দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৪

আগের পর্বের পর ১লা নভেম্বর, ত্রয়োদশ দিন সক্কাল সক্কাল ঘুম ভাঙল, যথারীতি। ব্রেকফাস্ট এখানে কমপ্লিমেন্টারি। আগের দিন রাতেই বলে রেখেছিলাম সকাল সাতটায় খাব, কিন্তু রাতের খাবারটা এতই উপাদেয় হয়েছিল যে একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছি। সকালের খাবার কি খাইবার উপায় হইবে? নিচে নেমে এলাম। একটি মোটাসোটা কালো রঙের ভুটানিজ বেড়াল খুব গম্ভীর মুখে আপন মনে একটানা … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১৪

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৪

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের পর ২২শে অক্টোবর, তৃতীয় দিন ঘুম তো ভাঙল, কিন্তু এত সকালে তো করার কিছু নেই। খানিক ফেসবুক, খানিক হোয়াটস্যাপ সেরে আটটা নাগাদ মনে পড়ল উগিয়েনকে ফোন করতে হবে। উগিয়েনের সঙ্গে আমার আলাপ, মানে ভার্চুয়াল আলাপ ভুটানের পারমিটের খোঁজখবর করতে গিয়েই। কয়েক দিন আগেই বাংলা এক কাগজে একটি মেয়ের গল্প বেরিয়েছিল, … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ৪

দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১

একবার গাজিয়াবাদে ট্রাই করে দেখি। এখানেও তো স্মার্ট কার্ড সিস্টেম হয়ে গেছে। যদি কম নেয়। – গেলাম পাড়ার মোটর ট্রেনিং স্কুলে। সে লোকটি মহাজ্ঞানী। জিজ্ঞেস করলাম, আমার তো ভ্যালিড লাইসেন্স রয়েছে, গাজিয়াবাদেরই। আমাকে কি আবার লার্নার থেকে শুরু করতে হবে? লোকটি শুনে খুবই অবাক হয়ে বলল, লা লাইসেন্স আছে তো আবার স্মার্ট কার্ড করাচ্ছো কেন? ওটা দিয়েই চালিয়ে নাও। বললাম, ভূটান যাবো, এই এই ব্যাপার। শুনেই সে খুব উত্তেজিত হয়ে বলল, আচ্ছা আচ্ছা, ভূটান মতলব ও লাদাখ কে পাস জো গাঁও হ্যায় না? উধার জানে কে লিয়ে স্মার্ট কার্ড নেহি চাহিয়ে হোতা হ্যায়। … More দুই দেশ, ছয় রাজ্য, দুই চাকা, পাঁচ হাজার একশো কিলোমিটার ও এক পাগলঃ পর্ব ১

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ সপ্তম ও শেষ পর্ব

তিন থেকে চার সেকেন্ড। একটানা কানফাটানো কর্কশ মেটালিক আওয়াজটা শেষ হল, আর আমি ঐ পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি হেলে থাকা অবস্থান থেকে সজোরে আগের পজিশনে ফিরে এলাম। গাড়ি সোজা হল। চাকাটা কি খুলে বেরিয়ে গেছে? … না, গাড়ি গড়াচ্ছে এখনও। আমি আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় স্টিয়ারিং তখনও পুরোপুরি বাঁদিকে মুচড়ে রেখেছি। … ব্রেক কাজ করছে, রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করালাম। গাড়ি এখনও চালু। … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ সপ্তম ও শেষ পর্ব

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ ষষ্ঠ পর্ব

হৃষিকেশ শহরের ঠিক বাইরেই আছে রাজাজি ন্যাশনাল পার্ক, রাস্তা আর রেললাইন চলে গেছে তার মধ্যে দিয়েই। এই রাজাজি পার্কের শেষেই একটা ছোট্ট জনপদ, রায়ওয়ালা। হৃষিকেশে নন ভেজ পাওয়া যায় না, হরিদ্বারেও নয়, তাই দলে দলে নন ভেজিটেরিয়ানরা এই রায়ওয়ালায় আসে, রাস্তার ধারে সারি সারি দোকান, মাংসের এবং মদ্যের। পেট পুরে মাছ মাংস সমেত ভাত খেলাম। একেবারে গলা অবধি। তার পরে এগোলাম হরিদ্বারের দিকে, হরিদ্বার ওখান থেকে আর মাত্র চোদ্দ কিলোমিটার। … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ ষষ্ঠ পর্ব

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ পঞ্চম পর্ব

জলের সন্ধানে যারা গেছিল, তারা ফিরে এল। ওপরে জল পাওয়া যায় নি, তাই এখানেই নিচের দিকে টেন্ট বসানো হবে। টিলার নিচে, যাতে হাওয়াটা আটকায়। আজকে দুটো টেন্ট খাটানো হল, একটা আমাদের জন্য, একটা প্রেম, বিজেন্দর, সন্তোষ এবং খচ্চরওলাদের জন্য, কারণ নিচের দিকে আর কোনও হাট নেই। সেই দ্বিতীয় টেন্টেরই এক্সটেনশনে পলিথিন টাঙিয়ে রান্নার জায়গা তৈরি হয়ে গেল। টেন্টের সামনে থেকেই শুরু হয়েছে বরফ। একজন সেখান থেকেই থালায় করে বরফ চেঁছে চেঁছে তুলে টিনের ড্রাম ভরতে লাগল, প্রেম আর বিজেন্দর কাঠকুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালিয়ে ফেলল, এই আগুনেই বরফ গলিয়ে জল হবে, সেই জলে চা হবে, রান্না হবে … … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ পঞ্চম পর্ব

