সাভারকর কীভাবে ‘বীর’ বিশেষণে ভূষিত হলেন?

জনৈক চিত্রগুপ্তের লেখা লাইফ অফ ব্যারিস্টার সাভারকর নামে একটি বই, সাভারকরের ওপর লেখা প্রথম জীবনীমূলক বই। ১৯২৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়। এই বইতে সাভারকরকে এক সাহসী বীর নায়ক হিসেবে দেখানো হয়। এবং সাভারকরের মৃত্যুর দুই দশক পরে, যখন সাভারকরের লেখাপত্রের অফিশিয়াল প্রকাশক বীর সাভারকর ফাউন্ডেশন ১৯৮৭ সালে এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত করে, তখন ফাউন্ডেশনের সম্পাদক রবীন্দ্র রামদাস জানান, বইটির লেখক, “চিত্রগুপ্ত, স্বয়ং সাভারকর ব্যতীত আর কেউ নয়”।

এই আত্মজীবনীতে, থুড়ি, চিত্রগুপ্ত-লিখিত জীবনীতে, সাভারকর পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানান যেঃ “সাভারকর আজন্ম এক সাহসী নায়ক, ফলাফলের তোয়াক্কা না করেই তিনি যে কোনও কাজের দায়িত্ব নিয়ে তা সম্পূর্ণ করতে পিছপা হতেন না। সরকারের যে নিয়ম বা আইন তাঁর কাছে সঠিক বা বেঠিকভাবে অন্যায় মনে হত, তৎক্ষণাৎ সেই অশুভ নিয়মকে সমাজের বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য তিনি যে কোনও পন্থা অবলম্বন করতে দ্বিধা বোধ করতেন না।” … More সাভারকর কীভাবে ‘বীর’ বিশেষণে ভূষিত হলেন?

ইতিহাসের দলিলে লেখা আরএসএসের দেশপ্রেমের সাক্ষ্য

বেড়ানোর গল্প শেষ হবার পরে পরে এবার একটু বিষয় বদলাই। অনেক দিন আগে থেকেই লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সময়াভাব, এবং বেড়ানোর গল্পের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যাবে বলে এই লেখায় এতদিন হাত দিতে চাই নি। দেশে এখন ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন। এই মুহূর্তে দেশের উনিশটি রাজ্য বিজেপি-শাসিত, এবং আজ, পনেরোই মে, কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনর দিন … More ইতিহাসের দলিলে লেখা আরএসএসের দেশপ্রেমের সাক্ষ্য

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৮

আগের পর্বের পর ৫ই নভেম্বর, সপ্তদশ দিন বেড়ানোর পালা শেষ। আবার গতানুগতিক জীবন মাত্র দুদিনের দূরত্বে। ফিরতে হবে। এবারে যা ঘোরা হল, স্মৃতিতে অনেকদিন ধরা থাকবে প্রতিটা দিন, আলাদা করে। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার বৈচিত্র্যে ভরা জায়গা পেরিয়ে চলা, কখনও প্রচণ্ড একঘেয়ে, কখনও বিপদসঙ্কুল। আগামী দুদিনে আমাকে ফিরতে হবে দেড় হাজার কিলোমিটার আরও। একটানা রাস্তা, সমতল, … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৮

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৭

আগের পর্বের পর ৪ঠা নভেম্বর, ষোড়শ দিন “আমার একজন গার্লফ্রেন্ড আছে বুঝলে, আমেরিকায় থাকে। আমাকে ডার্লিং বলে ডাকে। তার কাছে চারটে হার্লে ডেভিডসন রয়েছে। মাঝে মাঝেই শখ চাপলে বেরিয়ে পড়ে। বয়েস এখন মাত্র বিরানব্বই চলছে। বয়েস ফয়েস তো জাস্ট একটা নাম্বার, বুঝলে – এখনও যে রকমের ফিট আছে না সে, ইচ্ছে হলেই যখন তখন হার্লে … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৭

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৬

আগের পর্বের পর ৩রা নভেম্বর, পঞ্চদশ দিন পাসপোর্টে লেখা আছে, প্লেস অফ বার্থ, জলপাইগুড়ি। তবে কথাটা আজকের দিনে আর তেমন সত্যি নয়, কারণ আমার জন্ম হয়েছিল পাহাড়ে, আলিপুর দুয়ারে। তখন সেটা ছিল জলপাইগুড়ি জেলার একটা মহকুমা, আজ সেটা আলাদা একটা জেলা। যে মহকুমা হাসপাতালে আমার জন্ম হয়েছিল, সেটা আজ জেলা হাসপাতাল। যদিও আমার তেমন কোনও … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৬

