাই সম্ভব নয়। যাই হোক, আপনার লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। অনেকের মত আমিও কাশ্মীরের ইতিহাসটা জানতাম না, কিন্তু এখন জানি।

    Like

  17. ধন্যবাদ, উত্তর -এর অপেক্ষায় রইলাম। আমি যে specific points গুলো লিখেছি exactly সেগুলোর ওপরে-ই আগে উত্তর দিলে খুশি হব।

    আরেকটা কথা, আমার চাওয়া জিনিসগুলো যদি জলদি পাঠান, কৃতজ্ঞ থাকব।

    Like

  18. আপনার already so much complete website টা কে আরেকটু complete করার জন্য জানাই…. Comment এর সময় অপরাহ্ন এবং “পুর্বাহ্ন” লেখা – ওটা মনে হয় “পূর্বাহ্ন” হবে। প্রথম বানানটা বোধহয় ভুল। আপনি বাংলা বানানের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন, একটা Comment এর উত্তরে আপনার জবাব দেখে বুঝলাম। তাই অপ্রাসঙ্গিক Suggestion দেওয়ার সাহস করলাম ….

    Like

  19. Dekhun, amra jodi Kashmir ta chere diy, tahle seta pakistan surely capture korbe…Directly noy, indirectly…Ar Pakistan-India r su-somporko amra sobai jani…Evabe ekta notun nature-shielded strategic front sotru r haat e tule deoar ki kono maane hoy ?

    Kichu khetre otyachar hoyeche, ta sotty…But besir bhag tai apnader moto kichu intellectual er antlami !

    Like

  20. সীমিত বা সুপ্ত জ্ঞান থেকে একটা কথা জীজ্ঞাসা করছি, সব রাজ্যই যদি পরপর পৃথক হবার দাবী জানায় তখন সেটা ও ভেবে দেখা টাই কি দেশের কর্তব্য হওয়া উচিৎ? সরকার বললাম না ইচ্ছা করেই।

    Like

    1. না। দেশে অনেক বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তি নিজেদের জন্য ভূখণ্ড দাবি করছে। গোর্খা, কামতাপুরি, এলটিটিই, নাগা। আমি তাদের হয়ে লিখি নি। আমি তাদের বিষয়ে খুব জানি না।

      কাশ্মীরের গল্প সবার থেকে আলাদা। যেটুকু জেনেছি, তাতে আমার মনের কথা হিসেবে লিখেছি। বর্তমান সময়, এখনকার ঘটনার জোয়ার ভাঁটা আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে।

      ব্যক্তিগতভাবে আমি কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবির সাথে সহানুভূতিশীল। কাশ্মীর ভারতের থেকে আলাদা হয়ে গেলে আমি ভীষণ দুঃখ পাব, কিন্তু ওদের স্বাধীনতার দাবিকে আমি সম্মান করি।

      Like

  21. Sundor likhechen…no doubt apnar moto lekhar quality thakle hoyto secondary ba higher secondary te valoi marks petam….
    Jai hok vonita na kore direct mudday asi….
    1. Apni ajonmo Indian thakben kina nijer gurantee tai nije nite parchen na sekhane apnar ba apnar deoa reference boi guloke kivabe gurantee te nei bolun to? Sentiment creat korar jonno nechok golpo noy tar i ba ki guarantee…
    2. Apni onno kichu korun ba na korun atleast Indian Army te join koren ni etei desher souvagyo. Apni kono army person ke janen je kashmir e posted ache??? Thakle tar reference diye koyekta ei rokom incident likhe felun na… apnar kothar sottotao thakbe r free te amra apnar critisize kore publicity o kore ditam… jai hok eta apni bhalobhabei janen apnar critisize mane apnar publicity.. so etar jonno apni history tao natun vabe likhteo kolom kapaben na… ha sotti reference diye kichu likhun na Taslima Nasrin er moto…amrao jani sotti ta actually ki…

    Apni jonmer pore by default Hindu hoyechen by choice e noi jene khub i dukhito… ta jokhon bolte ba bughte sikhlen tokhon matri-Pitri prodotyo naamkhana tyag korlen na keno?Nijer moto kore ekta nastik type name rakhtei parten…asubidha kothay…Ooo prithibite sob name kono na kono religion ke indicate korbe ei vebe korenni naki? Ta kono material er naam i rekhe dite parten… jai hok apnar bortoman naamtao mondo na “Achol Siki”

    Apnar baki disclaimer gulo niye ei muhurte kichu bolchi na… sudhu ekta kothai bolbo sentiment e sursuri diyoar jug chole geche… lpgically r solid proof diye kichu likhun sob manbo…r parle apnar paseo darabo….