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ চতুর্থ পর্ব

অসহায় হয়ে একবার সামনে এগিয়ে যাওয়া বুনান আর অর্পণদের দিকে, একবার পেছন দিকে ফিরলাম। নিচেই রায়থাল গ্রাম দেখা যাচ্ছে, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়, এত কাছে। কী করব? আট কিলোমিটার তো অনেক দূর – আমি এক কিলোমিটারও এগোই নি। নেমে যাবো রায়থালের দিকে? এতটা কাছে এসে দয়ারা বুগিয়াল দেখা হবে না? পারব না, সত্যিই? … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ চতুর্থ পর্ব

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ তৃতীয় পর্ব

দুর্ঘটনাটা ঘটল খাওয়া শেষ করে চলা শুরু হতেই। উনি দড়িটা আর কোমরে বাঁধেন নি, হাতে ধরেই চলছিলেন – সামনেই ছিল একটা তেরছা ক্রেভাস, বরফে ঢাকা ছিল, বাত্রার পা পড়ল সেখানে আর, নিমেষে ক্রেভাসের মধ্যে ঢুকে গেলেন মেজর বাত্রা। দুপুর তখন দুটো। … আমরা ভোররাতে জার্নি শুরু করি, যাতে দিনের আলো থাকতে থাকতে সামিট সেরে নিচে চলে আসা যায়। একবার অন্ধকার হয়ে গেলে এই সব রাস্তা আরও ডেঞ্জারাস হয়ে যায়। … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ তৃতীয় পর্ব

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ দ্বিতীয় পর্ব

ভয় পেয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। বাকিদের ডেকে তুললাম। অর্পণ ঘুম থেকে উঠেই হাত বাড়িয়ে মোবাইল নিল, এবং দিনের প্রথম স্টেটাস কল্‌ দেওয়া শুরু করে দিল। বাথরুমে ঢুকে দেখি সে বিচিত্র বাথরুম। কল দিয়ে জল পড়ে না, বেসিনে পড়ে, তবে গরম জল নেই, মানে গীজার কাজ করছে না। এত সকালে চান করার কোনও মানেই হয় না – তবে মুখ টুখ তো ধুতে হবে। প্রথমে রিসেপশনে দুবার ফোন করলাম, কেউ এল না, অগত্যা ঠাণ্ডা জলেই দাঁত মেজে মুখ ধুয়ে ফেললাম। এর পরে অর্পণ বাথরুমে ঢুকেই বেরিয়ে এল কলের মুখটা হাতে নিয়ে – সে নাকি জোর করে কলটা খুলতে গেছিল, জল তো পড়েই নি, মুখটা আলগা হয়ে খুলে চলে এসেছে, আর লাগছে না। … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ দ্বিতীয় পর্ব

তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ প্রথম পর্ব

জুটে যেতে একেবারেই আপত্তি ছিল না, পঁচিশে ডিসেম্বর থেকে পয়লা জানুয়ারি অফিসে মোটামুটি ছুটির মেজাজই থাকে, কিন্তু আমি কি পারব? এমনিতে আমি বেজায় কুঁড়ে টাইপের জনতা। বাইকে বা গাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা ড্রাইভ বা রাইড করতে আমার যদিও এতটুকুও ক্লান্তি আসে না, কিন্তু পায়ে হেঁটে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পেরনো কি আমার পক্ষে সম্ভব? আমার দম এমনিতেই কম, ছোট থেকে আমাকে বহু চেষ্টা করা হয়েছিল খেলাধূলোয় জুতে দেবার, কিন্তু অচিরেই ফুটবলের মাঠে আমি গোলকীপারের পোস্টটিই বেছে নিয়েছিলাম কারণ ওতে ছুটতে হত না। সাঁতার শিখেছি দীর্ঘ পাঁচ বছর, সাঁতারের সমস্ত কলাকৌশল আমি জানি – কিন্তু জীবনে কোনওদিন সাঁতার কম্পিটিশনে মেডেল পাই নি, প্রত্যেক বছরেই সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে পাতলা স্টিলের টিফিন বাক্সো নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। স্কুলে কলেজে কোনওদিন স্পোর্টসে নাম দিই নি, কোনওদিন একশো মিটারও দৌড়ই নি, ক্রমশ খেলাধূলো, স্পোর্টস জিনিসটাকেই আমি আমার জীবন থেকে বের করে দিয়েছি, খেলার চ্যানেল খুলি নি কোনওদিন, ইন্ডিয়ান টিমের ক্যাপ্টেনেরও নাম জানি না, সপ্তাহে এক দুদিন পায়ে হেঁটে বাজার যাই বটে, তবে সেটা ঐটুকুই – খুব বেশি হলে এক দু কিলোমিটার হন্টন। আমার পক্ষে কি সম্ভব? … More তালেগোলে হরিবোলে, দয়ারা বুগিয়ালেঃ প্রথম পর্ব