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৫

আগের পর্বের পর ২রা নভেম্বর, চতুর্দশ দিন শেষরাতে ঘুম ভাঙল। কেমন একটা অদ্ভূত পরিস্থিতি, আচমকা যেন কেউ আমাকে অতল থেকে টেনে তুলল বাস্তবে। ঘর অন্ধকার, এবং মাথাও পুরো অন্ধকার – কয়েক মিনিট সময় নিল বুঝতে, আমি কোথায়। ধীরে ধীরে ব্রেনে রেজিস্টার করল ফ্যাক্টগুলো – আমি বারো-তেরো দিন ধরে বাড়ির থেকে বাইরে, এটা আমার বাড়ির বিছানা … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৫

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৪

আগের পর্বের পর ১লা নভেম্বর, ত্রয়োদশ দিন সক্কাল সক্কাল ঘুম ভাঙল, যথারীতি। ব্রেকফাস্ট এখানে কমপ্লিমেন্টারি। আগের দিন রাতেই বলে রেখেছিলাম সকাল সাতটায় খাব, কিন্তু রাতের খাবারটা এতই উপাদেয় হয়েছিল যে একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছি। সকালের খাবার কি খাইবার উপায় হইবে? নিচে নেমে এলাম। একটি মোটাসোটা কালো রঙের ভুটানিজ বেড়াল খুব গম্ভীর মুখে আপন মনে একটানা … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৪

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৩

দ্বাদশ পর্বের পরে অনেক বেলায় ঘুম ভাঙল কেমন একটা ঘোরের মধ্যে। ক্ষিদে পেয়েছে। না, শরীরের ব্যথা আর নেই। পেনকিলারের এফেক্ট, কিন্তু ভারী পর্দায় ঢাকা ঘরের মধ্যে বোঝা যাচ্ছে না বেলা কত হল। চোখ খুলতে হবে, কিন্তু চোখের পাতার ওজন মনে হচ্ছে কয়েক কিলো বেড়ে গেছে। নির্জীবের মত পড়ে রইলাম আরও খানিকক্ষণ। তার পরে আস্তে করে … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৩

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১২

একাদশ পর্বের পরে গাড়ি চলল থানা থেকে বেরিয়ে বাঁদিকে। এটুকু জেনেছিলাম আমরা ডিনার করব ফুন্টশোলিংয়ের কোনও এক রেস্তরাঁয়, কিন্তু ভুটান গেট তো ডানদিকে, এরা বাঁদিকে যাচ্ছে কেন? খানিক এগিয়ে বুঝলাম, মেন রাস্তার প্যারালাল আরেকটা রাস্তা দিয়ে, অন্য কোনও একটা এন্ট্রি দিয়ে আমরা ভুটানে ঢুকলাম। এমনিতে সাড়ে নটার সময়ে ভারত থেকে ভুটানের দিকে যান চলাচল বন্ধ … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১২

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১১

দশম পর্বের পরে উনত্রিশে অক্টোবর, দশম দিন ছোটবেলাটা আমার একেবারেই ছড়ানো-ছিটনো। তাই ছোটবেলার বন্ধু বলতে গেলে আমাকে আগে চোখ বুজে হাতে পেন্সিল নিয়ে ক্যালকুলেশন করতে হয়। বাবার ছিল বদলির চাকরি, ফলে এদিক সেদিক প্রাইমারি সেকেন্ডারি করতে করতে যখন ব্যান্ডেল সেন্ট জনসে এসে ঢুকেছিলাম, তখন সেটা হয়েছিল আমার পঞ্চম স্কুল। মাধ্যমিক দিয়ে বেরিয়েছিলাম এখান থেকে। এর … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১১

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১০

নবম পর্বের পরে আঠাশে অক্টোবর, নবম দিন গান শুনে ঘুমিয়েছিলাম, ঘুম ভাঙল গানের সুরে। সকাল সাড়ে ছটা, কাচের জানলা ভেদ করে ঘুমন্ত আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সকাল বেলার রোদ্দুর। আমার কিনা মুণ্ডুটাও লেপের তলায় ছিল, তাই আমি বুঝতে পারি নি। তাড়াতাড়ি উঠে ধড়াচুড়ো পরে বাইরে এলাম। কাঁচা সোনার রঙের রোদ ছেয়ে আছেসামনের মাঠটা জুড়ে, আর … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১০