    Ekhon asi Afzal Guru… apni tar terrorist howar situation ta bes valoi dhorlen… but kashmir e to Yasin Malik o beche r Gilani o beche…tai na? Indian Army eto kharap r baje hole tader ekhono keno encounter hoyni? Naki Indian Army taader birudhye aro bidroho choranor jonno bachiye rekheche…. r Govt of India tader Indian passport o diche… beparta kemon golmele lagche na? Ekdike tara AZADI chaiche r opor dike tara GOI ke vote o diche….

    Ekdike jemon tara gola fatiye nijer swadhinota dabi korche abar onno dike GOI er takate kashmir quotate north india r central unoversity te porasonao korche… jemon bengal e hill quota ache… apni janen ki esob niye? Naki reference dite hobe?

    Apni khub bole dilen Raja Hari Sing ke diye condition rekhe India te incoporate kora hoyeche…jekhane tader dabi alada desher chilo… ekta kotha amay solid reference diye boghate parben kashmere ra sudhu India thekei azadi chaiche naki Pakistan er thekeo chaiche? Jodi cheye thake tahole AZAD KASHMIR ba POK jai balun na sekhan theke emon rally keno beroche na? Sekhane emon andolan keno hoche na? Tahole ki Pakistan je kashmir ke occupy kore rekheche take ki indipendent kore diyeche???? Jodi na kore tahole eto Pakistan bhokti keno?

    Sese apnar udar bichar er jonno dhonnobad janai….aro dhonnobaad janai amar chokh khule deoar jonno je apnar moto lok o edeshe bosobas koren… apni amar puro life er myth ta sundor vabe venge dilen je believe korto amra RSS, Oasi, Zahir Nayak, Adityonath, Tamil/ Hindi, Marathi/ Bihari, Rich/ Poor er modhye jotoi na nijeder modhye lorai kori na keno atleast Desher securityr khetre sobai ekjot thakbe….

    Aj bughlam matro 50000 British 30 crore Indian der opor kivabe rajotyo korte perechilo… sei somoy o apnar moto kichu intelectual lok jon obossoi chilo jara nider bisal gyani mone korto….

    R sorbopori desh ke nai ba valobaslen atleast jeta diye ekta desher prokash pay amader Rastriyo songit, potaka tar sonman korun… jodio sonbidhan e korakori kore kichu lekha nei ei bepare tao… request roilo…oneker abeg anuvuti r sonman joriye thake to…

    Jai hok apnar poroboti prokasher opekhaye roilam.

    Like

    1. ১। আজন্ম নয়, লিখেছি আমৃত্যু ভারতীয় থাকব কিনা, আমি জানি না। … গ্যারান্টির কথা তুলে বিষয়টাকে আশ্চর্যভাবে বেঁকিয়ে দিয়েছেন, যার কোনও অর্থ এল না। তাই আপনি কীসে গ্যারান্টি নেবেন না নেবেন, সেটা আপনার ওপরেই ছেড়ে দিলাম।

      ২) আমার এক অতি পরিচিত আত্মীয় ডিফেন্স মিনিস্ট্রিতে পোস্টেড। কাশ্মীর আমার দুবার ঘোরা, মূলত আর্মির মাধ্যমেই ওখানে ঘোরাঘুরি করেছি। এখানে একটা গল্প দিয়েছি, এ রকম সত্যিই আরও অনেক আর্মির খচরামির গল্প আমার জানা আছে। আর এগুলো সবকটাই সত্যি ঘটনা। চরিত্ররা সকলেই সরকারি চাকরি করেন, তাই তাঁদের নামধাম আমি দিই নি।
      বকি ধর্মের বা পদবির গল্পটা আমি এর আগেও লিখেছি, বার বার একই গল্প লিখতে আমারও ক্লান্তি লাগে। আমার পুরনো ব্লগ – ইনটলারেন্স নিয়ে যেটা লেখা, সেটা পড়ে ফেলুন।

