জলু – চতুর্থ পর্ব

চা বাগান কোথায় গিয়ে শেষ, কেউই কখনও দেখি নি, হস্টেলের ছাদ থেকেও চা বাগানের শেষ দেখা যায় না। অন্যপ্রান্তে খালি আকাশ। খালি বটে, তবে এই খালি আকাশই জাদু দেখায় নভেম্বরের মাঝ থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এটা ক্যাম্পাসের উত্তর দিক। ঝকঝকে হেমন্তের ওয়েদারে আকাশের গায়ে ফুটে ওঠে হিমালয়, পুরো নীল রংয়ের। আর সেই হিমালয়ান রেঞ্জের মাথায় মুকুটের মত ঝকঝক করে তিনটে বরফে ঢাকা শৃঙ্গ : কাঞ্চনজঙ্ঘা, সান্দাকফু, ফালুট। লোকে পয়সা খরচা করে এদের দেখতে আসে কত দূর দূর থেকে, আমরা হস্টেলের ছাদে বসে, নিজের বেডে বসে দিনের পর দিন দেখেছি কাঞ্চনের রূপ, কখনও টকটকে লাল, কখনও আগুনের হল্কার সোনালী হলুদ রং, কখনও ধবধবে সাদা, কখনও বিষণ্ণ নীল। তবে বছরে ঐ একটা সময়েই দেখা যেত, এক মাসের জন্য। তার পরেই কুয়াশায় ঢেকে যেত তরাই ডুয়ার্স। সে আরেক রূপ। … More জলু – চতুর্থ পর্ব

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৩

একটা ছোট্ট কালীপুজোর প্যান্ডেল, আর তার সামনে একদল ছেলেবুড়োজোয়ানমদ্দ খুব নাচছে, খুব। অথচ গলির ভেতরটা পুরো নিঃশব্দ। কোথাও কোনও মাইক বা বক্স বাজছে না, নীরবতার মধ্যে, কারুর মুখে কোনও কথা নেই, কিন্তু নেচে যাচ্ছে সবাই। রাস্তা জুড়ে। মোটামুটি একই ছন্দে। কেসটা কী? আমি যে একটা লাগেজবোঝাই মোটরসাইকেল নিয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে প্রায় তাদের সামনে এসে পড়েছি, তাদের জাস্ট কোনও খেয়াল নেই। একটু এগোবার চেষ্টা করতেই একটা বাচ্চা ছেলে নাচের ঝোঁকে পুরো আমার সামনের চাকার ওপর এসে হুমড়ি খেয়ে উলটে পড়ল, অমনি সবাই সজাগ হয়ে গেল, এই বাপন, কী করিস? দেখতেসিস না মোটরসাইকেল আসতেসে? … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৩