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৯

অষ্টম পর্বের পরে সাতাশে অক্টোবর, অষ্টম দিন ধড়মড় করে উঠে বসলাম যখন ঘুম ভেঙে, দেখলাম কাল রাতে ঘরের লাইট জ্বালিয়েই শুয়ে পড়েছিলাম। ল্যাপটপ বন্ধ করেই কখন ঘুমিয়ে গেছি খেয়াল নেই। কী সব উদ্ভুট্টে স্বপ্ন টপ্ন দেখছিলাম কে জানে – এক ধাক্কায় ঘুম ভেঙে গেল। মোবাইলের সুইচ টিপে দেখি পৌনে সাতটা বাজে। সোনমের মেসেজ এসেছে, আমি … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৯

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৮

সপ্তম পর্বের পরে ছাব্বিশে অক্টোবর, সপ্তম দিন না, লাচেনের মত ঠাণ্ডা লাচুংয়ে নেই। অথবা হতে পারে গত দুদিন ধরে লাচেনের ঠাণ্ডা সয়ে আসার পর এখন আর লাচুংয়ের ঠাণ্ডা গায়ে লাগছে না। নইলে ঘুম থেকে উঠে, দরজা খুলতেই তো দিব্যি দেখতে পাচ্ছি যে চারপাশে বরফঢাকা পাহাড়েরা ঝকমক করছে সকালের রোদ্দুরে। ঠাণ্ডা। গা জুড়িয়ে দেওয়া হাওয়া। সকাল … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৮

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৭

ষষ্ঠ পর্বের পর পঁচিশে অক্টোবর, ষষ্ঠ দিন কনকনে ঠাণ্ডায় ভোর পৌনে পাঁচটায় লেপের নিচে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকাটা সোজা, নাকি গুরুদোংমারের ডাকে সোজা লেপ টেপ ঝেড়ে ফেলে রেডি হওয়াটা সোজা? অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করেও এর সঠিক উত্তর খুঁজে পেলাম না। সাড়ে চারটেয় অ্যালার্ম বেজে গেছে। কাল যেহেতু রাত প্রায় সাড়ে নটা থেকেই ঘুমোচ্ছি, ফলে ঘুম … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৭

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৬

– পোষাচ্ছিল না, বুঝলেন। কর্পোরেট জগতটা শালা এত বেশি হারামিতে ভর্তি, চোখের সামনে ম্যানেজারের খচরামির জন্য দুরন্ত টেকনিকাল জনতাকে একের পর এক কম্পানি বদলাতে দেখেছি, ভেবেছিলাম আমি অন্য রকমের ম্যানেজার হব, কিন্তু কর্পোরেট কালচার শালা বিষ মাল, আমাকেও ওই রকমের খচ্চর হবার জন্য চাপ দিতে শুরু করেছিল। সহ্য করা একেক সময়ে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। সিকিম আমাকে মুক্তি দিয়েছে। আমি খুশি, খুব খুশি। যা কামাতাম, তার থেকে সামান্য কম কামাই এখানে, কিন্তু এ তো আর দিল্লি নয়, যা রোজগার হয় তাই দিয়ে আমার দিব্যি চলে যায়। ভালো সেভিংস হয়। জানুয়ারিতে এসেছিলাম, আর দিল্লি যাই নি, দেখি, আসছে জানুয়ারিতে হয় তো যাবো একবার। … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৬

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৫

কেসটা কী? এমনও হয় নাকি? কোনও পেপার, ডকুমেন্ট শো করাতে পারেন নি কি তাঁরা? কান পেতে শুনে যা বুঝলাম, তাঁরা পরের দিন ছাঙ্গু আর নাথু লা যেতে চান। মানে, ইস্ট সিকিম। এখন, নাথু লা-ছাঙ্গু প্রতি সোম আর মঙ্গলবার সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকে, সেদিন কোনও ভিজিটর অ্যালাওড নয়। সহায়ক ভদ্রলোক বলছেন, আপনারা অন্য কোথাও ঘুরে নিন কালকের দিনটা, আমি পরশুর জন্য পারমিট করে দিতে পারব, এদিকে এনাদের পরের দিনেরই বুকিং আছে জুলুকে, এবং তার পরের দিনই ফেরার রাস্তা ধরতে হবে, হাতে এই একটা দিনই। তাই আকুতি, প্লিজ পারমিট দিয়ে দিন, আর ভদ্রলোক একটানা বলে যাচ্ছেন – কী করে দিই, এটা তো আর্মির রুল, ওরা অ্যালাও করবে না, দেবার নিয়ম নেই – … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৫