      বাকি বক্তব্যটা পড়লাম না – কারণ বাংরেজি পড়া আমার পোষায় না। বাংলায় লিখুন কিংবা ইংরেজিতে।

      আপনি কী বিশ্বাস করবেন, কোনটাকে সলিড প্রুফ মনে করবেন, এ ব্যাপারে আমার সত্যি কোনও হাত নেই। আমি কোর্টের সামনে ওকালতি করছি না যে একেবারে এভিডেন্স নাম্বার দিয়ে দিয়ে আমাকে ঘটনা বা তথ্যের উল্লেখ করতে হবে। এটা আমার ব্লগ।

      আরেকটা কথা কী জানেন? আমরা সকলেই পক্ষ নিই। যে কোনও ঘটনা শুনলে বা দেখলে আমরা অজান্তেই প্রথমে একটা পক্ষ অবলম্বন করে নিই, উলটো পক্ষের যুক্তিকে তখন আমাদের ক্লিশে মনে হয়, নিজের যুক্তিই সবচেয়ে মজবুত মনে হয়। এই সমস্যা কমবেশি সমস্ত মানুষেরই থাকে। এইখানে ব্লগ লিখে আপনার চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটানোর ঠেকা আমি নিই নি। ওটা আপনার নিজের দায়িত্ব।

      আর শেষ কথা, জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের সম্মান আমি করি, শুধু সিনেমা হল-এ গানটা বাজলে উঠে দাঁড়াই না বলে লিখেছি। কারণ আমি মনে করি, সিনেমা হল-এ জাতীয় সঙ্গীত বাজানোটাই আসলে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান করা। বেশির ভাগ সিনেমা হল মালিকরাই আদতে গান্ডু হয় তাই তারা ওটা বাজায়, তার পরে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ক্লিভেজ দেখায়। নিজের প্রতি আমি সৎ, সিনেমাহলে আমি প্রিয়াঙ্কার ক্লিভেজ আর সানি দেওলের বাইসেপ দেখতে যাই, দেশপ্রেম দেখানোর জায়গা সিনেমাহল নয়। তাই দেখাই না।

      Like

  22. Apnar gyan ki oi duto boi r cinema nirbhor?? Ekjon jawan jokhon terrorist der hate dhora pore thokon janen ki hoi??ki janene ek jon jawan jokhon oi kaney guad dey din er por din raat er por raat? comfort one a theke ei sob buli khub bahloe aorano jai .. ek ratey partey kashmir a ekta trek kore asben …tarpor lekha ta sesh korben tar agey noi. bhago bhalo apni India te jonmeychen , jeta k apni bolechen not by ur choice.. ektu daan dike ba bam dike jonmale ei blog lekhar por apnar kon kon jaigai electric shock laagto bola mushkil

    Like

  23. এটা আমার এক বন্ধুর কথা। আমারও।

    ————————–
    কাশ্মীরের মানুষও কি আদৌ ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চান? আমার মনে হয় যে চান না। বরঞ্চ কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় পাকিস্তান, আইএসআই আর তাদের পোষা কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। আর এদের তালে তাল মিলিয়েই কিছু রাজনৈতিক দল ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। এই প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ের কারণ স্বল্প নাকি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনা সেটা সময়ই বলবে। কিন্তু সাধারণ বিচারবুদ্ধি বলে যে আদৌ যদি তারা কাশ্মীরিদের সমস্যার সমাধানে উৎসাহী হন তা হলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়ালেই চাপ সৃষ্টি করুন। কাশ্মীরের জন্য আলাদা সাংবিধানিক সুবিধে তুলে দেওয়ার কথা বলুন। কাশ্মীর যাতে মূলধারার ভারতের সঙ্গে মিশে যেতে পারে সে ব্যাপারেই সরব হোন।

    প্রশ্ন উঠবেই যে, কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গেই আসতে হবে কেন? পাকিস্তানের সঙ্গে নয় কেন বা আজাদ কাশ্মীর নয় কেন? পাকিস্তানের সঙ্গে গেলে কী হবে তা আমরা ভাল করেই জানি। আর আজাদ কাশ্মীর যে আদৌ আজাদ কাশ্মীর থাকবে না তা-ও সবাই জানি। ওটা প্রথমে আজাদ কাশ্মীর থেকে পাক নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর হবে, তার পর পাক অধিকৃত কাশ্মীর হবে আর শেষে আর একটি পাক প্রদেশ হবে। সুতরাং আজাদ কাশ্মীর চাওয়া আর কাশ্মীরকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া একই ব্যাপার।

    আর এইখানেই আমার আপত্তি। আজাদ কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নমো নমো করে সমালোচনা করেই বাড়তি উদ্যমে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের আজাদির দাবি তোলা এক মারাত্মক বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের জন্ম দেবে সন্দেহ নেই। কাল দেশের অন্যান্য অংশেও আওয়াজ উঠতে পারে আজাদির। চিন্তা করার সময় এসেছে বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ফ্রিডম/আজাদি কথাটার অপভ্রংশ যেন তৈরি না হয়ে যায়।

    ছাত্রসমাজের হয়তো এই দায় নেই। প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিয়ে কিছু পোড়খাওয়া রাজনৈতিক দল হয়তো বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির হাত শক্ত করছে, কিন্তু তাকে মোকাবিলা করতে গিয়ে অপরপক্ষ জাতীয়তাবাদ আর দেশপ্রেমকে ‘পলিটিক্যাল রেটরিক’-এ নামিয়ে আনছেন। সামগ্রিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিচার করলে এটাও চিন্তার বিষয় বৈকি।

    তবে দেশপ্রেম কিংবা জাতীয়তাবাদ নিয়ে মতানৈক্য থাকতেই পারে, বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে দেশের সমালোচনার অধিকার’ও আছে, কিন্তু ভারত তেরা টুকরে হোঙ্গে স্লোগানের পাশাপাশি, আজাদির স্লোগান মিশিয়ে দেওয়াকে কখনওই গঠনমূলক বলা চলে না, বরং তা যথেষ্ট ইন্ধনমূলক।

    পুনশ্চ: বাবার হোটেলে খাচ্ছি বলে বাবাকে সম্মান করতে হবে, এ রকম মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি। মা জন্ম দিয়েছে বলেই অকৃত্রিম মাতৃভক্ত হতে হবে এরকম দাবও কেউ করে না। কিন্তু ভাবার চেষ্টা করছি, মা-বাবা জন্ম দিয়েই ডাস্টবিনে ফেলে রেখে চলে গেলে কী হত? সার্ত্র, কাফকা পড়া বাঙালির ইন্টেলেকচুয়ালিটির নিরিখে যুক্তিটা যাত্রাপালার মতো শোনাল বটে, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বাস্তব আর পিলে চমকে দেওয়া চিন্তাভাবনার তফাৎটা এখানেই।

    Like

    1. কাশ্মীরের মানুষদের সাথে কথা বলুন। ওদের মত কী জানার চেষ্টা করুন। তা হলেই জানতে পারবেন, কাশ্মীরের মানুষ আদৌ ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চান কিনা।

      বাকি কথাগুলোর উত্তর এক কথায় হয় না। পরে লিখছি বিস্তারিত।

      Like

  24. Prothomei apnake ekta dhonnobad eto sundor ekta lekhar jonno..sotti e khb upokrito holam..
    Apnar sathe odhikangso jaga tei ami ekmot. Kntu tobuo du ekta kotha boltei hoi,desh mane to sudhu sujola sufola dhan khet noi desh mane sudhu vije matir sonda gondho noi.sadhin desh mane slogane ‘ye ajadu jhuta h bolar odhikar noi’ desh mane kantatar,bulet. Urdi pora senar buter khotkhot auaz,judhho rokto esb o bote. By default desher border area gulo te jonmai ni bole hoyti amder sesb nie kono dharonai nei eta jmn thik abr etau thik amra dharona toiri hoini karon hyto desher opornam kantatarer bera bole.desher jawan der koto jon desh k valobese matri seba korara jonno sena bahini to jog dey ami janina tai tara o hoito manus amder motoi rokto mangser manus jara kichu poisar jonno bari ghor bou songsar sob chere orkm ekta jiboner sathe protidin mrttur sathe judhho kore.tai kashmirer dhongso upottoka theke jodi afzal gurur moto deshpremi jonmo hoi tale sei dhongso upottoka k pahara dite gie eder moto jawan rau toiri hoi.
    Ebar soja kotha boli ‘wrong is wrong even no one is saying that’.kashmir r manusher sadhinotar odhikar k ami somorthon kori kntu tar jonno afzal guru der beche neua rasta take kokhnoi korte parlam na.
    Asole ki bolun to amra sobai ekta perception nie choli jemon dekhun na ei football world cup r somy brazil Argentina khela hole parai parai amra sobai boro tv lagie brazil ba Argentina r jersey pore sara rasta oi desher flag e mure debo kntu india Pakistan cricket match hole Pakistan k valo lagleu pakiser flag tangate voy lagbe.pache keu bole deshodrohi.amr asepaser opar bangla theke asa manusera aj o bole amago dyshe 30bigha jomi ase 5khan pukur ase.kntu Pakistan theke asa lokera hyto khb sohoje bolte parena desh mane to lahore…r tar karon holo jonmer por thk amder modhhe eta dhukie deua hoi Pakistan amder sotru. R amrau onk kichu na jenei ekta monovan toiri kore feli serkm e r tai hyto amr desh o aj Pakistan thk khub beshi ektu alada ba sohonshil hote parchena..karon amra kothai kothai sbsmy Pakistan r sathe nijeder tulona korchi…anyway onk holo gd nyt

    Like

  25. হুমম, সমস্যা গম্ভীর,তবে বিকল্প সমাধানও সহজ নয়।
    দুটো পথ খোলা, হয় ছেড়ে দাও নয় ধরে রাখো।
    ছেড়ে দিলে হয়তো তাৎক্ষণিক সমাধান/স্বস্তি হবে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ সমস্যা আসবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
    এক হিন্দী সিনেমায় ডায়লগ ছিল, কভি কভি পাস কি ফায়দা কে লিয়ে দূর কি লুকসান মেহেঙ্গী পড়তি হ্যায়….!!!!
    তাই সর্বোপরি সবার ভালোর স্বার্থে ভারতের অবস্থান হয়তো সর্বৈব অযৌক্তিক নয়।

    Like

    1. ধন্যবাদ। ওইজন্যেই শুরুতে লিখে দিয়েছিলাম, যাতে অনায়াসে অংশটা স্কিপ করে যাওয়া যায়। এই লেখার দুটো পর্বের নিচে অন্য কিছু কমেন্ট পড়লে বুঝতে পারবেন ডিসক্লেমারটা কেন দরকার ছিল। সবাই এক ভাবে ভাবে না যে!

      Like

  26. As this blog is publicly available I thouht to reply a comment. Remove it if you dont like the reply.
    Ei achalsiki ekjon manaik rugi athoba kono political purposes e aache athoba anno keo ok chalache atoba pod paka bangalir moto sab bepare nak golate giye se case kheye nijer ta nijei meriyeche…anek somoy abong poisa aache ei sab g-masti korar….sab nonsense…
    Desh mane ki seta ok sekhano hoi ni…. his idea and thought is immature.
    Think of development..think how can we do some good things for our country…hasi pay TOR upor..ja chikitsa kora nijer…baki gal ta dilam na…next time jodi amar desh niye ei rokom likhish tahole khisti khabi..disclaimer kono kaje ashbe na….

    Like

  27. আকসাই চীনের ভূখণ্ডে কেউ বসবাস করেন না? যদি হ্যাঁ হয় তাহলে তারা স্বাধীনতা চান না? আকসাই চীন ও আজাদ চীনের স্বাধীনতার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কিছু জানালে বাধিত থাকবো।

    ( নিজের সম্পর্কে জানিয়ে দিই- দেশপ্রেম / দেশদ্রোহ,সংবিধান/ জাতীয় পতাকা’র প্রতি প্রেম/ দ্বেষ নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময়ের সন্ধানে আছি।)

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s